মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ মুহূর্তে শরতের স্নিগ্ধ রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের মতো নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে। তবে সেই আমেজ কতটা স্নিগ্ধ, সেটা বলা বোধ করি সত্যি দুরূহ। এবারো দুটি প্রধান দলের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ আর. বাইডেন (জো বাইডেন) এবং রিপাবলিকান পার্টি থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে এই দুই প্রার্থী নিজ নিজ দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রথমবারের মতো একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে সিনেটর কমলা দেবী হ্যারিস চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল আর. পেন্স। রাজনৈতিক বোদ্ধা ও বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি অসাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেই প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রত্যাশা রাখছি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার কোনো রাজনৈতিক পারিপার্শ্বিকতা ছিল না। তিনি ছিলেন একজন আপাদমস্তক আবাসন ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতি। ২০১৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে ট্রাম্পের চূড়ান্ত মনোনয়ন থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ব্যাপারগুলো কাকতালীয় মনে হয়েছিল। অনেকে সেই সময় ধরেই নিয়েছিলেন যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ নির্বাচনের এরূপ ফলাফলের ‘পোস্ট মর্টেম’-এর ব্যাখ্যা ছিল অনেকটা এ রকম—রাজনৈতিক বলয় কিংবা প্রথাগত রাজনীতিবিদদের প্রতি জনসাধারণ ভয়ংকররূপে বীতশ্রদ্ধ। ভোট পরিসংখ্যানে দেখা গেল নিম্নমধ্যম ও মধ্যম আয়ের ব্যবসায়ী জনগোষ্ঠী একচেটিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। এখানে একটি মজার ব্যাপার হলো, একজন প্রার্থীর জনপ্রিয় ভোট বেশি থাকা সত্ত্বেও যদি উপযুক্ত ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ ভোট না পেয়ে থাকেন তাহলে তিনি জয়লাভ করতে পারবেন না। সার্বিকভাবে এটি একটি নজিরবিহীন ব্যবস্থা এবং পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ রকম নির্বাচন ব্যবস্থা আছে বলে আমার জানা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন প্রতি চার বছর অন্তর হয়ে থাকে। কোনো একটি নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন হয় না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের দিনটি আকর্ষণপূর্ণ ও কৌতূহলোদ্দীপক। নির্বাচনের দিনটি হবে নভেম্বরের প্রথম সোমবারের ঠিক পরের মঙ্গলবারটি। সেই মোতাবেক প্রতিটি নির্বাচনের তারিখ ভিন্ন হয়।
২০১৬ সালের নির্বাচনে অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক না হলেও জনসাধারণ ওবামা প্রশাসনের আয়কর নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট ছিল না। বিশেষ করে বলা যেতে পারে, নিম্নমধ্যম ও মধ্যম আয়ের ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী সম্প্রদায়। এছাড়া পররাষ্ট্র বিষয়ে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে যুদ্ধে অংশ নেয়ার ফলে যে পরিমাণ বাজেট ও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছিল, সেই বিষয়গুলোই ২০১৬ সালের নির্বাচনে অধিক তাত্পর্যপূর্ণ গুরুত্ব পেয়েছিল। উপরন্তু, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প উল্লিখিত বিষয়গুলোর ব্যাপক সমালোচনা করেন। সেই আঙ্গিকে আমেরিকার নাগরিকরা মনে করেছিল যে এমন একজন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন, যিনি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবেন এবং কোনো প্রকার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বেন না। তার প্রতিফলন আমরা দেখেছি ২০১৬ নির্বাচনে।
গত ট্রাম্প প্রশাসনের শাসনামলে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলে দেখা যাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী ইশতেহারে যে বিষয়গুলো নিয়ে জোরগলায় প্রতিবাদ করেছেন এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি সেগুলো করেও দেখিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসকরণ। ব্যাপক হারে ব্যক্তিগত ও করপোরেট আয়কর ছাড়, যার লক্ষ্য ছিল ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। পুনরায় যুদ্ধে না জড়ানোর লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, ইরান, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে সৈন্য প্রত্যাহার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। মেক্সিকান সীমান্তে দেয়াল করা একটি স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত বিষয় সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন সেই কাজটাও শুরু করেছে। মোটাদাগে যে দুটি বিষয়ে আকাঙ্ক্ষিত সাফল্য অদ্যাবধি সুদূরপরাহত, তা হলো স্বাস্থ্য বীমা নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসী আইন সংস্কার। কিছুদিন আগে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার চুক্তি কিছুটা হলেও তাত্পর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের গত চার বছর লক্ষ করলে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধ একেবারেই সমর্থন করেন না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রায় প্রতিটি প্রশাসনের আমলেই যুদ্ধ ছিল একটি নিতান্ত নিশ্চিত বিষয়। আমেরিকান নাগরিকরা যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে একেবারেই উদাসীন। অর্থনীতি চাঙ্গা এবং সঠিক কর্মসংস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষ বেশি আগ্রহী। এখানে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন, যে কয়েকটি যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছে, তার ফলাফল খুব সুখপ্রদ নয়। দেখা গেছে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশটি একটি চরম অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হয়েছে এবং তার তীব্র নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর পড়েছে। বলা বাহুল্য, গত চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা ছিল এবং কর্মসংস্থান ছিল গত ২০ বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন। সুতরাং ট্রাম্প প্রশাসন মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে যুদ্ধ কোনো সময় ইতিবাচক সমাধান নয়। এ সত্ত্বেও বৈশ্বিক মহামারী কভিড-১৯ স্বল্পকালীন কিছুটা অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করেছে ঠিকই, কিন্তু সেটা খুব একটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে না আশা করা যায়।
আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট শিবির অর্থাৎ জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস অভিবাসন আইন সংস্করণ, স্বাস্থ্য বীমা জাতীয়করণ, পুলিশ আইন সংস্কার, মহামারী কভিড-১৯ টেকসইভাবে নিয়ন্ত্রণসহ ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত নানা আলোচিত ও সমালোচিত পদক্ষেপের পুনঃসংস্কার নিয়ে দীর্ঘ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গতানুগতিকভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়, মূলত অর্থনীতিকে বলয় করে যে মানদণ্ডগুলো বিদ্যমান, সেগুলোই নির্বাচনে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে এ দেশে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কিন্তু ট্রাম্প একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি কার্যত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন, যেগুলো মোটাদাগে বলা যায় আগেকার কোনো প্রেসিডেন্ট করেননি অথবা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি অনেকাংশে হ্রাসকরণ, জেরুজালেমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থাপন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে না জড়ানো এবং সম্প্রতি ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের মধ্যকার চুক্তি। এ সবকিছু ডেমোক্র্যাট পার্টি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে এবং তারা নির্বাচনে জয়ী হলে ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপগুলো কতটুকু কার্যকর থাকবে, সেটা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। অধিকন্তু, অনেক বিশ্লেষকের মতে, ডেমোক্র্যাট পার্টি বিজয়ী হলে নতুন করে করারোপ, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াসহ নানামুখী প্রতিকূলতার আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে যে নির্বাচনী অঙ্গীকার তারা করেছেন, নতুন করে করারোপ বিনা সেটা বাস্তবায়ন করা প্রায়োগিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য রয়েছে, যারা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। আমরা সেগুলোকে ‘সুইং স্টেট’ বলে জানি। এসব রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যাও নির্বাচনের জন্য তাত্পর্যপূর্ণ। নির্বাচনপূর্ব তিন মাস উভয় দলের প্রার্থীরা বিশেষ করে এই অঙ্গরাজ্যগুলোয় ব্যাপক প্রচারণা করেন। করোনা মহামারীর কারণে এবারের নির্বাচনটা অনেকটাই ভিন্ন। ভোটাররা দ্বিধাবিভক্ত। তারা কি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন, নাকি ডাক মারফত ভোট দেবেন, এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে একথা ঠিক যে ভোটাররা ভোটদানে ব্যাপক উৎসাহী এবং নিবেদিত। একটি পরিসংখ্যান থেকে ব্যাপারটি ধারণা করা যায়, ৫০ শতাংশ ভোটার মনে করছেন তারা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে আগ্রহী, আবার ৪৯ শতাংশ মনে করছেন তারা ব্যালটটি ডাক মারফত পাঠিয়ে দেবেন। সেই সূত্র ধরে মানে যেটা দাঁড়ায় তা হলো, ভোটাররা তাদের ভোট দিতে আগ্রহী এবং প্রস্তুত। যদিও ট্রাম্প জোরালোভাবে ডাক মারফত ব্যালটের কড়া সমালোচনা করছেন। এখানে মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ সমর্থক কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার পক্ষপাতী। অন্যদিকে বাইডেনের ৫৮ শতাংশ সমর্থক ডাক মারফত ভোট দিতে সম্মত। সম্প্রতি একটি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’ একটি জরিপে দেখিয়েছে যে বাইডেন শুধু যে সূচকটিতে এগিয়ে আছেন, সেটা হলো ‘তিনি (বাইডেন) ট্রাম্প নন।’ অর্থাৎ ৫৬ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণগত বহিঃপ্রকাশ তাদের বিব্রত করছে।
সাধারণত নির্বাচনে ‘ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর’ অর্থাৎ যিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছেন, তার দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে। ইতিহাস যাচাই করলে দেখা যায়, মারাত্মক ভয়ানক কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব না হলে প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করছে যে ২০২০ নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী ৭৪ শতাংশ মানুষ মনে করেছিল সেই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিকভাবে সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনটি ধীরে ধীরে অনেক কৌতূহল ও উন্মাদনার উদ্রেক করছে। তবে কথার ফাঁকে কথা থেকেই যায়। কভিড-১৯ মহামারীর দরুন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক প্রাণহানি হয়েছে, প্রায় দুই লাখ। এটি কিছুটা ট্রাম্প প্রশাসনকে বিব্রত ও ভাবিয়ে তুলেছে। সর্বোপরি এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি। এক কথায় বলা যেতে পারে করোনা মহামারী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনে পরাজয়ের একমাত্র উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে। তদুপরি যদি ট্রাম্প বিজয়ী হন তাহলে সেটা নিশ্চিতভাবেই হবে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
পরিশেষে একটি বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা করতে চাই। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যে পরিসংখ্যানগুলো দেখানো হয়ে থাকে, সেগুলো নিবন্ধিত ভোটারদের একাংশ এবং সেটার মাপকাঠি হচ্ছে বিভিন্ন মানদণ্ডের জনপ্রিয়তার সূচক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শুধু জনপ্রিয়তা দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। আগেও উল্লেখ করেছি, সেখানে ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ নামে একটি ব্যবস্থা আছে, যেটা পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অতীতের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনটি বিবেচ্য। হিলারি ক্লিনটন প্রায় সব নির্বাচনী সমীক্ষায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও নির্বাচিত হতে পারেননি। ভোটাররা তাদের ভোটদান করলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ‘ইলেক্টর’দের দ্বারা। তার মানে যেটা দাঁড়ায় সেটা হলো, মাঝখানে একটি নিয়ামক আছে, যারা ‘ইলেক্টর’ নামে পরিচিত। তারাই ঠিক করেন কে হবেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। সুতরাং অন্যান্য দেশের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের সরাসরি ভোটের প্রতিফলনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। জরিপে কার্যত শুধু একটা প্রবণতা লক্ষণীয়, কিন্তু সেটা সার্বিকভাবে প্রেসিডেন্ট কে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, সেটা নির্ণয় করে না। সেই আলোকে জরিপগুলো কতটা বাস্তবিক, নিয়ামক ও নির্ধারক, সেটা পর্যালোচনার বিষয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এ জরিপে দেখা গেছে বাইডেন ৭ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে। কিন্তু সেটা ইলেক্টোরাল কলেজ অর্জন করতে কতটা সহায়ক হবে, সেটা বুঝতে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এখানে আরো একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’-এর কোনো বণ্টন হয় না। অর্থাৎ যে প্রার্থী বিজয়ী হবেন, তিনি সব ইলেক্টোরাল কলেজ পেয়ে যাবেন। মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজের মধ্যে যিনি ২৭০টি জিতে নিতে পারবেন, তিনি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এ কারণে নির্বাচনে ২৭০ সংখ্যাটি ‘ম্যাজিক নাম্বার’ হিসেবে সুপরিচিত।
পৃথিবীর প্রায় সব রাষ্ট্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনকে খুব আগ্রহ ও কৌতূহলভরে পর্যবেক্ষণ করে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র, এটি মোটাদাগে পৃথিবীর অন্য দেশগুলো মনে করে। সেই মোতাবেক সবার এটুকু আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। কতদিন যুক্তরাষ্ট্র পরম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে সবকিছুর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা প্রতীক্ষা করছেন একটি নির্ভেজাল, পরিছন্ন নির্বাচন এবং তার সঙ্গে সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার রদবদল।
রেজওয়ান উর রহমান: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যানালিস্ট
ফ্লিটকোর টেকনোলজিস এলএলসি; আটলান্টা, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র










