পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যারা প্রথম পর্যায়ে লড়াই করার সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন তাদের মধ্যে কর্নেল শওকত (১৯৩৭-২০২০) অন্যতম। তদানীন্তন পাকিস্তানের একজন সেনা অফিসার (ক্যাপ্টেন) থাকা সত্ত্বেও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব বাংলার জনগণের মনে পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে অসন্তোষ দানা বেঁধে ওঠে। ক্ষমতাসীন সরকারের নির্যাতন উপেক্ষা করে জনগণ প্রথমে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানায় এবং পরবর্তী সময়ে সেটি স্বাধীনতার দাবিতে রূপান্তর হয়। শওকত আলী পশ্চিম পাকিস্তানি আধিপত্য থেকে পূর্ব বাংলাকে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। উপরন্তু, তিনি ছিলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২৬ নম্বর আসামি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে ‘মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ’ গড়ে তোলেন। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একজন সেনা কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী হিসেবে তার জীবনটাই ছিল প্রবল ঘাত-প্রতিঘাতে ভরা ও বর্ণাঢ্য।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি

আমরা জানি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল একটি মাইলফলক। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও তার নির্দেশে ছয় দফার বাণী দলীয় কর্মীদের মাধমে দেশের সর্বত্র প্রচারিত হয়। আইয়ুব শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৬৫ সালের ৬ ও ৭ জুন শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভায় গণআন্দোলনের মাধ্যমে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তদানীন্তন সরকার আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় অভিযোগ উত্থাপন করে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়, ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় অভিযুক্তরাসহ ভারতীয় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এ ষড়যন্ত্রের নীলনকশা প্রণয়নকারী। আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং এর তদন্ত চলছে। বস্তুত, আগরতলা মামলার প্রথম দিকে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণভাবে যুক্ত করা হলেও ১৮ জানুয়ারি ষড়যন্ত্র পরিচালনার অভিযোগ এনে তাকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও ভারতের সহযোগিতায় অভিযুক্ত সামরিক সদস্যরা সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটন হয়েছে। এ ষড়যন্ত্র মামলায় ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি মামলার আর্জিতে বলা হয়, ‘গ্রেফতারকৃত ১৮ জন কর্মকতা পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারকে উত্খাত করে রাষ্ট্র দখলের পরিকল্পনা করছেন।’ এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা করবেন।

শওকত আলী তার লিখিত সত্য মামলা আগরতলা গ্রন্থে তাকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসা সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে করাচির কাছে মালির ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত অর্ডিন্যান্স স্কুলে ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে তিনি যোগদান করেন। উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর যেকোনো রেজিমেন্ট বা কোরের কোনো স্কুলে ইনস্ট্রাক্টর পদটি ছিল মর্যাদাপূর্ণ। স্ত্রী-পুত্রসহ পারিবারিক জীবন সেখানে খুব ভালো কাটিয়েছিলেন। লন টেনিস, স্কোয়াস র্যাকেট, কন্ট্রাক্ট ব্রিজ ভালো খেলতেন। অর্ডিন্যান্স সেন্টার অফিসার্স মেসের তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় সদস্য। এরই মধ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তাদের তত্পরতা সম্পর্কে পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য পেয়ে যায়। ১৯৬৮ সালের ২ জানুয়ারি করাচি থেকে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকা দৈনিক ডনে এ সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় বলা হয়, ‘তাদের পরিকল্পনা ছিল একটি নির্দিষ্ট তারিখে রাতের কোনো একটি সময়ে বাঙালিরা সব ক্যান্টনমেন্টে একযোগে আক্রমণ পরিচালনা করবে। পশ্চিম পাকিস্তানিদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এবং তাদের বন্দি করে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করবে।’ এ বিদ্রোহের সঙ্গে ক্যাপ্টেন শওকত আলী জড়িত সন্দেহে ১৯৬৮ সালের ১০ জানুয়ারি মালি ক্যান্টনমেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে রাওয়ালপিন্ডি নিয়ে যাওয়া হয়। শওকত আলী পরিণতির কথা না ভেবে এ প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৮ সালের ১৮ জুন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে স্থাপিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শওকত আলীসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচারকার্য শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শওকত আলী ও অন্য ৩৪ জন অভিযুক্ত আসামি কারাদণ্ডিত হন। লক্ষণীয়, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তানের তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইউব খান মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন এবং ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১৩ মাস কারাভোগের পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন।

শওকত আলীর জীবনসংগ্রাম

১৯৬৯ সালে সেনাবাহিনী থেকে অন্যান্য সহকর্মীর সঙ্গে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। শুরু হয় শওকত আলীর নতুন সংগ্রামী জীবন। যশোর জেলার রাজঘাটে বর্তমান নওয়াপাড়ার কাছে কার্পেটিং জুট মিলে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৬৯ সালে। ১৯৭৬ সালে বার কাউন্সিল এবং ১৯৭৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মাদারীপুর মহাকুমার কমান্ডার নিয়োগপ্রাপ্ত হন। মাদারীপুর কলেজে মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। যারা অস্ত্র চালনায় পারদর্শী ছিলেন না, তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেন। নভেম্বরে মুজিবনগরে স্টাফ অফিসার হিসেবে যোগ দেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডাইরেক্টর অব অর্ডিন্যান্স সার্ভিসেস হিসেবে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ

২৬ আগস্ট ১৯৭৮ সালে শওকত আলী মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ গঠন করেন। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত এবং স্বাধীনতা সুসংহত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ঘোষণা করে ‘মুক্তিসংগ্রাম চলছে-চলবে’। একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর স্বভাবতই আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলমন্ত্র ছিল  ‘জয় বাংলা,’ যে শব্দ বাংলার মানুষের মনে নবজাগরণের সৃষ্টি ও অনুপ্রেরণায় আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করেছিল। হারিয়ে যাওয়া জয় বাংলা শব্দটি সবার মধ্যে পৌঁছে দিতে একে অন্যের সঙ্গে দেখা হলে এবং টেলিফোনে জয় বাংলা বলে সম্বোধন করা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন শওকত আলী। দেশপ্রেমিক, বুদ্ধিজীবী ও সমাজের অন্যরা মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সব উদ্যোগকে সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। উপরন্তু, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শিক ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমবেতভাবে কাজ শুরু করে। কর্নেল শওকত আলী প্রত্যাশা করতেন, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ সীমাবদ্ধতার গণ্ডি পেরিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে এগিয়ে যাবে। পথ যত দুর্গম হোক, শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে তারা বদ্ধপরিকর।

শওকত আলীসহ মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে (১৯৯৬-২০০১ সাল ব্যতীত) বিভিন্ন সরকারের শাসনামলে কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৮২ সালের ১০ মে শওকত আলীকে গ্রেফতার করা হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেয়া হয়। রেডিও বাংলাদেশ থেকে সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও উদ্ধৃতিতে দুটি পৃথক হত্যা ও অপহরণ মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একই খবর প্রকাশিত হয়। প্রকৃত ঘটনা ছিল, বিশেষ ক্ষমতা আইনে শওকত আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

১৯৭৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শওকত আলী জয়লাভ করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লিখিত নির্দেশে তার বিরুদ্ধে পরপর তিনটি হত্যা ও অপহরণ মামলা করা হয়। উল্লেখ্য, তিনটি মামলাতেই শওকত আলী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আগাম জামিন পান। তবে জামিন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ওইসব মামলায় শওকত আলীকে গ্রেফতার করা ছিল বেআইনি এবং আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিচারের পর ১৯৮২ সালের ১২ অক্টোবর আদালত মামলার অন্যান্য আসামিসহ শওকত আলীকে নির্দোষ বলে খালাস দেন।

১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর ১৫ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে সপ্তম, ২০০১ সালে  অষ্টম,  ২০০৮ সালে নবম ও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর ২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হলে শওকত আলী ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি শপথবাক্য পাঠ করান।

 শওকত আলী অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শিক ঐক্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে চেয়েছিলেন। একজন সামরিক কর্মকর্তা থেকে হয়ে ওঠেন একজন সফল রাজনীতিবিদ। শওকত আলী তার কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উদারতা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়ে গেছেন। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার যথেষ্ট অবদান থাকা সত্ত্বেও শওকত আলী যথাযথভাবে মূল্যায়িত হননি।

 

ড. মেসবাহ কামাল: অধ্যাপক ও সভাপতি

আন্তর্জাতিক জন-ইতিহাস ইনস্টিটিউট

ড. ফাতিমা তুজ জহুরা রহমান: সহকারী অধ্যাপক

মানববিদ্যা বিভাগ, প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়