সিলেটের মালঞ্চ
বুক সেন্টার
থেকে কয়েক
দিন আগে
সুখের
অসুখ বইটি সংগ্রহ
করেছিলাম। নানা
ব্যস্ততার মাঝেও
এরই মধ্যে
পুরো বইটি পড়া শেষ
করেছি। অনেক
দিন পর হৃদয়কে স্পর্শ
করার মতো
একটা বই
পড়লাম।
বইটি
শাহজালাল বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায়
প্রশাসন বিভাগের
স্বনামধন্য শিক্ষক
অধ্যাপক ড.
মো. আব্দুল
হামিদ স্যারের
লেখা। এক
কথায় অসাধারণ
একটি বই
বলে আমার
মনে হয়েছে।
পড়া শুরু
করার পরে
যখনই অবসর
পেয়েছি, বইটির
প্রতি এক
ধরনের টান
অনুভব করেছি।
কষ্ট করে
বা ধাক্কা
দিয়ে সামনে
অগ্রসর হতে
হয়নি; বরং
বইটি আমাকে
শেষ পর্যন্ত
টেনে
নিয়ে গেছে।
এটা লেখকের
বিশেষ মুনশিয়ানার
কারণেই সম্ভব
হয়েছে বলে
আমার বিশ্বাস।
সুখের
সন্ধানে আমরা
কত চেষ্টাই
না করি।
সুখের পাগলা
ঘোড়ার পেছনে
আমরা নিরন্তর
ছুটে চলছি।
একটু সুখের
আশায় আমাদের
জীবনকে প্রয়োজনীয়
বিশ্রাম দিতেও
ভুলে যাচ্ছি।
অবিরাম কাজ
করছি আর
ভাবছি এর
পরেই বুঝি
সুখ আসবে।
কিন্তু হায়,
সেই ক্ষণ
আর আসে
না!
‘সুখ’
সব মানুষের
কাছেই বহুল
প্রত্যাশিত ও
আকাঙ্ক্ষিত বস্তু।
বুদ্ধি হওয়ার
পর থেকে
একটার পর
একটা প্রত্যাশা
আমাদের তাড়িত
করে। সেগুলোর
একটা পূরণের
সঙ্গে সঙ্গেই
আরেকটা এসে
হাজির হয়।
এভাবেই একের
পর এক
প্রত্যাশা পূরণে
মরিয়া হয়ে
ছুটছি সবাই।
অনেক সময়
এ ছুটে
চলার মধ্যেই
যে ‘অসুখ’-এর
বীজ বপন
করা থাকে,
তা আমরা
খেয়ালই করি
না।
আজকাল জীবনের সব ক্ষেত্রে সফলতা লাভের দুর্নিবার এক আকাঙ্ক্ষা আমাদের গিলে খাচ্ছে। কিন্তু একজন মানুষের পক্ষে সব ক্ষেত্রে সফল হওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া সাফল্য এলেই যে সুখ পাখিটা হাতে ধরা দেবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবুও আমরা সবাই মরীচীকার পেছনে ছুটে চলেছি। প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলে হতাশায় ভুগতে থাকি। শুধু আমার পরিবারের লোকেরা সফল হবে—এমন এক সর্বগ্রাসী মানসিকতা ক্রমেই গ্রাস করছে। সবাইকে প্রতিপক্ষ ভেবে নিজেকে জেতাতে তৎপর থাকছি।
এমন
করতে গিয়ে
অনেকেই একসময়
কিন্তু সুখটাকেই
গলা টিপে
হত্যা করছি।
আমাদের জীবনসায়াহ্নে
এসে নানা
উপলব্ধি হয়।
কিন্তু তখন
খুব একটা
কিছু করার
থাকে না।
যাদের জন্য
এতটা খাটুনি,
মাঝেমধ্যে তাদের
স্বার্থপরতা আমাদের
বিস্ময়ে বিমূঢ়
করে। খালি
হাতে এসেছি
আবার খালি
হাতেই মায়াময়
এ পৃথিবী
ছেড়ে চলে
যেতে হবে।
তবুও আমাদের
হুঁশ হয়
না। অথচ
দৃষ্টিভঙ্গির একটুখানি
পরিবর্তন আনতে
পারলেই সবাইকে
নিয়ে সুখী
হওয়া সম্ভব।
এ
কথাগুলো আমরা
কম বেশি
সবাই জানি।
কিন্তু লেখকের
অসংখ্য উপমা,
মজার তথ্য,
আবেগমাখা ব্যাখ্যা
সত্যিই ভিন্নভাবে
বিষয়গুলোকে উপলব্ধি
করতে সাহায্য
করেছে। অনেক
ক্ষেত্রে মনে
হয়েছে তিনি
বুঝি আমাদের
জীবনকে সামনে
রেখে বর্ণনাগুলো
লিখেছেন। তার
সরস, সাবলীল
কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ
লেখার ধরন
আমরা বণিক বার্তার নিবন্ধে
নিয়মিত দেখি।
তার পরও
এ বইয়ের
উপস্থাপনা আমার
কাছে বিশেষ
বলে মনে
হয়েছে।
পুরো
বইয়ের সারকথা
হলো, প্রত্যাশার
লাগামটা টেনে
ধরা জরুরি।
অনেক কিছু
(ধন-সম্পদ,
ডিগ্রি, পদ-পদবি
ইত্যাদি) অর্জন
করলেই যে
আমরা সুখী
হব, তার
নিশ্চয়তা কেউ
দিতে পারে
না। কারণ
সুখ কোনো
দোকানে কিনতে
পাওয়া যায়
না! ফলে
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
করতে হবে।
বর্তমানে যা
আছে, তার
মধ্যে সুখের
উপকরণ খুঁজে
বের করতে
হবে। সুখী
মানুষের জামা
না থাকার
গল্পটি তিনি
দারুণভাবে দৃশ্যপটে
হাজির করেছেন।
তাছাড়া
সবসময় আমাদের
চেয়ে উচ্চবিত্তদের
পানে না
চেয়ে বরং
নিচের দিকে
থাকা মানুষগুলোর
দিকে তাকানো
শিখতে হবে।
তাহলে নিজেকে
অনেক ভাগ্যবান
বলে মনে
হবে। সৃষ্টিকর্তাকে
কৃতজ্ঞতা জানানোর
উপলক্ষের অভাব
হবে না।
সমাজে অসংখ্য
পরিবার নানা
প্রাচুর্যের মাঝে
থেকেও সুখে
নেই। আবার
সামান্য আয়-রোজগার
দিয়েও অনেকে
পরিবার-পরিজন
নিয়ে সুখে
দিন কাটায়।
অন্যের সঙ্গে
নিজেকে তুলনা
না করতে
শিখলে সন্তুষ্টি
ও আত্মতৃপ্তি
অর্জন সহজ
হয়।
বাস্তব
জীবনের অসংখ্য
ঘটনা খুবই
প্রাঞ্জল ভাষায়
বইটিতে উপস্থাপন
করা হয়েছে।
সুখ খুঁজতে
গিয়ে যে
নিজের অজান্তেই
আমরা অসুখকে
আমন্ত্রণ জানাচ্ছি
তা চোখে
আঙুল দিয়ে
দেখিয়েছেন। সেক্ষেত্রে
করণীয় বিষয়ে
দিয়েছেন বাস্তবসম্মত
নির্দেশনা ও
পরামর্শ। দৈনন্দিন
জীবনের ঘটনাগুলো
চমত্কার ও
আকর্ষণীয়ভাবে লেখক
ফুটিয়ে তুলেছেন।
বইটি পড়লে
পাঠক নানাভাবে
উপকৃত হবেন।
আসুন,
শুধু নিজের
সুখ খোঁজার
অসুখ থেকে
বের হয়ে
পরিবার, সমাজ,
রাষ্ট্র ও
সর্বোপরি বিশ্বকে
শান্তির বাগানে
পরিণত করি।
সবাইকে বইটি
সংগ্রহ করে
পড়ার আমন্ত্রণ
জানাই। এমন
সময়োপযোগী বই
লেখার জন্য
আব্দুল হামিদ
স্যারকে জানাই
অসংখ্য ধন্যবাদ
ও কৃতজ্ঞতা।
একই সঙ্গে
প্রকাশক সংস্থার
(আদর্শ প্রকাশনী)
প্রতি রইল
শুভকামনা!
মো. নোমান মিয়া: ডিজিএম, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড
বিভাগীয় কার্যালয়, সিলেট










