যা
আশঙ্কা করা
গিয়েছিল, শেষ
পর্যন্ত তা-ই
ঘটল। কেরোসিন
ও ডিজেলের
দাম লিটারে
বাড়ল ১৫
টাকা। না
বাড়লে কী
হবে? বাংলাদেশ
পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের
মতে, তাহলে
বর্তমান মূল্যে
দিনে তাদের
ক্ষতি হতো
২০ কোটি
টাকা। কারণ
বিপিসি আন্তর্জাতিক
বাজার থেকে
বেশি দামে
কিনে বিক্রি
করছিল কম
দামে। বলা
বাহুল্য, কয়েক
মাসের মধ্যে
আন্তর্জাতিক বাজারে
জ্বালানি তেলের
দাম বেড়েছে
দ্বিগুণেরও বেশি।
এ কারণে
গত মাসে
বিপিসি ২৬
কোটি টাকারও
বেশি লোকসান
দিয়েছে। বাধ্য
হয়ে তারা
কোরোসিন ও
ডিজেলের দাম
লিটারপ্রতি করেছে
৮০ টাকা,
৬৫ টাকার
স্থলে। ২০১৩
সালের পর
২০১৬ সালে
৩ টাকা
লিটারপ্রতি দাম
কমানো হয়েছিল।
এবার পাঁচ
বছর পর
লিটারপ্রতি বাড়ানো
হলো ১৫
টাকা। দেখা
যাচ্ছে, কমানোর
সময় মাত্র
৩ টাকা
আর বাড়ানোর
সময় ১৫
টাকা। তাও
একবারে। বলা
দরকার, আন্তর্জাতিক
বাজারে শুধু
পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের
দাম, অপরিশোধিত
জ্বালানি তেলের
দামই বাড়ছে
না। ভোগ্যপণ্যসহ
আরো নানা
পণ্যের দাম
বাড়ছে। বলা
হচ্ছে, এটা
সরবরাহ (সাপ্লাই)
সংকট। হঠাৎ
করে চাহিদা
বেড়ে যাওয়ায়
সরবরাহে ঘাটতি
দেখা দিয়েছে।
চাহিদা সংকটই
হোক আর
সরবরাহ সংকটই
হোক বাস্তবতা
হচ্ছে, আন্তর্জাতিক
বাজারের সঙ্গে
পাল্লা দিয়ে
দেশের বাজারেও
আমদানীকৃত পণ্যের
দাম বাড়ছে
তো বাড়ছেই।
এক চিনির
দামই বেড়েছে
দ্বিগুণেরও বেশি।
এর দাম
এখন কেজিপ্রতি
৮৫ টাকা।
শুধু আমদানীকৃত
পণ্য নয়,
এর দেখাদেখি
দেশীয় পণ্যের
দামও বেড়ে
চলেছে। শীতকালে
মাছ-মাংস,
দুধ-ডিম,
তরিতরকারি, শাকসবজির
বাজারে কিছুটা
স্বস্তি মেলে।
এবারো আশা
করা হয়েছিল
তা-ই
হবে। কভিড-১৯-এর
তীব্রতাকালে মানুষ
এসবের মূল্য
দিয়েছে বেশি
বেশি করে।
ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত
থাকলেও দোকানদার,
আড়তদার, পাইকারি
বিক্রেতারা যথারীতি
টাকা বানিয়েছে।
বিশ্বের বড়
বড় ধনী
তো অফুরন্ত
টাকা বানিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের এ
বেপরোয়া মুনাফাবাজির
বাজারে এখন
ভোক্তাদের সর্বনাশ
ঘটতে চলেছে।
কেরোসিন ও
ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির
বিরূপ প্রতিক্রিয়া
পড়বে সর্বত্র।
কেরোসিন এখন
গ্রামের গরিবরা
ব্যবহার করে।
তারা ক্ষতিগ্রস্ত
হবে। ডিজেলের
মূল্যবৃদ্ধির ফলে
এরই মধ্যে
বাস-ট্রাক,
লরি, স্টিমার-লঞ্চ
ইত্যাদি পরিবহনের
ভাড়া বেড়েছে।
দাম বাড়বে
বিদ্যুতের। কৃষকদের
কৃষি যন্ত্রপাতি
চালাতে গুনতে
হবে বেশি
টাকা। দুর্ভাবনা
আরো আছে।
কেরোসিন ও
ডিজেলেই কি
শেষ হবে?
পেট্রল ও
অকটেনের দাম
কি অপরিবর্তিত
থাকবে? অপরিবর্তিত
থাকবে তা
মনে করার
কোনো কারণ
নেই। আর
সেটি হলে
পেট্রোলিয়ামজাত অন্যান্য
পণ্যের দামও
বাড়বে। বলা
বাহুল্য, এসবের
চাপ শেষ
বিচারে পড়বে
ক্রেতা-ভোক্তাসাধারণের
ওপর। এর
থেকে রেহাই
নেই। ঠিক
আছে, সরকারের
কি রেহাই
আছে? না
তাও হওয়ার
নয়। সরকারের
জন্য আসছে
নানা সমস্যা।
২০২১-২২
অর্থবছরের মাত্র
চার মাস
গেল। মোটামুটি
ভালোই চলছিল।
কিন্তু হঠাৎ
করে জ্বালানি
তেলের মূল্যজনিত
কারণে নতুন
নতুন সমস্যা
হাজির হবে।
জ্বালানি তেলের
মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক
বাজারে অন্যান্য
পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিজনিত
কারণে আমদানি
ব্যয় অনেক
বেড়ে যাবে।
পণ্য আসবে
একই পরিমাণের,
কিন্তু খরচ
হবে বেশি
ডলার। আবার
পুরনো সমস্যা
আছে। করোনার
তীব্রতাকালে অনেক
পণ্য আমদানি
হয়েছিল বাকিতে
(ক্রেডিটে)।
এখন তা
শোধের সময়।
অর্থাৎ নতুন
এলসির (ঋণপত্র)
আমদানি খরচ
এবং পুরনো
আমদানির টাকা
এখন পরিশোধ
করতে গিয়ে
লাগবে অনেক
অনেক ডলার।
করোনাকালে যারা
বিদেশে যেতেন
বিনোদনে, তারা
আবার যাবেন।
কারণ বিমান
চালু হয়েছে।
লোকে চিকিৎসার
জন্য বিদেশে
যেতে শুরু
করবে। বিদেশে
লেখাপড়া করতে
যাবে আমাদের
ছাত্রছাত্রীরা। এসবের
জন্য ডলার
লাগবে। অথচ
এসব খাতে
খরচ বিগত
বছরে প্রায়
বন্ধই ছিল।
এখন পণ্য
আমদানি ও
সেবা খাতে
ডলার খরচ
বাড়বে। এর
অবশ্যম্ভাবী চাপ
পড়বে ডলারের
দামের ওপর।
এরই মধ্যে
তার লক্ষণগুলো
পরিষ্কার হচ্ছে।
খোলাবাজারে ডলারের
দাম ৯০
টাকার ওপরে
উঠেছে। অর্থাৎ
দু-তিন
মাসের মধ্যে
ডলারের দাম
৪-৫
টাকা বেড়ে
গেছে। এর
ফলে ব্যবসায়ীদের
পুঁজি লাগবে
বেশি, ঋণ
করতে হবে
বেশি। সরকার
কি চাপের
বাইরে থাকবে?
নিশ্চয়ই না।
একটি খবরে
দেখলাম, সরকার
অপরিশোধিত জ্বালানি
তেল বাকিতে
কেনার জন্য
ইসলামী উন্নয়ন
ব্যাংক থেকে
ঋণ নেয়ার
উদ্যোগ নিয়েছে।
কারণ? এত
বৈদেশিক মুদ্রা
রিজার্ভ থাকার
পরও ঋণ
করে জ্বালানি
তেল আনতে
হবে কেন?
বস্তুত এত
বৈদেশিক মুদ্রা
রিজার্ভ ‘এত’
রিজার্ভ নয়।
বিদেশী বাজারে
পণ্য মূল্যবৃদ্ধি
অব্যাহত থাকলে
রিজার্ভের টাকা
মুহূর্তের মধ্যে
শেষ হয়ে
যাবে। এর
সামান্য লক্ষণ
আছে। যেখানে
রিজার্ভ ৫০
বিলিয়ন ডলারে
উঠবে বলে
আশা করা
হচ্ছিল সেখানে
তা ৪৮
বিলিয়ন ডলার
থেকে কমে
৪৬ বিলিয়ন
ডলারে নেমেছে।
এ কারণেই
সতর্কতাবশত সরকার
বাকিতে (ক্রেডিটে)
জ্বালানি তেল
আনার উদ্যোগ
নিয়েছে।
এদিকে বর্ধিষ্ণু
আমদানি ব্যয়
এবং তজ্জনিত
ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে
কার লাভ,
কার ক্ষতি?
লাভ হবে
রফতানিকারকদের, লাভ
হবে যারা
দেশে ডলার
পাঠান তাদের।
এরই মধ্যে
দেখা যাচ্ছে,
রফতানিকারকরা খুব
বেশি খুশি।
তারা ডলারের
দাম বেশি
পাচ্ছেন। অধিকন্তু
তারা দল
বেঁধে তৈরি
পোশাক রফতানির
ক্ষেত্রে দাম
নিয়ে ‘নেগোশিয়েট’
করবেন, যাতে
পণ্যের দাম
বেশি পাওয়া
যায়। তা
সম্ভব হচ্ছে
বিদেশের বাজারে
তৈরি পোশাকের
চাহিদা বৃদ্ধির
কারণে। ২০২১
সাল শেষ
হতে যাচ্ছে।
গত বছর
ইউরোপীয় দেশগুলো,
কানাডা ও
আমেরিকার মানুষ
ক্রিসমাস ঠিকমতো
পালন করতে
পারেনি করোনার
তীব্রতার কারণে।
এবার অনেকটা
স্বস্তি এসেছে।
তাই বোঝা
যায়, ইংরেজি
নববর্ষ ভালোভাবেই
পালিত হবে।
এটা হলে
আমাদের তৈরি
পোশাকের চাহিদা
বাড়বে। এ
সুযোগে একযোগে
অধিকতর মূল্যের
জন্য দরকষাকষি
চলতেই পারে।
যদি তা
সফল হয়,
তাহলে রফতানিকারকরা
দরকষাকষির ফল
পাবেন এবং
পাবেন ডলারের
মূল্যবৃদ্ধির ফল।
বোঝাই যায়,
রফতানির পরিমাণ
টাকা এবং
ডলারের নিরিখে
বাড়বে। এর
লক্ষণ পরিসংখ্যানে
পাওয়া যাচ্ছে।
২০২১-২২
অর্থবছরের প্রথম
চার মাসে
রফতানি বেড়েছে
ভালো পরিমাণের।
জুলাই, আগস্ট,
সেপ্টেম্বর ও
অক্টোবর এই
চার মাসে
রফতানির লক্ষ্য
ছিল মাত্র
১ হাজার
৩৮৯ কোটি
ডলার। সেই
স্থলে মোট
রফতানি হয়েছে
১ হাজার
৫৭৪ কোটি
ডলার। পূর্ববর্তী
অর্থবছরের চার
মাসের তুলনায়
বর্তমান অর্থবছরের
প্রথম চার
মাসে রফতানি
প্রবৃদ্ধির হার
প্রায় ২৩
শতাংশ। অর্থাৎ
এ প্রবণতা
অব্যাহত থাকলে
রফতানিকারক দারুণ
লাভবান হবেন।
কিন্তু মুশকিল
অন্যত্র। রফতানিকারক
আর কতজন।
তারা তো
তাদের লাভের
টাকা শ্রমিকদের
দেবেন না।
এমনকি সরকারের
সঙ্গেও ভাগাভাগি
করবেন না।
ঋণের টাকা
পরিশোধ করবেন
কিনা তাতেও
সন্দেহ আছে।
তার মানে
তাদের লাভ
একান্তই ব্যক্তিগত।
কিন্তু আমদানির
খরচ বাড়লে
এর ভুক্তভোগী
হবে শিল্পপতি-ব্যবসায়ীরা।
সবচেয়ে বেশি
ক্ষতিগ্রস্ত হবে
সাধারণ ভোক্তারা,
যাদের সংখ্যা
কোটি কোটি।
কোটি কোটি
লোক এখনই
বর্ধিত মূল্যের
বোঝা বহন
করছে। দাম
যতই বাড়বে,
ডলারের মূল্য
যতই বাড়বে
ততই ক্ষতিগ্রস্ত
হবে সাধারণ
মানুষ। শিল্পপতিদের
নতুন উদ্যোগের
জন্য বেশি
দামে যন্ত্রপাতি
আমদানি করতে
হবে। পুঁজি
লাগবে বেশি।
বিদ্যমান শিল্পপতি
এবং নতুন
উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল
আনতে হবে
বেশি দামে।
তাদের পণ্যের
উৎপাদন খরচ
পড়বে বেশি।
দেশীয় বাজারও
তারা পাবে
না, বিদেশী
বাজারও পাবে
না। তৈরি
পোশাক কারখানার
মালিকরা দেশীয়
শিল্পের পণ্য
কিনবেন না।
বলবেন, দাম
বেশি। তারা
পণ্য আনবেন
বিদেশ থেকে।
বেশির ভাগ
ক্ষেত্রে চীন
থেকে। কিছুটা
ভারত থেকে।
অর্থাৎ দেখা
যাচ্ছে, ডলারের
মূল্যবৃদ্ধির ফলে
লাভবান হবে
বিদেশী রফতানিকারক
দেশগুলো। ডলারের
মূল্যের এ
সমস্যার জন্য
বাংলাদেশ ব্যাংক
বরাবর একটা
সমন্বয়ের নীতি
অনুসরণ করে
এসেছে। এর
মূল্য বেড়ে
যেতে চাইলে
কেন্দ্রীয় ব্যাংক
হস্তক্ষেপ করেছে।
আবার মূল্য
কমতে চাইলে
তারা ডলার
বাজার থেকে
কিনেছে। এখন
দেখা যাচ্ছে,
এ নীতি
কার্যকর রাখা
কঠিন হয়ে
পড়েছে। অথচ
স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির
জন্যই ডলারের
মূল্য স্থিতিশীল
রাখা প্রয়োজন,
রিজার্ভের পরিমাণ
ধরে রাখা
প্রয়োজন। তবে
মুশকিল হচ্ছে,
আন্তর্জাতিক বাজারের
‘পাগলা
ঘোড়া’ যদি
আরো খেপে
যায় তাহলে
পরিস্থিতি স্বাভাবিক
রাখা কঠিন
হয়ে যেতে
পারে। বস্তুত
জ্বালানি তেলের
মূল্যের অস্বাভাবিক
বৃদ্ধি দেখলেই
আমার ১৯৭২-৭৫
সালের কথা
মনে পড়ে।
তখন অস্বাভাবিক
মূল্যবৃদ্ধি ঘটে
দেশের বাজারে
প্রধানত জ্বালানি
তেলের মূল্যবৃদ্ধির
কারণে। এর
পুরো বোঝা
পড়ে তত্কালীন
বঙ্গবন্ধুর সরকারের
ওপর। মানুষ
বাঁচতে চায়
বলে তারা
আন্তর্জাতিক বাজারের
মূল্যবৃদ্ধি বুঝতে
চায় না।
তারা পণ্য
চায় সস্তায়।
পণ্যমূল্য বাড়লেই
হইচই শুরু
হয়। সাম্প্রতিক
উদাহরণ প্রতিবেশী
ভারত। দেশব্যাপী
হইচইয়ের কারণে
কেন্দ্রীয় সরকার
লোকসান সত্ত্বেও
জ্বালানি তেলের
দর কমিয়েছে।
প্রশ্ন, এ
লোকসানের টাকার
‘বাড়ি’
কোথায়? এর
জবাব মানুষ
বুঝতে চায়
না। বিরোধী
দলগুলো তো
নয়ই।
এমতাবস্থায় সতর্কতার
সঙ্গে এগোনো
দরকার। সতর্কতা
আরো বেশি
দরকার। কারণ
আমরা এখন
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকাজে
নিয়োজিত। করোনা
আমাদের অর্থনীতি,
জনজীবন, সমাজ,
চাকরিজীবন, শিক্ষা-ব্যবসা
সবকিছুকে তছনছ
করে দিয়েছে।
এখন চারদিকে
একটু স্বাস্তির
কারণে আমারা
পুনরুদ্ধারকাজে ব্যস্ত।
এ সময়
হঠাৎ কতগুলো
সমস্যা এসে
হাজির। ডলারের
মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক
বাজারে পণ্যমূল্যবৃদ্ধি
হচ্ছে একটা।
আরেকটা বিপদ
হচ্ছে ‘রেমিট্যান্স’।
আমাদের অর্থনীতিতে
রেমিট্যান্সের গুরুত্ব
বুঝিয়ে বলার
অপেক্ষা রাখে
না। পোশাক
রফতানি, রেমিট্যান্স,
কৃষি আমাদের
অর্থনীতির অন্যতম
স্তম্ভ। দেখা
যাচ্ছে, রেমিট্যান্সে
হঠাৎ ভাটা
পড়েছে। করোনা
মহামারীর সবচেয়ে
খারাপ সময়ে
রেমিট্যান্সের পরিমাণ
বরাবর ছিল
ঊর্ধ্বমুখী। বস্তুত
বৈদেশিক মুদ্রা
রিজার্ভ বৃদ্ধির
প্রধান কারণ
ছিল এটি।
কিন্তু কোথায়
কী হলো
যে রেমিট্যান্স
গত জুলাই
থেকে কমতে
শুরু করেছে।
২০২১ সালের
জুলাইয়ে রেমিট্যান্সের
পরিমাণ ছিল
১৮৭ কোটি
ডলার। অক্টোবরে
এর পরিমাণ
দাঁড়িয়েছে মাত্র
১৬৪ কোটি
ডলারে। গত
চার মাসের
প্রবণতা নিম্নমুখী।
এর কারণ
কী? একেকজন
একেক কথা
বলেন। যখন
বাড়ে তখন
যুক্তির অভাব
দেখা যায়
না। এখন
কমছে, এর
কারণেও কমতি
নেই। প্রধান
কারণ বলা
হচ্ছে হুন্ডিওয়ালার
কীর্তি। তারা
করোনাকালে অকেজো
অবস্থায় ছিল।
এখন বিমান
চলাচল শুরু
হয়েছে, বলা
হচ্ছে তাদের
কর্মকাণ্ডও শুরু
হয়েছে। কারণ
যা-ই
হোক না
কেন, আমাদের
জন্য, দেশের
জন্য এ
খবর মোটেই
ভালো নয়।
দেখা যাচ্ছে,
গত অর্থবছরের
প্রথম চার
মাসে রেমিট্যান্সের
পরিমাণ ছিল
৮৮২ কোটি
ডলার (এক
ডলার=৯০
টাকা)।
বর্তমান ২০২১-২২
অর্থবছরের একই
সময়ে রেমিট্যান্সের
পরিমাণ কমে
দাঁড়িয়েছে ৭৫৪
কেটি ডলারে।
এখানে অসুবিধা
দুটো। রেমিট্যান্সের
টাকার একটি
অংশ যায়
আমদানি ব্যয়
মেটাতে। কারণ
রফতানির চেয়ে
আমাদের আমদানি
অনেক বেশি।
কাজেই রেমিট্যান্সে
টান পড়লে
ডলারের দাম
যেমন বাড়বে
তেমনি আমদানি
ব্যয় নির্বাহ
করাও কঠিন
হয়ে পড়বে।
যেতে হতে
পারে ঋণে।
সবচেয়ে বড়
কথা, রেমিট্যান্স
কমলে গ্রমীণ
অর্থনীতি দারুণভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এক কোটির
বেশিসংখ্যক পরিবার
দেশে রেমিট্যান্স
প্রাপক। তাদের
ঘর-সংসার
চলে এই
রেমিট্যান্সের টাকায়।
গ্রামীণ বাজারগুলো
জমজমাট আছে
রেমিট্যান্সের টাকায়।
এ রেমিট্যান্সেই
যদি হাত
পড়ে তাহলে
গ্রামীণ বাজার
ও অর্থনীতি
দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
হবে। দুর্বিপাকে
পড়বে চার-পাঁচ
কোটি মানুষ।
এদিকে রেমিট্যান্স
কমলে ব্যাংক
আমানতের (ডিপোজিট)
যে বন্যা
লেগেছে তাতে
একটু ভাটা
পড়বে। রেমিট্যান্সের
টাকা, রফতানির
টাকা, সাহায্যের
টাকা, মধ্যবিত্তের
জমানো টাকায়
ব্যাংকে ব্যাংকে
আমানতের স্তূপ
জমেছে। বর্তমান
বছরে আমানতের
পরিমাণ ১৩-১৪
শতাংশ বেড়েছে।
অথচ ঋণের
প্রবৃদ্ধি মাত্র
৭-৮
শতাংশ। সরকার
শতচেষ্টা করেও
বিনিয়োগ বাড়াতে
পারছে না।
বিনিয়োগ বাড়লে
ঋণের পরিমাণ
বাড়বে। ঋণের
প্রবাহে বৃদ্ধি
না ঘটায়
ব্যাংকগুলো আমানত
নিতে চায়
না। নিলেও
সুদ দেয়
সরকার ঘোষিত
হারের চেয়ে
কম। এতে
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
সাধারণ সঞ্চয়কারীরা।
আর এম দেবনাথ: অর্থনৈতিক
বিশ্লেষক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক










