ড. নজরুল ইসলাম জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণাপ্রধান। তিনি অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট এবং রাশিয়ার মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়, কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয় ও সেন্ট জোন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ২০০৬ সালে জাতিসংঘে যোগ দেন। উন্নয়ন, বৈষম্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা 


গতকালের পর

 

দেশে গ্রিন ট্যাক্স আরোপের একটা প্রস্তাব ছিল। কিন্তু কার্যকর হয়নি?

বাংলাদেশে আইন করার প্রতি খুব উৎসাহ আছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রটোকল বা আইন স্বাক্ষর করার ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা যায়। স্বাক্ষরের জন্য বিভিন্ন দেশে যাওয়ার একটা বিষয় থাকে। কিন্তু এসব বাস্তবায়নে গড়িমসি লক্ষণীয়। প্রথমত, আন্তরিকতার অভাব; দ্বিতীয়ত, সততার অভাব। ২০১০ সালে আমাদের জলাভূমি সুরক্ষা আইন হয়েছে। কিন্তু জলাভূমি ক্রমে বিলীন হচ্ছে। তাহলে আইন করে কী লাভ হলো? দুর্ভাগ্য যে অপপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশে আইনটা বরং সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।

আপনি নিউ ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স নিয়ে কাজ করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে যদি আমাদের কিছু বলতেন।

এখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তিগুলো দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। যেমন আমাদের দেশে আমরা একদিকে খুব মনোযোগী যে বিদেশী বিনিয়োগ আসুক, আবার আমাদের দেশীয় শিল্পপতিদের উৎসাহ দিচ্ছি বিদেশে বিনিয়োগ করতে। সম্প্রতি এ বিষয়ে শর্তও শিথিল করেছে। এটা তো সরকারিভাবে। আর বেসরকারিভাবে পুঁজি পাচার বাংলাদেশের জন্য একটা বড় ইস্যু। এর হিসাব বলা কঠিন। কিন্তু যেসব হিসাব বেরিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে হারটা অনেক উঁচু। সেজন্য আমরা কোনটার প্রতি কতটা নজর দেব, সেটি একটা বিষয়। বিদেশী পুঁজি উৎসাহ করে আনার বিষয়ে অনেক সময় বলা হয়, তাতে নতুন প্রযুক্তি আসবে, নতুন ব্যবস্থাপনা আসবে। কিন্তু এর অন্য দিক হলো, প্রচুর পরিমাণ আয় ট্রান্সফার হবে, রিভার্স রেমিট্যান্স হবে। বাংলাদেশে এখন এটা একটা বড় বিষয়। আমি শুনেছি প্রতি বছর একটি দেশেই রিভার্স রেমিট্যান্স হিসেবে বার্ষিক প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে। কাজেই ওই ধারায় অগ্রসর হলে সেটি আরো বাড়বে। সুতরাং আমাদের প্রয়োজন যে পুঁজিটা বাইরে চলে যাচ্ছে, তা দেশে রাখার চেষ্টা করা। অবশ্য এটিও দেখতে হবে যে বিদেশী বিনিয়োগ এলে আমাদের দেশে প্রযুক্তি বিকাশ এবং ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সাহায্য করে কিনা। ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। ইন্টারনেটের যুগে ব্যবস্থাপনা শেখার জন্য বিদেশী কোনো কোম্পানি দেশে এলেই শিখতে পারব, সেটি মনে হয় না। এটা বহু আগে একসময় ছিল। এখন এত বেশি তথ্য সহজলভ্য যে তা এখন খুব একটা দরকারি মনে হয় না। প্রযুক্তির বিষয়ে কিছুটা প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রেও পরিস্থিতি এখন অন্য রকম।

চীন একটি উদাহরণ হতে পারে। সেখানে বিদেশী বিনিয়োগ কোম্পানি কর্তৃক বিনিয়োগ অনুমোদন করার ক্ষেত্রে চীন প্রথমে দৃষ্টি দিয়েছে প্র্রযুক্তিগতভাবে তারা লাভবান হতে পারবে কিনা। এ কারণে অনেক বিদেশী কোম্পানি অভিযোগ করে যে চীন নানা শর্ত আরোপ করে। এটা তাদের জন্য অসুবিধা। কিন্তু চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে এর একটা যৌক্তিকতা আছে। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদেরও এ বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা বলছে। সরকার এজন্য কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও করেছে। কিন্তু খুব একটা সুফল মিলছে না। কী করা যায়?

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে। আমাদের এতে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নইলে আমাদের প্রযুক্তিগত বিভাজন (ডিজিটাল ডিভাইড) আরো বেড়ে যাবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অনেক সুবিধা আছে। যেহেতু এটা ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি যথাসম্ভব বিকাশ করতে চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমান সরকার অনেক আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছে। কাজেই সরকারের এ বিষয়ে আগ্রহ আছে। বিভিন্ন জায়গায় হাইটেক পার্ক করছে। এগুলো ভালো। কিন্তু সেগুলো খুব বেশি কার্যকর হচ্ছে না। কিছু ব্যক্তিমালিকানার কোম্পানি ভালো করছে। আমি শুনেছি তাদের কেউ কেউ ওয়ার্ল্ড লিডারে পরিণত হবে। সেটা ভালো। কিন্তু সাধারণভাবে এসব ক্ষেত্রে ট্যালেন্ট প্রয়োজন। ট্যালেন্ট আবির্ভূত হবে সারা দেশের জনগণের মধ্য থেকে। আমাদের দেশে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় এর মধ্যে কত অংশ আছে, যাদের ট্যালেন্ট সত্যিই ট্যাপড হতে পারে? আমি দেখি এটি এখনো সীমিত। ছেলে-মেয়েদের বড় একটা অংশ এখনো কোনো যথার্থ শিক্ষা পাচ্ছে না। এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যে প্রক্রিয়া, তাতে পৌঁছানোর জন্য আরো উঁচু মাত্রায় যেতে হবে। যখন আমাদের দেশে বিরাট জনসংখ্যা শিক্ষার সুযোগ পাবে তখন দেখা যাবে অনেক ট্যালেন্ট আবির্ভূত হয়েছে। এ কারণে সত্যি বলতে কি, আইসিটি প্রডাক্ট, সফটওয়্যার রফতানিতে এখনো তেমন অগ্রগতি হয়নি। পিছিয়ে থাকার এটিও একটা কারণ। ভিত্তিটাও তো সম্প্রসারণ করতে হবে। ভিত্তিটা সম্প্রসারণের উপায় হলো সবার জন্য ভালো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা। তখন ১৭ কোটি মানুষের ট্যালেন্ট থেকেই দেশ উপকৃত হতে পারবে। এখন ১০ লাখ বা ন্যারো একটা সেগমেন্টের মধ্য থেকে ট্যালেন্ট আসছে। প্রাতিষ্ঠানিক নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের ট্যালেন্টটাও সম্পূর্ণভাবে পাচ্ছি না। সমাজের সর্বস্তরে সক্ষমতাটা নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমরা ততটা সফল হয়নি এখনো। এ ব্যাপারে সমন্বিত প্রচেষ্টা ততটা লক্ষ করা যাচ্ছে না।

এবার জ্বালানির দিকে আসা যাক। উন্নয়নের জন্য জ্বালানি দরকার হয়। কিন্তু সরকার অনেক বেশি আমদানিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। এটাকে কীভাবে দেখেন?

প্রথম কথা হলো জ্বালানি খাতে বর্তমান সরকারের একটা বড় সাফল্য রয়েছে। আগে যেমন অনেক বিদ্যুিবভ্রাট হতো। কিন্তু এখন সেটি অনেকটাই কমে এসেছে। এর আগের সরকারের আমলে দেখা গেছে পাঁচ বছরে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ল না। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের অবস্থান থেকে ২২ হাজার মেগাওয়াটের অবস্থানে চলে এসেছে। এটা একটা সাফল্য। এখন প্রশ্ন হলো, যেসব পদ্ধতি বা নীতি অনুসরণের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন হয়েছে, সেসব নীতির ফলে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা। এর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতে বিষয়টি কোন ধারায় যাবে।

একটা উদাহরণ দিই। বলা হচ্ছে, ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশই অলস থেকে যাচ্ছে। ফলে সরকারকে নাকি বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হয়। কারণ যেসব নীতির অধীনে এ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন হয়েছে, সেই নীতিটাই ছিল এ রকম যে উৎপাদন হোক বা না হোক ক্যাপাসিটি চার্জ সরকার দেবে। এ বাজেটে এত পরিমাণ যদি ভর্তুকি দিতে হয়, সেটা তো অদক্ষতা। প্রশ্ন হলো, এটা কেন হলো? আমাদের ভবিষ্যতের চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের যে একটা সামঞ্জস্যহীনতা, তার একটা ডায়নামিক অ্যাডজাস্টমেন্ট হতে হবে। ভবিষ্যতে রক্ষিত হবে এ ধরনের পরিকল্পনা আছে কিনা।

সম্প্রতি আমরা এনার্জি সম্মেলন আয়োজন করেছি। সেটা করতে গিয়ে পাওয়ার সেক্টর মাস্টারপ্ল্যান পড়েছি। সেটি ২০০৬ সালে হয়েছিল। পরে ২০১৬ সালে সংশোধন হয়। সেটিও আবার একটা বিদেশী কোম্পানি দিয়ে করেছে। কেন বিদেশী কোম্পানি দিয়ে করতে হবে? স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা ৫০ পেরোল। এ পর্যায়ে তার পাওয়ার সেক্টরের পরিকল্পনা নিজেরা করবে না। তাহলে ৫০ বছরে কী হলো? সেখানে একটা চিত্র দেখে বিস্মিত হলাম। ওরা এমন এক ডিমান্ড ও সাপ্লাইয়ের প্রজেকশন করেছে, তাতে দেখা যায় ওই প্রজেকশন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন বেশকিছু সময় ধরে ক্যাপাসিটি প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ বাড়তি হবে। অথচ ওই রিপোর্টই প্রথম দিকে বলছে, বাড়তি ক্যাপাসিটি ১০-১৫ শতাংশ হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। তাই যদি হয়, তাহলে তোমরা এ ধরনের একটি পরিকল্পনা করলে কেন! যেখানে প্রলম্বিত সময় ধরে প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ বেশি হবে। এর যুক্তি কী?

এখন সরকার জ্বালানি পরিকল্পনা করতে গিয়ে হঠাৎ করে বলে বসল—ভবিষ্যতে কয়লা থেকে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। আমরা দেখে হতবাক। কোন দুনিয়ায় থাকলে এ ধরনের একটা পরিকল্পনা মাথায় আসে! আমাদের দেশে অনেক সময় গঠনমূলক কথা বললেও বলা হয় যে তারা উন্নয়নবিরোধী। এটা তো ঠিক নয়। উন্নয়ন তো সবাই চায়। উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। নীতিটা তো এমন নয়; সবাই সব জান্তা। আমরা তখন বলেছি কয়লা থেকে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং পরিবেশবিরোধী। কথাটা শুনে পরে কিছুটা কমানো হলো। এখন কপ২৬-এর  পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাধ্য হয়ে কয়লাভিত্তিক ১০-১২টি প্রকল্প আংশিক বাতিল করেছে, বাকিটা গ্যাসে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছে। তারা যদি কথাটা আগে শুনত তাহলে এ অবস্থা হতো না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কয়লার দিকে অগ্রসর হওয়ার নীতিটা সঠিক নয়। তাহলে সময়, শ্রম ও অর্থ বাঁচানো যেত। দেশ সঠিকভাবে আরো বেশি এগিয়ে যেতে পারত।     

মাস্টারপ্ল্যানে আরেকটা বিষয় দেখে বিস্মিত হলাম। সাধারণত একটা দেশের জ্বালানি চাহিদা দিন দিন বাড়বে। প্রথমে আমদানি বাড়বে। পরে কমতে থাকবে। কিন্তু এ পরিকল্পনায় দেখা যাচ্ছে দিন দিন আমদানির পরিমাণ বাড়বে। ২০৫০ সাল নাগাদ প্রাক্কলনে দেখা যাচ্ছে, আমদানিনির্ভরতা বেড়ে ১৪ শতাংশ হয়ে যাবে। এর কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে?

এ পরিকল্পনায় আরেকটা অদ্ভুত বিষয় দেখলাম। সাধারণত একটা অর্থনীতিতে আশা করা যায় প্রথম পর্যায়ে ব্যক্তি খাতের সক্ষমতা কম থাকবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ভূমিকা সেখানে বেশি থাকবে। পরে ব্যক্তি খাতের অংশটা বাড়বে। পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের এটিই হলো প্রত্যাশিত ডায়নামিকস। অথচ মাস্টারপ্ল্যানে এটা সম্পূর্ণ উল্টো। সেখানে দেখাচ্ছে যে প্রথম দিকে প্রাইভেট সেক্টরের অংশ বেড়ে যাবে। তারপর এ খাতের অংশ কমে যাবে। সাধারণত অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে যা বেরিয়ে আসে তার থেকে ভিন্ন চরিত্রের কী করে প্ল্যান করে! পরিকল্পনার ভেতরেই অনেক অসংগতি, ভুল আছে। উদ্ভট পরিকল্পনা। প্রথম কথা হলো, বিদেশী কোম্পানি দিয়ে পরিকল্পনা কেন করতে হবে। ৫০ বছরে বাংলাদেশ কি এটুকু করতে পারবে না, আমাদের চাহিদা এটুকু হবে এবং আমাদের সরবরাহ এ গতিতে বাড়াতে হবে।

আরেকটা বিষয় দেখা গেল, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাস আহরণের যে প্রক্রিয়া সেটি প্রায় স্থবির। এ কয় বছরে নাকি শুধু ১৯টি কূপ স্থাপিত হয়েছে। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আমাদের সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি হয়েছে। অথচ আমরা সেখানে এখনো গ্যাস অনুসন্ধান করছি না। কেন? এর একটা ব্যাখ্যা হলো, একটা মহল দাঁড়িয়ে গেছে তারা এতে আগ্রহী নয়, তারা বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করবে এবং তা নিয়ে ব্যবসা করবে, সেটিই চায়। এটা হলে তো আরো খারাপ। দেশের স্বার্থটা সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মধ্যে আরো উদ্বেগের বিষয় হলো এলএনজি আমদানির বিষয়টি। এলএনজি দুভাবে কেনা যায়। একটা হলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে; দ্বিতীয়ত, স্পট মার্কেট থেকে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আপনি কম দামে কিনতে পারেন। স্পট মার্কেটে চরম মূল্যে কিনতে হচ্ছে। এগুলোও ঘটছে। সব দেশের স্বার্থের পরিপন্থী।

সরকারের কাজ হলো দেশের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ। সরকারকে কেন ব্যবসা করতে হচ্ছে?

আপনি ঠিকই বলেছেন, বিজনেস কমিউনিটির ওপর নিয়ন্ত্রণটা সরকারকে রাখতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো যখন সরকার নিজেই বিজনেস কমিউনিটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়, যেমন বলা হয় আমাদের সংসদে ৭০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি, সে রকম হলে তাদের পক্ষে জনস্বার্থ রক্ষা করা কঠিন। আমাদের দেশে নীতিগুলো খুব সংকীর্ণ মহলে নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে, ফলে সেগুলো দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হচ্ছে। (শেষ)

 

শ্রুতলিখন: হুমায়ুন কবির