কভিড ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা ভাব এখন স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারছে সব দেশ। সবাই সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ববাজারে সংকট ও সরবরাহ চেইনশৃঙ্খলার ফাটল এবং স্ট্যাগফ্লেশনের। স্ট্যাগফ্লেশন হলো যখন দাম বেড়েই চলেছে কিন্তু সেভাবে প্রবৃদ্ধি ঘটছে না (প্রবৃদ্ধি আটকে থাকে বা স্থবির থাকে বা কমে যায়)। এ অবস্থায় প্রবৃদ্ধি না হলে কর্মসংস্থানও ঘটে না, ফলে বেকারত্বও বাড়তে থাকে। মূলত এ রকম অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে স্ট্যাগফ্লেশন বলে। একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ সত্তরের দশকে ঘটে যাওয়া অর্থনৈতিক অসুস্থতার জন্য শব্দটি তৈরি করেছিলেন এবং যে শব্দ আজ কভিড মহামারী ও ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে বিশ্বে প্রত্যাবর্তনের হুমকি দিচ্ছে বা অশনিসংকেত হিসেবে দেশে দেশে দরজায় কড়া নাড়ছে। এ সমস্যা মোকাবেলা করা উদারবাদী অর্থনীতি নিজেদের অবস্থান নিয়ে পুনরায় চিন্তা করে রক্ষণশীলতায় ফিরে আসছে। আসলে রক্ষণশীলতার মূলভাব হলো ‘‌This is the policy of playing safe’। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অর্থনীতির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকি সবসময় থাকে। ফলে আকস্মিক ক্ষতির আবির্ভাব হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। এ ধরনের আকস্মিক ক্ষতি বেশি হলে বেশি বিপদ দেখা দিতে পারে। তাই ঝুঁকি পরিহারের লক্ষ্যে রক্ষণশীলতার পথ অনুসরণ করাই নিরাপদ। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে সবার জন্য বাজার আজ উন্মুক্ত, তবে এ মুক্তবাজার অর্থনীতির যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। আশির দশকে উদারবাদের উত্থানের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্যের পক্ষে বৈশ্বিক জনমত তৈরি হতে শুরু করে। তবে মুক্ত বাজারের ধারক, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানির মতো দেশগুলো তুলনামূলকভাবে মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে গেলেও চীন, ভারতের মতো উঠতি অর্থনৈতিক পরাশক্তিরা বিভিন্নভাবে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদের (ইকোনমিক প্রটেকশনিজম) নীতি অবলম্বন করেছে। একই পথ অবলম্বন করেছে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোও। আজ বাণিজ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশই একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। শুধু আমদানিনির্ভরতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনৈতিক অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। মূলত মুক্তবাজার অর্থনীতির ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক দিকগুলো থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষার যে প্রয়াস বা চেষ্টা সেটিকেই বলা হয় মূলত সংরক্ষণবাদ। এ সংরক্ষণবাদ বিষয়টি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে খুবই জরুরি এবং বর্তমানে প্রাসঙ্গিক বিষয় বটে। এটি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। উদারবাদী মুক্তবাজার অর্থনীতির বিপরীতে সংরক্ষণবাদের অবস্থান নেয়ার পেছনে বেশ যুক্তি রয়েছে। আসুন, এক এক করে সেই যুক্তিগুলো দেখি। 

নব্য শিল্পের যুক্তি (The Infant Industry Argument) একটি দেশের উদীয়মান শিল্পগুলোকে ‘‌Infant Industry’ বলা হয়। ধরা যাক, বাংলাদেশের একটি উদীয়মান শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান একই পণ্য উৎপাদন করে। বাংলাদেশের এ উদীয়মান শিল্প-কারখানার উৎপাদিত পণ্যের মান যুক্তরাষ্ট্রের অতি উন্নত এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের মানের তুলনায় একটু নিম্নমানের হওয়াটাই স্বাভাবিক। এখন আমরা যদি মানের দিক থেকে বিবেচনায় বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রবেশাধিকার দিয়ে দিই, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশী পণ্য ক্রয় করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। তখন আমাদের দেশের যে উদীয়মান শিল্পগুলো ছিল সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে বন্ধ হয়ে যাবে। এ ধরনের বাজার প্রতিযোগিতা যেমন অন্যায্য, তেমন নব্য শিল্পের জন্য হুমকিস্বরূপ। তখন আমাদের দেশীয় শিল্পগুলো প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বিস্তার লাভ করতে পারবে না। একটি সময় পর দেশীয় শিল্পগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বাংলাদেশের বিশালসংখ্যক জনগণ তাদের কর্মসংস্থান থেকেও বঞ্চিত হবে। তাই বাংলাদেশ সরকার যদি নিজ দেশের এ উদীয়মান শিল্পগুলোকে রক্ষা করতে চায় আর বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রবেশাধিকার সীমিত করে তখন সেটিকে বলা হয় প্রটেকশনিজম বা সংরক্ষণবাদ। যেমনটা আমাদের ওষুধ শিল্পে আমাদের দেশ করে থাকে। 

এরপর যুক্তিতে আসা যাক, ডাম্পিং ও অ্যান্টি-ডাম্পিংয়ের যুক্তি। সমসাময়িক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডাম্পিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। যেমন বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ই পেঁয়াজ উৎপাদন করতে সক্ষম। এখন মুক্তবাজার অর্থনীতির ফর্মুলা অনুযায়ী মিয়ানমার তার পেঁয়াজ বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করতে পারবে এবং বাংলাদেশও তার পেঁয়াজ মিয়ানমারের বাজারে বিক্রি করতে পারবে। ধরুন, বাংলাদেশের প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদন করতে যদি খরচ হয় ৩০ টাকা এবং বাজারে তা বিক্রি করা হয় ৪০ টাকায়। ঠিক অন্যদিকে মিয়ানমারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয় ৪০ টাকা এবং মিয়ানমারের বাজারে সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৫০ টাকা করে। তো এখন যদি মিয়ানমার বাংলাদেশের বাজার দখলের উদ্দেশ্যে তার উৎপাদিত পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি শুরু করে, তখন বাংলাদেশের মানুষ দেখবে একই পণ্য মিয়ানমার কম টাকায় দিচ্ছে। ফলাফলস্বরূপ মানুষ মিয়ানমারের পেঁয়াজ ক্রয় শুরু করবে। আর তখনই বাংলাদেশী পেঁয়াজ বাজার হারাতে বাধ্য হবে। এর মাধ্যমে মিয়ানমার বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারটি দখল করে নেবে। একটি সময় পর বাংলাদেশের পেঁয়াজ বাজার থেকে বের হয়ে গেলে মানুষ মিয়ানমারের পেঁয়াজের ওপর অধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এ নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার তার পেঁয়াজের দাম ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তার আগের ক্ষতিপূরণ আদায় করে নেবে এবং বাংলাদেশের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বা মনোপলির মাধ্যমে অধিক মুনাফা অর্জন করবে। এই যে মিয়ানমার তার দেশে ৪০ টাকা খরচে উৎপাদিত পণ্যটি ১০ টাকা লোকসান দিয়ে বাংলাদেশের বাজারে ৩০ টাকা করে বিক্রির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারটি দখল করল—এটিকেই ডাম্পিং বলা হয়। এ ডাম্পিংকে আবার ‘Below-Cost Pricing’-ও বলা হয়। কেউ আবার একে অন্যায্য প্রতিযোগিতা বা শিকারি দাম নির্ধারণ বলে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার যদি মিয়ানমারের এই ডাম্পিং বা অসম প্রতিযোগিতাকে বন্ধ করতে কোনো পলিসি বা নীতি গ্রহণ করে তখন সেটিকে অ্যান্টি-ডাম্পিং নীতি বলা হয়। এভাবে অ্যান্টি-ডাম্পিং নীতি তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের পেঁয়াজ শিল্পকে রক্ষা করাই সংরক্ষণবাদের একটি উদাহরণ। 

ব্যালান্স অব পেমেন্ট অর্থাৎ বিনিময়ে ভারসাম্য রাখা। মূলত ব্যালান্স অব পেমেন্ট হচ্ছে একটি দেশের সঙ্গে বিশ্বের অপরাপর দেশগুলোর মধ্যে সংঘটিত আর্থিক লেনদেনের হিসাবরক্ষণ। পণ্য ও সেবা আমদানি-রফতানির বিপরীতে পরিশোধিত অর্থ, আর্থিক মূলধন এবং তহবিল স্থানান্তর এ হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বিনিময় ভারসাম্য হিসাবগুলো কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট সময়ের, সাধারণত এক বছরের, আন্তর্জাতিক লেনদেনের সারসংক্ষেপ এবং এটি একটি একক মুদ্রায়, সেই দেশের স্থানীয় মুদ্রায় প্রকাশ করা হয়। এক বছর সময়ের মধ্যে একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার যে বিনিময় হয় তার (দুতরফা দাখিলাভিত্তিক এক বিশেষ হিসাব) বিবরণী হলো ব্যালান্স অব পেমেন্টস। বৈদেশিক লেনদেনগুলোকে মোটাদাগে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা ১) আয়-ব্যয় সংক্রান্ত লেনদেন ২) সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত লেনদেন। একটি রাষ্ট্র তার দেশে উৎপাদিত পণ্য অন্য রাষ্ট্রে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। একইভাবে রাষ্ট্রে যেসব পণ্যের ঘাটতি রয়েছে সেসব পণ্য অন্য রাষ্ট্র থেকে আমদানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও খরচের মধ্যে যে পার্থক্য, সেটাই একটি দেশের বিনিময় ভারসাম্য। যখন একটি রাষ্ট্র বৈদেশিক মুদ্রা খরচের চেয়ে অর্জন বেশি করে তখন সেটি রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক ও কল্যাণকর। আর বৈদেশিক মুদ্রা খরচের চেয়ে অর্জন বেশি করাকেই অনুকূল বিনিময় ভারসাম্য বা ফেভারেবল ব্যালান্স পেমেন্ট বলা হয়। তবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের চেয়ে যদি খরচ বেশি হয় তাহলে সেটিকে প্রতিকূল বিনিময় ভারসাম্য বা আনফেভারেবল ব্যালান্স অব পেমেন্ট বলা হয়।

অন্য আরেকটি যুক্তি হচ্ছে ব্যালান্স অব ট্রেড বা বাণিজ্য ভারসাম্য। মূলত একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত মোট বাণিজ্যের মূল্যায়নে ‘‌বাণিজ্য ভারসাম্য’ পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়। তাই ব্যালান্স অব ট্রেড হচ্ছে কোনো দেশের অর্থনীতির একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট রফতানি ও মোট আমদানির আর্থিক মূল্যের পার্থক্য। একে নিট রফতানিও বলা হয়ে থাকে এবং অনেক সময় একে এনএক্স বর্ণ দুটি দিয়ে প্রকাশ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি দেশের আমদানি ও রফতানির মধ্যকার সম্পর্ক। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের কথাই ধরা যাক। একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি-রফতানি হয় এবং ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশে আমদানি ও রফতানি হয়—এ দুটির আর্থিক মূল্যের ব্যবধানকে বাণিজ্য ভারসাম্য বলে। এখন বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য ভারতে রফতানি করে, তারচেয়ে বেশি যদি ভারতীয় পণ্য আমদানি করে তখন সেটিকে বলা হয় বাণিজ্য ঘাটতি। বাণিজ্য ঘাটতি একটি রাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। তাই রাষ্ট্রের উচিত আমদানির বিকল্প পণ্য নিজ দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা। অন্যদিকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য ভারত থেকে আমদানি করে তারচেয়ে বেশি যদি ভারতে রফতানি করতে পারে তখন সেটিকে বলা হয় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত। এ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত একটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা। বাংলাদেশের অর্থনীতিও আজকে বিশ্বায়নের মাধ্যমে প্রভাবিত ও পরিচালিত। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশ পুরোপুরিভাবে মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করেছে। ফলে উদারীকরণ, কাঠামোগত সংস্কার, সরকারের আয়-ব্যয় সমন্বয় ইত্যাদি কর্মসূচি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তাই ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাজার অর্থনীতি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থনীতিতে এর কিছু ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া এরই মধ্যে কভিড অতিমারী প্রবাহ কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন সংকট দেখা দেয়েছে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে। যার ফলাফল হিসেবে জোগানস্বল্পতা থেকে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি ও মন্দা ভাব আরো ত্বরান্বিত হয়েছে। আমদানিনির্ভর উদারবাদী অর্থনীতির মুক্তবাজারের জন্য ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সব দেশকেই। এসবের মধ্যে কিছুটা হলেও ভারসাম্য আনতে পারে রক্ষণশীল সংরক্ষণবাদ নীতি। সে জন্যই এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে পণ্য রফতানি বাণিজ্য থেকে সংরক্ষণে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজরে জোগান সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চাহিদা মুদ্রাস্ফীতিসহ নানামুখী সংকট তৈরি করছে। এ অবস্থায় আমাদের মতো দেশেকে মিশ্র পথে ভারসাম্যের সঙ্গে এগোতে হবে, সম্পূর্ণ উদার বা পূর্ণ রক্ষণশীল নয়, আমাদের সর্বক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করে মিশ্র অর্থনীতির পন্থা অবলম্বন করা উচিত হবে। আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। শুধু দক্ষ মানবসম্পদ নয়, আমরা যাতে নিজেদের সম্পদ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ চাহিদার জোগান ঠিক রাখতে পারি সেদিকেও আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। যাতে আমাদের অর্থনীতি বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে সহজেই কাবু হয়ে না পড়ে, বিশ্বের অন্য দেশগুলো এখন তেমনি এক পন্থা অবলম্বন করছে।

মো. আবিদ মঈন খান: সাংবাদিক