একজন বিখ্যাত দার্শনিকের চিরন্তন একটি উক্তি হলো ‘সেলফ হেল্প ইজ দ্য বেস্ট হেল্প’। হয়তো তিনি এর মাধ্যমেই জীবনে অমরত্ব সৃষ্টি করে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন। উক্তিটি অনস্বীকার্য সত্য হিসেবে বিশ্বখ্যাতি পেয়েছে।

সেলফ হেল্পের বাংলা তরজমা স্বাবলম্বন। স্বাবলম্বনের বিপরীত শব্দ অবলম্বন। স্বাবলম্বন ও অবলম্বন—এ দুটি শব্দের অর্থে তারতম্য রয়েছে। যেমন স্বাবলম্বন বলতে নিজের ওপর নির্ভরতা বা স্বনির্ভরতা এবং অবলম্বন বলতে অন্যের ওপর নির্ভরতা বা পরনির্ভরতা বোঝায়। শাব্দিক বিভাজনেই এ দুটির কর্মকাণ্ডে পার্থক্য প্রতীয়মান। যেমন স্বাবলম্বন অচলতা কমিয়ে সচলতা বাড়ায়। অন্যদিকে অবলম্বন বা পরনির্ভরতা অচলতা বাড়িয়ে সচলতা কমায়; যা মানুষের দেহ, মন ও জীবনকে পরাস্ততার অদৃশ্য চাপে ফেলে সংগোপনে নিষ্ক্রিয় করে অসহায়ত্ব বাড়িয়ে দেয়। অতএব, স্বাবলম্বনের বিরুদ্ধে কোনো উপমা খাড়া করে এর গুরুত্বকে কখনই খাটো করা যাবে না।   

দর্শনের দৃষ্টিতে সেলফ হেল্প বা স্বাবলম্বনকে স্বর্গীয় তত্ত্ব বলা যায়। এমন মন্তব্যের সপক্ষে বলতে হয়, সৃষ্টিকর্তা মানুষকে হাত-পা, চোখ, নাক, কানসহ একাধিক অঙ্গ দুটি করে দিলেও মুখ দিয়েছেন একটি। দেহকে সুস্থ রাখতে সব অঙ্গের নিয়ন্ত্রিত সঞ্চালন প্রয়োজন। অর্থাৎ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে নিজেদের কাজ নিজেদেরই করতে হবে। সেকালের রাজা-জমিদার ও ব্রিটিশ শাসকের মতো অন্য মানুষকে নিচু ভেবে তাদের ওপর হুকুম চালানো যাবে না। অন্যদিকে মানুষের ‘মুখ’ একটি। কারণ কম খেতে হবে এবং কম কথা বলতে হবে। যেহেতু অতিরিক্ত খাওয়া ও অধিক কথা বলা উভয়ই ক্ষতিকর, তাই মুখকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই অপেক্ষাকৃত ভালো থাকা যায়। সংক্ষেপে বলা যায়, সংযমী হয়ে অন্যের সাহায্য ছাড়া বেঁচে থাকার আরেক নামই স্বাবলম্বন বা সেলফ হেল্প।

সেলফ হেল্প নানাভাবে স্বাচ্ছন্দ্য দিয়ে থাকে। যেমন এটি মানুষের পছন্দ ও চাহিদামতো কাজের সর্বোচ্চ উৎপাদন বা আউটপুট উপহার দিয়ে অনাবিল তৃপ্তি দিতে পারে। এতে অন্যকে দিয়ে কাজ করানোর বিড়ম্বনা ছাড়াও নিজের দেহ, মন, সময়, অর্থ ইত্যাদির ক্ষতি এড়ানো যায়।

মানুষের জীবন একটি এবং এই একটি মাত্র জীবনের প্রতিটি কাজে সেলফ হেল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সেলফ হেল্পের আদর্শকে ব্যাংকিংয়ের করিডোরে এনে তা দিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করা সর্বোত্তম পন্থা হতে পারে।

যাহোক, ব্যাংককে একটি সেবামূলক তথা ব্যবসায়ী উভয় প্রকার প্রতিষ্ঠান বলা যায়। কারণ এটি একমাত্র সেবামূলক হলে তা প্রকৃতির অংশ হিসেবে ফ্রি সার্ভিস দিত। যেমন সৌরজগৎ, গাছপালা, নদীনালা, পাহাড়-পর্বত, আলো-বাতাস ইত্যাদি কোনো অবলম্বন ছাড়াই সৃষ্টিকর্তার অমোঘ বিধানে আপন আপন কক্ষপথে অবিরাম চলে বিনা মূল্যে সার্ভিস দিয়ে থাকে। কিন্তু ব্যাংক চলে এক ও অভিন্ন সৃষ্টিকর্তার সর্বোত্কৃষ্ট সৃষ্টি মানুষের তৈরি কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মকানুনের আওতায় দলগত শক্তির সংঘবদ্ধ তত্ত্বাবধানে। এখানে বলতেই হয়, ব্যাংকের সার্ভিস প্রকৃতির মতো বিনা মূল্যের নয়। তবে সহযোগিতার প্রশ্নে সৌর ও পৌর উভয় পরিবেশে শৃঙ্খলার গুরুত্ব, প্রভাব ও প্রয়োজন তথা আয়োজন অপরিসীম। মূলত শৃঙ্খলাবদ্ধতার কারণেই প্রকৃতি নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু মানুষ জন্মগতভাবে স্বার্থপর বিধায় তাদের উচ্ছৃঙ্খলতা কখনো কখনো নিয়ম ভেঙে সুবিধা নেয়।

আসলে শৃঙ্খলাবদ্ধতার কারণে প্রকৃতি নিঃস্বার্থ হয়ে বিবাদ এড়িয়ে সমঝোতা করে চলতে পারে বলে তা পরোপকারে আসতে পারে। অন্যদিকে মানুষের ব্যক্তিস্বার্থ জাগতিক কর্মকাণ্ডের বলয়ে বাধা সৃষ্টি করে বলেই সংঘাত সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজে অস্থিরতা বাড়ে। সে কারণেই মানুষ ভালো কাজে নিরাপদে এগোতে পারে না। অবশ্য অনুন্নত দেশে স্বার্থপর কর্মকাণ্ড অপেক্ষাকৃত বেশি হয় বলে এমনটি হয়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের শিক্ষা, সংস্কৃতি উঁচু মানের বলে সেখানকার মানুষ কিছুটা নিঃস্বার্থ হয়ে খারাপ কাজ তুলনামূলক কম করে। অবশ্য আইন-শৃঙ্খলার কঠোরতার কারণেই বিদেশে মানুষ সোজা পথে চলতে বাধ্য হয়। ফলে তারা ভালো থাকে। পক্ষান্তরে আমাদের মতো অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতির কারণে সমাজে অস্থিরতা বাড়ে। তাই তা দমাতে এবং কমাতে তথা সুশাসনের সাহায্যে ভালো কাজের অনুপাত বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু আইনের যথাযথ পরিপালন দুঃখজনকভাবে কম হয়। ফলে খারাপ কাজ না কমে বাড়ে। তাই আমাদের দেশে বলবৎ আইনের কঠোর প্রয়োগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হওয়া বাঞ্ছনীয়। 

ব্যাংকিং কেমন চলছে জানতে চাইলে দেশের মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকের লোকজন অবশ্যই উত্ফুল্ল হয়ে বলবে, খুব ভালো চলছে। কারণ তাদের ব্যাংক মুনাফা করেছে। নিজ ব্যাংকের কার্যক্রম গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করেই হয়তো তারা এমন অর্বাচীন মতামত দিয়ে থাকে। আসলে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের নিজস্ব কোনো টাকা থাকে না। গ্রাহকের আমানত দিয়েই তারা ব্যাংক চালায়। অর্থাৎ অধিকাংশ ব্যাংক তার পুঁজি বা আমানতের ১৮ শতাংশ বিধিবদ্ধ ‘এসএলআর’ হিসেবে সংরক্ষণ করে, তা বাদে অবশিষ্ট টাকা বিনিয়োগ করে বা ঋণ দিয়ে গড়ে তার ১-২ শতাংশের বেশি মুনাফা করতে পারে না। কারণ সেই ঋণের অধিকাংশ আদায় হয় না। অথচ গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা দিয়ে ব্যবসা করে সেই পুঁজির কমপক্ষে ২৫-৩০ শতাংশ মুনাফা করেন। কিন্তু ব্যাংক এত স্বল্প পরিমাণ মুনাফা করার পরও বিভিন্ন মিটিং, সেমিনারে নিজেদের সাফল্য অতিরঞ্জিত করে প্রচার করে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ফলে ব্যাংক ভালো চলছে বলে অনেক মানুষ নানাভাবে ভেবে বসে। যেমন এটি কর্মসংস্থান বাড়িয়ে বেকারত্ব কমায়। জনগণ নানা সেবা পায়। জনগণের কষ্টার্জিত প্রাণাধিক প্রিয় টাকা ব্যাংকের নিরাপদ হেফাজতে থেকে তা বৃদ্ধি পায়। দেশের অভাবী অথচ মেধাবী উদ্যোক্তারা শিল্পপতি হন। এছাড়া ব্যাংকের ‘সিএসআর’-এর সাহায্যে সমাজ নানাভাবে উপকৃত হয়। আবার ব্যাংকঋণের টাকায় দেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়ে তা জনগণের সার্বিক সুবিধা বাড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। বর্ণিত বিবিধ উন্নয়নের ফলে মানুষের মনে স্বস্তি বাড়ায় জনগণের গড় আয়ুষ্কাল বাড়ছে। নতুন কারখানার বাড়তি উৎপাদন আমদানি কমিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করছে। কিন্তু এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ ও খরচের হার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আনুপাতিক হচ্ছে না। সে কারণে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়ে তা অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। আসলে সব কর্মকাণ্ডের হিসাব সঠিকভাবে রাখতে পারলে অতি আবশ্যকীয় সরকারি তত্পরতা অধিক কার্যকর হতে পারে। কিন্তু তেমনটি হচ্ছে না। কারণ এ দেশের কিছু ভালো মানুষের নির্বোধ সরলতা আবার কিছু খারাপ মানুষের লোভী গরলতা তাদের সীমাহীন বেপরোয়া বানায়। ফলে তারা কাজে ফাঁকি দিয়ে, কাজ কম করে, একেবারেই কাজ না করে বা মন্দ কাজ করে এবং পরচর্চা করে মনের অজান্তে নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা করে চলে। সে কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান সিস্টেম লসে পড়ে মার খায়। এতে প্রতিষ্ঠানের অচলতা বেড়ে তা দেশের ঊর্ধ্বমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে পিছু টানে। এটি আমাদের জন্য নিদারুণ দুর্ভাগ্যের বিষয়। 

ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সরদার হিসেবে কাজ করলেও তাদের অগোচরেই হয়তো ব্যাংকিং অঙ্গনে অনেক অনাচার হয়, যার ফসল দুঃসাহসী কতিপয় অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা ও মালিক ভোগ করেন। অথচ তার খেসারত বাহ্যত সরকারকে দিতে হলেও জনগণই তার প্রকৃত ভুক্তভোগী হয়। নতুন করে আইন প্রণয়ন করলেও তা ব্যাংকিংয়ের ঊর্ধ্বগামী অনিয়ম, দুর্নীতি ঠেকাতে পারে না। এছাড়া ব্যাংকের সনাতন পরিদর্শন ডিপার্টমেন্টের পরিসর দিন দিন বাড়লেও তাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাত্রা কমে না। যদিও ব্যাংকের উন্নতিকল্পে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত নামাবলি-পরিভাষার নতুন নতুন ব্যাংকিং পদ্ধতি দেশী ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে অহরহ সংযোজন হয়ে চলেছে। তার পরও প্রত্যাশিত সুফল আসছে না। দেশী ব্যাংকিংয়ের সহযোগী হিসেবে বিআইবিএম, আইবিবি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ব্যয়বহুল অবিরাম গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনারে  ব্যাংকিয়ের দোষ-ত্রুটি ও ক্ষতির খতিয়ান তেমন করে তুলে ধরা হয় না। পক্ষান্তরে সবকিছু ভালো চলছে বলে সেসব প্রতিষ্ঠানের মিটিংয়ে ফলাও করে বলা হয়। ফলে ব্যাংকগুলো ফাঁপা বাহবার প্রশ্রয় পেয়ে থাকে। তবে দেশের সুশীল সমাজ ও মিডিয়ার সূক্ষ্ম সমালোচনায় ব্যাংকের প্রকৃত দোষ-ত্রুটি আশঙ্কিত মাত্রায় সামনে এলেও তার ওপর যথাযথ কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো শক্ত প্রতিরোধক হস্তক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা কাটছে না। কিছু কপট তথা স্বার্থপর মানুষের গুপ্ত কূটকৌশল হয়তো সরকারের সঠিক চলার পথ ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এ কারণেই হয়তো অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ব্যাংকারদের বেতন সুবিধা নিয়ন্ত্রকদের বেতনের ঊর্ধ্বে করা হয়েছে। এ সুবিধা জাতীয় পে-স্কেলের ঊর্ধ্বে করা হলেও তাতে কোনো পরিপূরক ফল আসছে না। অথচ এমন উদ্যোগ উন্নত বিশ্বে সফলভাবে কাজ করে। অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের নীতিমালা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণের কাজ অব্যাংকার কর্তৃপক্ষের হাতে পড়ায় এমন টেকনিক্যাল কাজে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় সংগত কারণে ঘাটতি থাকে। সে কারণে তারা ব্যাংকিংয়ের ত্রুটি-বিচ্যুতি সঠিকভাবে তুলে ধরতে এবং তা সারাতে সক্ষম হন না। ব্যাংকিং খাতের জবাবদিহিতা দুর্বল হওয়ার কারণে অনেক ব্যাংকার অনায়াসে দায়িত্ব এড়িয়ে পার পেয়ে যান। ভালো ব্যাংকাররা সংঘবদ্ধ হয়ে সাহস করে সঠিক ব্যাংকিং করতে পারলে ব্যাংকিংয়ের দুরবস্থা কাটতে বাধ্য। 

প্রসঙ্গত বলতে হয়, ব্যাংক মালিক সংগঠন ‘বিএবি’র প্রবল দাবি সত্ত্বেও নিকট অতীতে ‘সিঙ্গেল ডিজিট’ সুদহার সব ব্যাংকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কার্যকর হয়নি। তবে সরকার অনমনীয় থাকলে তাদের সাম্প্রতিককালে ঘোষিত  ৯:৬  সুদহার (মাফ করবেন উল্টোপাল্টা নয়) বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই কার্যকর হতে পারে।

এ ব্যাপারে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যেমন অনেক ব্যাংকার হয়তো ভাবছেন ৯:৬ সুদহার ২০২০ সালে ব্যাংকিং খাতের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। ফলে অনেক কর্মী ছাঁটাই হবে। এ কারণে ব্যাংককে হয়তো অনেক বড় ধাক্কার মুখে পড়তে হবে। 

পক্ষান্তরে অনেকের মতে, হ্রাসকৃত সুদের হার অযৌক্তিক নয়। কারণ উন্নত বিশ্বের কোথাও ব্যাংকের সুদহার বাংলাদেশের মতো এত বেশি নেই। তার পরও তাদের ইকোনমি সংকটে পড়ে না। অবশ্য এ ব্যাপারে একটি সরল সমীকরণ ইঙ্গিত দেয় যে হ্রাসকৃত সুদহার ব্যাংকিংয়ের স্প্রেডকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনবে। ফলে আয় কমলেও টিকে থাকার জন্য ব্যাংকের দায়দায়িত্ব বাড়বে এবং জবাবদিহিতা অবশ্যই জোরদার হবে। নিরপেক্ষ ‘পারফরম্যান্স ইভালুয়েশন’ অবধারিতভাবে কার্যকর হবে। ফলে কাজ ছেড়ে গায়ে বাতাস লাগিয়ে চলা বন্ধ হবে। দুর্নীতির বিচার কঠোর হবে। চুরির মাল সর্বাগ্রে উদ্ধার করার সনাতন প্রথা চালু হবে। কারণ তাতে চোর দুর্বল হবে। এমন সব ভালো কাজে পুরস্কার এবং মন্দ কাজে তিরস্কারের নিরপেক্ষ ব্যবস্থাও কার্যকর হবে। জবাবদিহিতার কারণে ব্যাংকের প্রধান আয়ের পথ ঋণ দেয়া এবং তার আদায় জোরদার হবে। অর্থাৎ ঋণের প্রি-স্যাঙ্কশন ও পোস্টস্যাঙ্কশন পর্যায়ের অবশ্য করণীয় কার্যক্রম আর উপক্ষিত থাকবে না।    

বর্ণিত বিষয়গুলো বোধোদয়ে আসার কারণেই হয়তো আইন প্রয়োগের কঠোরতার দিকে সরকারের নজর বেড়েছে।

আসলে ব্যাংকিংয়ের মতো টেকনিক্যাল বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ছাড়াই আজকাল যে কেউ এর ওপর অবাধে মনগড়া মতামত দিয়ে মিডিয়া-ফেসবুকের সাহায্যে তা ভাইরাল করে দেয়ায় সমাজে অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এটা ঠিক যে অপরিণামদর্শী ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজে দুর্নীতি বাড়াতে পারে। ফলে যারা দুর্নীতি করে আখের গুছিয়ে ভালো আছে বা ভবিষ্যতে ভালো থাকবে বলে ভাবছে, তাদের অবস্থান অচিরে ভেঙে পড়বে। কারণ ব্যাংকিং খাতের জন্য ভালো করার সরকারি টার্গেট এরই মধ্যে একাধিক কঠোর অনুশাসন সামনে এনেছে। যেমন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের সহায়তায় আর কোনো সরকারি ফান্ড বা সাপোর্ট দেয়া হবে না। আবার দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণের আইনি ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এছাড়া ‘রিট’-এর সাহায্যে অর্থঋণ মামলা স্থগিতকরণের সক্রিয় প্রতিরোধ ব্যবস্থাও আগতপ্রায়। বর্ণিত সব অনুশাসন নিঃসন্দেহে ব্যাংকিং সেক্টরের ভালোর জন্য করা হচ্ছে বলে এর অনুকূলে জনসমর্থন বাড়ছে। ফলে ভেতরে ভেতরে ভালো ব্যাংকারদের চাকরির নিরাপত্তাসহ তাদের কাজ করার উৎসাহ বাড়াচ্ছে। তাই এখন ন্যায্য কাজে সরকারের কঠোরতা কাজ করবে বলে নিঃসন্দেহে ধরে নেয়া যায়। (চলবে)

 

রবিউল হোসেন: সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক

সোনালী ব্যাংক