ইদানীংকালে
কোমলমতি
শিক্ষার্থীরা
সড়ক
দুর্ঘটনার
বলি
হয়ে
ধীরে
ধীরে
যেন
ফুট
ওভারব্রিজে
পরিণত
হচ্ছে!
সহজ
করে
বললে,
বিভিন্ন
শিক্ষার্থীর
সড়ক
দুর্ঘটনায়
মৃত্যুর
পর
তাদের
নাম
দিয়ে
ফুট
ওভারব্রিজ
বানানোর
প্রতিশ্রুতিতেই
যেন
আটকে
থাকছে
এর
প্রতিকার।
সঙ্গে
সঙ্গে
শক্ত
আইন
বাস্তবায়নের
জন্য
অপেক্ষা
হচ্ছে
দীর্ঘ,
আর
সেই
আইনের
শক্ত
বিধানগুলো
আদৌ
শক্ত
থাকবে
কিনা
তা
নিয়েও
বাড়ছে
সংশয়।
এক
কথায়,
সড়কপথে
মানুষের
জীবন
যেমন
অনিরাপদ
হয়ে
আছে,
এর
আইনি
প্রতিকার
আর
বিজ্ঞানসম্মত
জরুরি
ব্যবস্থাপনাও
তেমনি
অনিশ্চয়তার
দোলাচলে
গেছে
আটকে।
আচ্ছা, সড়কপথের
দুর্ঘটনায়
মৃত্যু
হয়
আসলে
কাদের?
এ
প্রশ্নের
উত্তর
খুঁজলে
পাবেন,
দুর্ভাগা
যাত্রী
বা
পথচারীদের
অধিকাংশই
দরিদ্র
আর
মধ্যবিত্ত
শ্রেণীর
মানুষ।
এদের
মৃত্যুর
আয়োজন
যেন
সর্বত্র!
এ
মৃত্যুর
পেছনে
দীর্ঘদিনের
যে
কারণগুলো
থেকে
গেছে,
সেগুলো
বিশ্লেষণ
করলে
দেখা
যাবে,
সেই
চিরাচরিত
ধনী-দরিদ্র,
বা
ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীনদের
দ্বান্দ্বিক
মেরুকরণ।
সড়কপথে
মৃত্যু-পরবর্তীকালে
যে
রাষ্ট্রীয়
প্রতিচ্ছবি
পাওয়া
যায়
সাম্প্রতিককালে,
তা
আপনার
কাছে
চর্বিত-চর্বণের
মতো
অনুভূত
হওয়ার
কথা।
সড়কে
ঘটনায়
বা
দুর্ঘটনায়
মৃত্যুর
পর
কিছু
মানুষের
রাস্তা
অবরোধ,
কিছু
ভাঙাচোরা
গাড়িকে
আরো
খানিকটা
ভাংচুর
করা
বা
আগুন
লাগানো,
নিরাপদ
সড়ক
আন্দোলনের
প্রাণপুরুষ
ইলিয়াস
কাঞ্চনের
বেসরকারি
বিবৃতি
ও
সাক্ষাত্কার,
সংবাদপত্রে
‘মেধাবী
শিক্ষার্থীর
বা
নাম-না-জানা
পথচারীর
মৃত্যু’
নামে
লাল
শিরোনাম,
টকশোতে
কিছু
অনভিজ্ঞদের
অভিজ্ঞ
মতামত
দেয়ার
প্রতিযোগিতা,
পরিবহন
মালিকদের
একপেশে
আত্মপক্ষ
সমর্থন,
কিছু
সরকারি
কর্তাব্যক্তির
নামফলকের
প্রতিশ্রুতি
ইত্যাদি।
এগুলো
দিয়ে
কতটা
সমস্যার
প্রতিকার
হয়,
তা
বলা
মুশকিল;
কারণ
সড়কে
সীমাহীন
নৈরাজ্য
আর
যানবাহনের
বিশৃঙ্খলা
এ
দেশে
চলে
আসছে
যুগ
যুগ
ধরে।
বিচ্ছিন্ন
মৃত্যুর
তকমা
দেয়ার
মতোই,
বিচ্ছিন্ন
মতামত
তাইতো
কোনো
কাজে
আসে
না,
হয়
না
সমস্যার
মূলোৎপাটন।
সড়কে
মৃত্যু
আর
স্বজনহারাদের
আর্তনাদ
তাই
শুধু
ছুঁয়ে
যায়
সাধারণ
মানুষকে,
অথচ
এর
পেছনে
থাকা
অসাধারণ
ক্ষমতাশালীরা
প্রত্যক্ষ
বা
পরোক্ষ
অপরাধ
করেও
থেকে
যায়
ধরাছোঁয়ার
বাইরে।
যেসব কারণে
সড়কে
মৃত্যুর
মিছিল
চলে,
তার
মধ্যে
আছে
লাইসেন্সবিহীন
চালক,
আর
কোনো
ধরনের
প্রাতিষ্ঠানিক
প্রশিক্ষণ
ছাড়া
নিয়োজিত
চালকদের
সহকারী
যেমন
কন্ডাক্টর
ও
হেলপারদের
দিয়ে
যানবাহন
পরিচালনা
করা।
সড়কের
কোনো
আইন
না
জানার
কারণে
আর
সঠিক
প্রশিক্ষণের
অভাবে
আইন
মানার
কোনো
প্রবৃত্তি
এদের
মধ্যে
নেই।
অনেক
চালকেরই
লাইসেন্স
নেই,
আবার
অনেকের
আছে
ভুয়া
লাইসেন্স।
এমন
অদক্ষ
বেপরোয়া
চালকদের
বাসে
সাধারণ
যাত্রী
হিসেবে
উঠলে,
নীতিনির্ধারকরা
বুঝতে
পারতেন
মৃত্যু
কত
কাছে!
এরপর
আছে
ফিটনেসহীন
যত
গাড়ি,
এগুলোর
চেহারা
দেখলে
মনে
হবে
এ
গাড়িগুলোর
ওপর
দিয়ে
বোধ
হয়
সুনামি
বয়ে
গেছে!
বছরের
পর
বছর
এমন
চলাচলের
অনুপযোগী
বাস-গাড়ি
দিয়ে
এ
দেশের
রাস্তাঘাটে
চালানো
হচ্ছে
নৈরাজ্য!
এসব
অনাচার
আর
অনিয়ম
দেখার
জন্য
আছে
বিভিন্ন
সরকারি
সংস্থা;
যাদের
দায়িত্ব
লাইসেন্স
দেয়া,
তদারকি
করা
আর
অনিয়ম
দেখলে
শাস্তি
আরোপ
করা।
কিন্তু
তাদের
সততা,
নিষ্ঠা,
জবাবদিহি
কোনোটাই
প্রশ্নাতীত
নয়!
এছাড়া
মালিকপক্ষের
স্বল্প
বিনিয়োগে
অধিক
মুনাফার
লোভ,
আইনকানুন
ম্যানেজ
করে
চলার
প্রবণতা,
সরকারের
বিভিন্ন
মহলকে
হাত
করে
এমন
বাণিজ্য
চালিয়ে
যাওয়ার
চেষ্টা,
তাদের
উপার্জনের
পথ
নিশ্চিত
করলেও
যাত্রীদের
জীবন
অনিশ্চিত
করে
তুলেছে
বারবার।
রাস্তাঘাটে
চলাচলের
সময়
দুর্ঘটনা
হলে
আইন-শৃঙ্খলা
বাহিনী
তত্পর
হয়;
কিন্তু
মূলত
যানবাহন
শ্রমিকদের
বিচারের
জন্য
যাবতীয়
তত্পরতা
চলে
বটে,
তবে
অনেক
ক্ষেত্রেই
শক্তিশালী
মালিকপক্ষ
থেকে
যায়
ধরাছোঁয়ার
বাইরে।
যদিও
সাম্প্রতিককালে
সুপ্রিম
কোর্টের
এক
যুগান্তরকারী
রায়
গ্রিনলাইনের
মালিক
পক্ষকে
বড়
অংকের
অর্থ
জরিমানা
দেয়ার
নির্দেশ
দিয়েছেন
ভিকটিমকে।
তারেক
মাসুদ
আর
মিশুক
মনিরদের
মামলায়ও
মালিকপক্ষকে
দায়ী
করা
হয়েছে
বাসচালকের
পাশাপাশি।
আসলে
টর্ট
আইনের
ব্যবহার
এমনটা
করার
সুযোগ
করে
দিয়েছে
খানিকটা।
এমন
আইনের
যৌক্তিক
ব্যাখ্যায়
বলা
যায়,
অদক্ষ
বাসচালকদের
নিয়োগ,
তদারকি
ও
অব্যাহতি
দেয়ার
যাবতীয়
ক্ষমতা
থাকে
মালিকদের
হাতে।
আর
এসব
নিয়োগকৃত
শ্রমিকদের
কাজের
মাধ্যমে
অর্জিত
লাভ
যদি
মালিকরা
গ্রহণ
করতে
পারেন,
তবে
তাদের
অনিয়মে
বা
তাদের
দিয়ে
সংঘটিত
ভুলের
দায়ের
ভারও
মালিকপক্ষকে
নিতে
বাধ্য
করা
উচিত।
কিন্তু
মালিকপক্ষ
নানা
উপায়ে
আইনের
ফাঁক
গলে
অনেক
ক্ষেত্রেই
বেরিয়ে
যায়
আর
শাস্তি
ভোগ
করতে
হয়
গরিব
মোটর
শ্রমিকদের।
তাই
তো
বাসের
কোম্পানির
নাম
বদলায়,
বদলায়
বাসের
নাম,
বদলায়
চালক
ও
সহযোগী
শ্রমিকরা,
কিন্তু
মালিকপক্ষ
টিকে
থাকে
বহাল
তবিয়তে।
এভাবে
আইন-কানুন
দিয়ে
কোনো
রকমে
রোগের
উপসর্গের
চিকিৎসা
করা
হয়,
কিন্তু
মূল
রোগ
টিকে
থাকে
আগের
মতোই।
এ দেশের
অনেক
সরকারই
অনেকবার
উদ্যোগ
নিয়েছে
সরকারি
তত্ত্বাবধায়নে
সরকারি
ট্রান্সপোর্ট
সিস্টেম
গড়ে
তোলার।
তার
বড়
প্রমাণ
ছিল
বিআরটিসি।
কিন্তু
দুর্নীতি
আর
পরিবহন
মালিকদের
ষড়যন্ত্রে
এ
সরকারি
প্রতিষ্ঠানটি
কোনো
দিনই
কার্যকরভাবে
চলতে
সক্ষম
হয়নি।
সরকারি
পয়সায়
বাস
কিনে
তারা
বেসরকারি
মালিকদের
হাতে
সেগুলো
তুলে
দেয়
লিজের
মাধ্যমে।
এক্ষেত্রে
দোহাই
দেয়া
হয়
লোকবলের
অভাব
আর
রক্ষণাবেক্ষণের
খরচ,
যদিও
যুক্তিগুলো
স্বাভাবিকভাবেই
বিশ্বাসযোগ্য
নয়।
তবে
দক্ষতা,
নিষ্ঠা
আর
যথেষ্ট
জবাবদিহির
অভাব
অনেক
সরকারি
প্রতিষ্ঠানের
মতো
বিআরটিসিকে
ভোগাচ্ছে
সন্দেহ
নেই।
বিআরটিসির
মতো
বিআরটিএ
প্রতিষ্ঠানটি
যেটি
চালকদের
ও
যানবাহনের
লাইসেন্স
দেয়ার
দায়িত্বে,
তাদের
কার্যকরী
ভূমিকা
নিয়েও
যথেষ্ট
প্রতিবেদন
মিডিয়ায়
প্রকাশ
হয়েছে।
তাদের
পাশাপাশি
সড়কে
যাদের
বিশৃঙ্খলা
নিয়ন্ত্রণের
দায়িত্ব,
তাদের
ঐকান্তিকতাও
প্রশ্নবিদ্ধ।
সড়কে
এ
যাবতীয়
অনিয়ম
টিকিয়ে
রাখলে
আসলে
অনেকের
সুবিধা!
এগুলো
থেকে
যে
কোটি
কোটি
টাকার
চাঁদা
আর
ঘুষের
বাণিজ্য
চলে,
তা
অনেককেই
উৎসাহিত
করে
এমন
অরাজকতা
চালু
রাখতে।
তাই
সড়কে
শৃঙ্খলা
ফিরিয়ে
আনার
জন্য
অনেক
সরকারি
উদ্যোগও
সাম্প্রতিক
কালে
ব্যাহত
হয়েছে।
যেমন
সড়ক
নিরাপত্তা
আইন,
২০১৮;
যেটাতে
অনেক
শক্ত
আইনি
বিধান
বিশেষ
করে
শাস্তির
মেয়াদের
কথা
উল্লেখ
ছিল,
কিন্তু
সেগুলোকে
দুর্বল
করতে
এক
শ্রেণীর
সুবিধাবাদী
মহল
সদা
সচেষ্ট।
সরকারি
উদ্যোগগুলো
ভেস্তে
যাওয়া
আর
সড়কের
বাণিজ্যিক
বেনিয়াদের
দুর্নিবার
ক্ষমতা
দেখে
এ
দেশের
মানুষের
মনে
প্রশ্ন
জাগে—এরা
কি
সরকারের
চেয়েও
শক্তিশালী?
তবে পরিবহন
ব্যবস্থার
সার্বিক
পরিবর্তন
না
এনে
শুধু
আইন
তৈরি
করে
লাভ
হবে
না।
সরকারি
তত্ত্বাবধায়নে
গুটিকয়েক
পরাঙ্গম
ও
অভিজ্ঞ
পরিবহন
ব্যবসায়ীদের
মাধ্যমে
দেশের
যাবতীয়
পরিবহন
ব্যবস্থা
ঢেলে
সাজানো
দরকার।
এক্ষেত্রে
প্রয়োজন
একটি
অভিন্ন
কোম্পানি
গঠন
করে
সব
শহরের
অভ্যন্তরীণ
বাসগুলোকে
একটা
স্বনামধন্য
দেশী
বা
বিদেশী
প্রতিষ্ঠানের
মাধ্যমে
পরিচালনা
করা,
কিন্তু
এদের
মূল
কর্তৃত্ব
যেন
থাকে
সরকারের
হাতে।
উন্নত
প্রযুক্তির
বাস
এনে
দক্ষ
ড্রাইভার
নিয়োগ
করে
টাইম
ও
রুট
অনুযায়ী
পরিবহনগুলোকে
পরিচালনা
করা
দরকার।
এ
ব্যবস্থায়
ইলেকট্রনিক
টিকিট
সিস্টেমের
মাধ্যমে
ভাড়া
নেয়ার
ব্যবস্থা
করতে
হবে,
যেমনটা
মেট্রো
রেলের
ক্ষেত্রে
সিদ্ধান্ত
নেয়া
হয়েছে।
এটা
এমন
কোনো
কঠিন
কাজ
হবে
না।
কয়েকটা
উন্নত
রাষ্ট্রের
ট্রান্সপোর্ট
সিস্টেম
গবেষণা
করলেই
বাংলাদেশের
জন্য
উপযোগী
ব্যবস্থা
খুঁজে
পাওয়া
কঠিন
নয়।
এমন
সম্ভাবনাময়
খাতে
নিশ্চয়
বিনিয়োগ
করার
জন্য
দেশী-বিদেশী
কোম্পানিরও
অভাব
হবে
না।
দরকার
সিন্ডিকেট
ভাঙার
দুর্দমনীয়
রাজনৈতিক
ইচ্ছা
ও
শক্তি।
পরিবহন
খাতের
যেসব
নেতৃস্থানীয়
ব্যক্তি সরকারকে
ভুল
পথে
পরিচালিত
করছে
এবং
বিপদে
ফেলতে
চাচ্ছে,
তাদের
বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা
নেয়া।
এটা
শুধু
সড়ক
দুর্ঘটনা
বা
সড়কে
শৃঙ্খলা
ফিরিয়ে
আনার
জন্য
দরকার
তা
নয়;
বরং
এর
মাধ্যমে
প্রমাণ
পাবে
সরকারের
চেয়ে
শক্তিশালী
কোনো
অশুভ
চক্র
হতে
পারে
না।
সরকার কাজ
করে
সর্বসাধারণ
মানুষের
জন্য।
তাই
বিশেষ
কোনো
গোষ্ঠীর
স্বার্থ
রক্ষা
করা
সরকারের
কাজ
হতে
পারে
না।
সাধারণ
মানুষের
জন্য
সরকারের
যে
চিন্তা
বা
উদ্যোগ,
তা
স্পষ্ট
হওয়া
উচিত
সরকারি
কার্যক্রমের
মাধ্যমে।
বিশৃঙ্খল
আর
অনিয়মের
পরিবহন
খাত
চালু
রেখে
কোনো
পরিবর্তন
আনা
সম্ভব
নয়।
তাই
পুরো
একটা
প্ল্যানিং
প্যাকেজ
দরকার,
যার
মধ্যে
থাকবে
সঠিক,
সুসংগঠিত
ও
সুপরিচালিত
সরকারি
গণপরিবহন
ব্যবস্থা।
দরকার
হবে
বর্তমানের
দুর্বৃত্তায়নের
পরিবহন
খাত
সম্পূর্ণরূপে
বাতিল
করা।
সর্বোপরি
দরকার
হবে
সরকারি
সংশ্লিষ্ট
প্রতিষ্ঠানগুলোকে
দুর্নীতিমুক্ত
ও
কার্যকর
করা।
মো. রবিউল ইসলাম:
সহযোগী
অধ্যাপক
আইন ও বিচার বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়










