বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়ে
এবার
সদ্যভর্তি
হওয়া
নবীন
শিক্ষার্থীদের
ভাবনায়
তাদের
বিশ্ববিদ্যালয়
কেমন?
সেই
অনুভূতি
জানার
জন্য
কয়েকজন
নবীন
শিক্ষার্থীর
মতামত
তুলে
ধরেছেন
বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়ের
সমাজবিজ্ঞান
বিভাগের
এক
প্রবীণ
শিক্ষার্থী
ফারহানা
ইয়াসমিন—
ভালোবাসায় সিক্ত প্রিয় ‘ববি’
ভর্তিযুদ্ধের এই কঠিন সময় পার করে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করে লাল ইটের সু-উচ্চ দালানের সৌন্দর্যমুখর বিশ্ববিদ্যালয়টিকে যে আমি নিজের বিশ্ববিদ্যালয় বলে পরিচয় দিতে পারছি তা আমার কাছে এখনো স্বপ্নের মতো। কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আমার এই ছোট জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। শরতের সাদা কাশফুল আর রক্তরাঙা পলাশের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা লাল ইটের এ ভবন এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রতীক। বিশাল লাইব্রেরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস, টিএসসির আড্ডা, সিনিয়রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক, বিকালে ক্যম্পাসে সবাই বসে গান করা—এ সবকিছু মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নের দেশে বিচরণ করছি। ঝাউতলার হাওয়ায় মনে এক অন্য রকম দোলা দেয়। এভাবেই স্বপ্নের ক্যাম্পাসে সাফল্যের সঙ্গে সময়গুলো কাটিয়ে দিতে চাই।
অহনা জেবীন
ইরা:
শিক্ষার্থী,
আইন
বিভাগ,
বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়
স্বপ্নময়
অনুভূতি
উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে অনেকটা যুদ্ধময় পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কলেজে থাকতেই শিক্ষকদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে অল্পবিস্তর ধারণা পেয়েছিলাম। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ পেলাম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও নবীন ও ছোট ক্যাম্পাসকেই আপন করে নিলাম। প্রেমে পড়ে গেলাম এ বিশ্ববিদ্যালয় ও তার সৌন্দর্যে। বিশ্ববিদ্যালয় মানেই ক্যাম্পাস, বন্ধু, আড্ডা, বড় ভাইয়া-আপুদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর বিস্তৃত পরিসরে নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরা। প্রিয় ক্যাম্পাস, বাহারি রঙের বাস, ক্যাম্পাসের আগুনখ্যাত পলাশ ফুল এবং নিজেকে মেলে ধরার মধ্যে আমি আমার জীবনের তৃপ্তি খুঁজে পাচ্ছি। সেই সঙ্গে শিখছি জীবনের আসল অর্থ উপলব্ধি করতে। তাই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নময় অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
মো. সোহাগ মিয়া:
শিক্ষার্থী,
সমাজবিজ্ঞান
বিভাগ
বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়
আকাঙ্ক্ষা
আরো বেড়েছে
স্বাপ্নিক বাকি দশজনের মতো আমার স্বপ্ন ছিল নামের শেষে পাবলিকিয়ান পরিচয় পাওয়া। স্বপ্নটা শুরু হয় সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীন নিজ চোখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখে। আমার নিজ চোখে দেখা সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হলো ববি। হঠাৎ যখন করোনার ভয়ানক আক্রমণে থমকে দাঁড়ায় পৃথিবী, আমার স্বপ্নটা শেষের পথে চলে যায়। অবশেষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে যখন ববিতে আসি, ববি তখন কাশফুলের সাজে সজ্জিত ছিল, যা দেখে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরো বেড়ে যায়। ববির আছে বর্ষার কদম, শরতের কাশফুল, ফাগুনের পলাশ, বেগুনি আভার জারুলের সারি; যা মনোমুগ্ধকর। এখানে এসে পেলাম নতুন অভিভাবক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ভাইয়া-আপুদের। একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে চাই এই প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে চাই একাগ্রতার সঙ্গে।
ফারহানা: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান
বিভাগ,
বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়
পলাশের
প্রাঙ্গণে স্বপ্নযাত্রা
মানুষ বেঁচে থাকে, কারণ সে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে। এ স্বপ্নকুঁড়ির বিকাশের মাধ্যমেই জীবন পায় পূর্ণতা। আমি সজীব নন্দী, একজন স্বপ্নবিলাসী মানুষ। ছোট থেকে দেখা নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন উচ্চমাধ্যমিকে এসে গবেষক হওয়ার স্বপ্নে রূপান্তর হলো। অ্যাডমিশন পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হলাম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে। খুশি হলাম, স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আবার ভয়ও হতে লাগল—কেমন হবেন শিক্ষক, বড় ভাই-আপুরা! র্যাগিংয়ের কারণে স্বপ্ন হতাশায় রূপান্তরিত হবে না তো! ধারণা যে কতটা ভুল তা বুঝতে পারলাম ক্লাসরুমে প্রবেশ করে। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কথায় মনে হলো নতুন পরিবারে এসে পড়েছি। আরো খুশি হলাম একসঙ্গে এতগুলো বড় ভাইয়া-আপুকে পেয়ে। তারা আমাদের সবাইকে ছোট ভাই-বোনের মতো গ্রহণ করলেন। এ যেন জীবনের অন্যতম প্রাপ্তিগুলোর একটি। ভালোবাসাপূর্ণ এ নতুন পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।
সজীব নন্দী:
শিক্ষার্থী,
উদ্ভিদবিজ্ঞান
বিভাগ,
বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়
মায়ের
আঁচলের প্রশান্তি
আমি যখন স্কুল-কলেজে পড়তাম তখনই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা আমার মনের মধ্যে বাজত। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতাম আমাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আসন দেয়ার জন্য। সৃষ্টিকর্তা আমার দোয়া এমনভাবে কবুল করেছেন যে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েই একটি আসন দিয়েছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি প্রথম আসি ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সেদিন আমার ভাইভা ছিল। আনন্দ আর ভয় দুটোই আমার মধ্যে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, ক্লাসরুম, শিক্ষকের দায়িত্ব, পড়াশোনার পরিবেশ সবকিছুই আমার ভালো লাগে। আমাদের শিক্ষকরা খুবই বন্ধুসুলভ। তাছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সুবিশাল লাইব্রেরি। ঝাউগাছ ও পলাশ ফুলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেখতে পুরোটাই স্বপ্নের মতো লাগে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার যেমন অনেক কিছু প্রত্যাশা আছে, তেমনি আমার কাছ থেকেও বিশ্ববিদ্যালয় অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। আমার প্রত্যাশা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা যাতে পূরণ করতে পারি, সেই আশাই ব্যক্ত করি।
জান্নাতি খাতুন:
শিক্ষার্থী,
ইংরেজি বিভাগ,
বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়
আমার
লক্ষ্য পূরণের
ধাপ
পাবলিকিয়ান হওয়ার জন্য আমরা কতই না কষ্ট করি। দিন শেষে যখন আমরা পাবলিকিয়ান হতে পারি তখন অনেকটা স্বর্গলাভের মতো আনন্দ হয়। আমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগটাও ঠিক তেমনি আনন্দ দিয়েছে। ভর্তি হওয়ার দিন থেকেই শিক্ষকদের আদর ও স্নেহ এবং বড় ভাইয়া-আপুদের অনেক সাহায্য পাচ্ছি। ক্যাম্পাসের পাশ দিয়ে হেলেদুলে বয়ে চলা কীর্তনখোলার পাড়ে বিকালে দাঁড়িয়ে আমি সামনের স্বপ্ন বুনি। পলাশ ফুলের সমারোহে প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাস তার সৌন্দর্যবর্ধন করে চলেছে। আমি চলেছি নিজের অস্তিত্ব গঠনের লক্ষ্যে। রূপসী বাংলার রূপময় ক্যাম্পাস ‘ববি ক্যাম্পাস’ যেন আমাকে আমার লক্ষ্য পূরণের ধাপগুলো স্নিগ্ধভাবে অতিক্রম করে দিচ্ছে।
সৌরভ সাহা:
শিক্ষার্থী,
ফাইন্যান্স
অ্যান্ড
ব্যাংকিং
বিভাগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়










