[পূর্ব প্রকাশের পর]

ব্যক্তিপ্রধান রাজনীতি হওয়ার কারণে কেন্দ্র থেকে প্রান্তের সব পর্যায়ে এ ধারার রাজনীতি ছড়িয়ে পড়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবহেতু সব রাজনৈতিক দল বিরোধী দল ছাড়াই রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করেছে। এতে কেউ কেউ পুরোদমে সফল, আবার অন্যরা অল্পমাত্রায় সফলতা দেখিয়েছে। সব রাজনৈতিক দল ভোটের মধ্য দিয়ে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে। এ ব্যবস্থা করতে গিয়ে নিপীড়নকে সব দলই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে গত কয়েক দশকে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে প্রতিবাদ, মতামত প্রদান, চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা তার্কিক মহলে প্রায় অনুপস্থিত। সাধারণত রাষ্ট্রের বৈরী পরিবেশে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে যে গোষ্ঠী ভূমিকা রাখে, সেই শ্রেণী বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ঝিমিয়ে গেছে। গত প্রায় চার দশক বিশেষত নব্বইয়ের পর থেকে এ শ্রেণীর অবস্থান ধীরে ধীরে বর্তমান অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। খুব দ্রুত এ অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, আগামী নির্বাচনে যদি ক্ষমতার বদল হয়, তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক মানস দেশের এই বৈরী অবস্থাকে আরো দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক মন্দা আরো তীব্র হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো সদিচ্ছা দেখাতে চাইলে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। কিন্তু এ সম্ভাবনা আপাতত দেখছি না।

সমসাময়িক বাঙালি বিদ্বৎসমাজ

বাংলাদেশের বিদ্বৎসমাজের মধ্যে অভ্যন্তরীণ এক ধরনের রাজনীতি চলছে। এ রাজনীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে নব্বইয়ের দশকে। রাজনৈতিক দলগুলো এই শ্রেণীর মধ্যে ভালোভাবে বিভাজন সৃষ্টি করতে পেরেছে। তাই বাংলা একাডেমি কিংবা এশিয়াটিক সোসাইটি কিংবা নজরুল একাডেমির প্রকল্পগুলোয় কোন কোন গবেষক সম্পৃক্ত হবেন, তাও সেই রাজনীতির বাইরের কিছু নয়। একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার—এ সবকিছুই আমরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বিচার-বিবেচনা করছি।

বাংলাদেশের বিদ্বৎসমাজের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ভিন্ন মত লালন না করা। এ বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রের আনাচে-কানাচে ছেয়ে গেছে। ব্যক্তি, পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে আমরা ভিন্নমত লালন করতে পারি না। রাষ্ট্রে ভিন্নমত লালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত বিদ্বৎসমাজ। মূলত এই শ্রেণীর মনমানসিকতা রাষ্ট্রের অলিগলি, জনসমাজ, প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে বিদ্বৎসমাজ ভিন্নমত লালনকারীদের মারমুখী দৃষ্টিভঙ্??