বিশ্বের
অনেক
দেশের
মতো
বাংলাদেশেও
বৈদেশিক
সাহায্য
একটি
বহুল
আলোচিত
বিষয়।
বিষয়টি
নিয়ে
অনেক
ভুল
বোঝাবুঝিও
আছে।
বাংলাদেশে একটি
প্রচলিত
ধারণা
এই
যে
দাতারা
প্রায়ই
সাহায্য
গ্রহণকারী
দেশগুলোয়
সরকারের
বিভিন্ন
নীতি
ও
কর্মসূচি
প্রণয়নকে
অযৌক্তিকভাবে
প্রভাবিত
করে,
বিশেষ
করে
তাদের
দেয়া
ঋণের
সঙ্গে
বিভিন্ন
শর্ত
জুড়ে
দিয়ে।
অনেক
দেশের
মতো
বাংলাদেশেও
অনেকে
এ
অবস্থান
নেন
যে
এ
শর্তগুলো
দাতা
দেশগুলোর
অগ্রাধিকার
বা
মতাদর্শ
দ্বারা
পরিচালিত
এবং
গ্রহীতা
দেশগুলোর
বাস্তবতা
ও
আকাঙ্ক্ষার
সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ
নয়।
অন্য
কথায়,
শর্তাবলি
অনুপযুক্ত
এবং
তা
প্রাপক
দেশগুলোর
ভালোর
চেয়ে
ক্ষতিই
বেশি
করেছে।
এটাও
অনেকে
বিশ্বাস
করেন
যে
দাতাদের
অর্থ
প্রায়ই
ব্যয়বহুল
পরামর্শদাতাদের
নিয়োগের
জন্য
ব্যবহার
করা
হয়,
যারা
উন্নত
দেশগুলোর
অভিজ্ঞতা
থেকে
প্রাপ্ত
পরামর্শ
দেন,
যা
প্রাপক
দেশগুলোর
চাহিদা
ও
অবস্থার
সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ
নয়।
আমি
পরে
এ
বিষয়গুলোয়
ফিরে
আসব
কিন্তু
তার
আগে
বৈদেশিক
সাহায্যের
প্রকৃতি
ও
বিবর্তন
সম্পর্কে
কিছু
কথা
বলব।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন
ধরনের
সরকারি
দাতা
রয়েছে,
যেমন
আন্তর্জাতিক
ও
আঞ্চলিক
সহায়তা
সংস্থা,
বিভিন্ন
সরকারের
অধীনে
সাহায্যকারী
সংস্থা
এবং
আন্তর্জাতিক
এনজিও।
তবে
আমার
লেখার
বেশির
ভাগ
সময়ে
আমি
সেই
সংগঠনটির
পরিপ্রেক্ষিতে
কথা
বলব,
যাকে
আমি
সবচেয়ে
ভালো
জানি,
অর্থাৎ
বিশ্বব্যাংক
গ্রুপ।
বিশ্বব্যাংক,
সেই
সঙ্গে
আন্তর্জাতিক
মুদ্রা
তহবিল
(আইএমএফ) মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের
নিউ
হ্যাম্পশায়ার
অঙ্গরাজ্যের
ব্রেটন
উডস
নামের
একটি
স্থানে
১৯৪৪
সালের
জুলাইয়ে
অনুষ্ঠিত
একটি
বহুদেশীয়
আলোচনার
ফসল। এ
কারণেই
এ
দুটি
সংগঠনকে
অনেক
সময়ে
ব্রেটন
উডস
প্রতিষ্ঠান
হিসেবে
বলা
হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
শেষ
হওয়ার
সময়
এ
সংগঠনগুলো
যে
প্রেক্ষাপটে
কল্পনা
করা
হয়েছিল,
সে
সম্পর্কে
একটু
ধারণা
থাকা
প্রয়োজন।
পশ্চিমা
শক্তিগুলো
যারা
যুদ্ধে
জয়ী
হয়েছিল,
বিশেষ
করে
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র
ও
যুক্তরাজ্য,
তারা
ইউরোপীয়
দেশগুলোর
বিধ্বস্ত
অর্থনীতির
দ্রুত
পুনর্গঠনের
প্রয়োজনীয়তা
অনুভব
করেছিল
এবং
এ
ব্যাপারে
সাহায্য
করার
ক্ষেত্রে
অগ্রগামী
ছিল।
এ
ধরনের
সহায়তা
দেয়ার
জন্য
মার্শাল
প্ল্যান
নামে
একটি
উচ্চাভিলাষী
কর্মসূচি
চালু
করা
হয়েছিল।
একই সময়ে
এটি
অনুভব
করা
হয়েছিল
যে
উন্নয়নশীল
দেশগুলো,
যাদের
অনেকেই
নিকট
ভবিষ্যতে
ঔপনিবেশিক
শাসন
থেকে
মুক্ত
হবে
বলে
আশা
করা
হচ্ছিল,
তাদেরও
সাহায্যের
প্রয়োজন
হবে—প্রথমত
তাদের
অর্থনীতির
পুনর্গঠন
এবং
পরে
দীর্ঘমেয়াদি
উন্নয়ন
অর্জনের
জন্য।
এ
ধ্যান
ধারণা
থেকেই
বিশ্বব্যাংকের
জন্ম,
যার
প্রতিফলন
আমরা
দেখি
বিশ্বব্যাংকের
পোশাকি
নামে—আন্তর্জাতিক
পুনর্গঠন
ও
উন্নয়ন
ব্যাংক। জন্মের
পর
প্রথম
বছরগুলোয়
বিশ্বব্যাংক
ইউরোপের
উন্নত
অর্থনীতির
জন্যও
সহায়তা
দিয়েছিল,
এ
দেশগুলোর
ওপর
বিশ্বযুদ্ধের
বিরাট
অভিঘাত
পড়েছিল
বলে।
যারা ব্রেটন
উডসে
আলোচনায়
মিলিত
হয়েছিলেন,
তারা
অর্থনৈতিক
অবস্থার
স্বল্পমেয়াদি
ওঠানামার
ব্যাপারেও
চিন্তিত
ছিলেন
এবং
এ
বিষয়েও
উন্নয়নশীল
দেশগুলোর
সাহায্যের
প্রয়োজন
হতে
পারে
তা
তারা
বুঝতে
পেরেছিলেন।
তারা
বিশেষভাবে
উদ্বিগ্ন
ছিলেন
যে
উন্নয়নশীল
দেশগুলোকে
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের
লেনদেনের
ক্ষেত্রে
ভারসাম্য
বজায়
রাখতে
বেগ
পেতে
হবে,
যেহেতু
অনেক
সময়ে
তাদের
আমদানি
ব্যয়ের
তুলনায়
রফতানি
আয়
কম
হবে।
অর্থনৈতিক
তত্ত্ব
এবং
বিভিন্ন
দেশের
বাস্তব
অভিজ্ঞতা—উভয়ই
আমাদের
বলে
যে
এ
ধরনের
স্বল্পমেয়াদি
ওঠানামা
একটি
দেশকে
অনেক
সময়
দীর্ঘমেয়াদি
সমস্যার
দিকে
নিয়ে
যেতে
পারে।
সুতরাং
দেশগুলোর
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের
ভারসাম্য
বজায়
রাখতে
এবং
এ
ধরনের
স্বল্পমেয়াদি
ওঠানামা
মোকাবেলা
করতে
সাহায্যের
প্রয়োজন
হতে
পারে।
এ
বিবেচনাগুলো
আইএমএফ
গঠনের
ব্যাপারে
বিরাট
ভূমিকা
রেখেছিল।
সংক্ষেপে বিশ্বব্যাংক
পুনর্গঠনের
প্রাথমিক
চাহিদা
পূরণ
হওয়ার
পর
দীর্ঘমেয়াদি
উন্নয়নের
দিকে
মনোনিবেশ
করবে
এবং
আইএমএফ
স্বল্পমেয়াদি
ওঠানামা
মোকাবেলা
করতে
সাহায্য
করবে।
তবে
এটিও
স্বীকৃত
ছিল
যে
উন্নয়নশীল
দেশগুলোর
অর্থনৈতিক
সমস্যা
কেবল
বহিরাগত
কারণেই
হবে,
যেমন
বিশ্ববাজারে
তাদের
রফতানি
পণ্যের
দাম
হ্রাস
বা
বাইরে
থেকে
আমদানি
করা
পণ্যের
দাম
বৃদ্ধি
এমন
নয়।
অনেক
সমস্যা
তাদের
নিজেদের
তৈরিও
হতে
পারে।
একটি
বিশেষ
উদ্বেগ
ছিল
রাজস্ব
ঘাটতি
নিয়ে।
অর্থনৈতিক
তত্ত্ব
আমাদের
বলে
এবং
বাস্তব
অভিজ্ঞতায়
এর
অনেক
নিদর্শন
পাওয়া
যায়
যে
একটি
দুর্বল
আর্থিক
অবস্থান
থাকলে
কমপক্ষে
দুটি
কারণে
আন্তর্জাতিক
লেনদেনে
ভারসাম্য
বজায়
রাখা
কঠিন
হয়ে
যায়।
সরকারি
ব্যয়
অর্থনীতিতে
চাহিদা
বৃদ্ধি
করে,
যা
আংশিকভাবে
আমদানি
বৃদ্ধির
মাধ্যমে
পূরণ
করতে
হতে
পারে।
অত্যধিক
সরকারি
ব্যয়
মুদ্রাস্ফীতিরও
জন্ম
দিতে
পারে,
যা
রফতানিকে
অপ্রতিযোগিতামূলক
করে
তোলে।
বর্ধিত
আমদানির
সঙ্গে
রফতানি
কমে
গেলে
আন্তর্জাতিক
লেনদেনে
ঘাটতি
তৈরি
হয়।
ফলে
আইএমএফ
আন্তর্জাতিক
লেনদেনে
ভারসাম্য
বজায়
রাখার
উদ্দেশে
ঋণ
দেয়ার
সময়ে
ঋণগ্রহীতা
দেশগুলোর
ওপর
প্রায়ই
তাদের
আর্থিক
ঘর
ঠিক
রাখার
শর্ত
দেয়।
সময়ের
বিবর্তনে
অবশ্য
আইএমএফের
কর্মপরিধি
অনেক
প্রসারিত
হয়েছে
এবং
এখন
আমরা
তাদের
এমন
বিষয়ে
কাজ
করতে
দেখছি,
যা
দীর্ঘদিন
ধরে
বিশ্বব্যাংকের
কাজের
ক্ষেত্র
ছিল।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠা
সনদে
পাঁচটি
প্রধান
উদ্দেশ্য
ব্যক্ত
করা
হয়।
এটি
উল্লেখযোগ্য
যে
এর
মধ্যে
তিনটিই
ছিল
বিদেশী
বিনিয়োগ-সংক্রান্ত।
আমরা
জানি
যে
বিশ্বব্যাংক
বিশ্বের
বিভিন্ন
সরকারের
মালিকানাধীন
একটি
সংস্থা,
যার
প্রাথমিক
কাজ
হলো
বিশ্বের
সরকারগুলোকে
ঋণ
ও
পরামর্শ
দেয়া।
প্রশ্ন
হলো,
এমন
একটি
সংস্থার
প্রতিষ্ঠা
সনদে
কেন
বেসরকারি
পুঁজির
এক
দেশ
থেকে
আরেক
দেশে
স্থানান্তরের
ওপর
এতটা
জোর
দেয়া
হয়েছিল?
এর কারণ
পরিষ্কার।
বিশ্বব্যাংকের
প্রতিষ্ঠাতারা
বিশ্বাস
করতেন
যে
উন্নয়নশীল
দেশগুলোর
যে
বিপুল
পরিমাণ
সম্পদ
প্রয়োজন,
তা
কেবল
উন্নত
দেশের
সরকার
থেকে
আসতে
পারে
না।
সম্পদের
সিংহভাগই
বেসরকারি
খাত
থেকে
আসতে
হবে।
এটাও
বিশ্বাস
করা
হতো
যে
উন্নত
বিশ্বের
তুলনায়
অনেক
উন্নয়নশীল
দেশে
ব্যক্তিগত
মূলধন
বেশি
মুনাফা
দেবে।
এর
কারণ
হলো,
উন্নয়নশীল
দেশগুলোয়
অনেক
লাভজনক
ব্যবসার
সুযোগ
বিদ্যমান
এবং
তাই
এ
ক্রিয়াকলাপে
বিনিয়োগে
লভ্যাংশের
হার
উন্নত
দেশগুলোর
বিনিয়োগের
চেয়ে
বেশি
হতে
পারে।
তবে অধিক
মুনাফার
সম্ভাবনা
থাকলেও
বেসরকারি
বিনিয়োগকারীরা
নানা
কারণে
উন্নয়নশীল
দেশে
যেতে
দ্বিধাবোধ
করবেন—বিশ্বব্যাংকের
প্রতিষ্ঠাতারা
এটি
জানতেন।
বিনিয়োগকারীদের
উদ্বেগের
অনেক
কারণ
ছিল।
যেমন
অবকাঠামো
ও
দক্ষ
শ্রমিকের
অভাব,
সরকারের
দুর্বল
ক্ষমতা
ও
বাজারে
নানা
ধরনের
ব্যবসায়িক
অনিশ্চয়তার
পাশাপাশি
সরকারের
নীতি
ও
বিধিবিধানের
দ্বারা
সৃষ্ট
অনিশ্চয়তা।
সুতরাং
বেসরকারি
বিনিয়োগ
আকৃষ্ট
করতে
উন্নয়নশীল
বিশ্বের
সরকারগুলোর
নানা
পদক্ষেপ
নেয়ার
প্রয়োজন
ছিল
এবং
এসব
ক্ষেত্রে
বিশ্বব্যাংকের
কাছ
থেকে
প্রচুর
সাহায্যের
প্রয়োজন
হবে,
এটি
অনুমান
করা
হয়েছিল।
যেহেতু বেশির
ভাগ
উন্নয়নশীল
দেশে
ভালো
অবকাঠামোর
অভাব
ছিল,
তাই
প্রথম
দিকে
বিশ্বব্যাংক
গুরুত্ব
দিয়েছিল
অবকাঠামো
নির্মাণের
ওপর।
একই
সময়ে
বিশ্বব্যাংক
অর্থনৈতিক
বিশ্লেষণমূলক
কাজ
ও
জ্ঞান
তৈরির
প্রচেষ্টায়ও
নিয়োজিত
ছিল।
এটা
ধারণা
করা
হয়েছিল
যে
বিদেশী
বিনিয়োগকারীরা
একটি
দেশে
বিনিয়োগ
করতে
দ্বিধাগ্রস্ত
হবেন,
যদি
না
তাদের
কাছে
সেই
দেশের
অভ্যন্তরীণ
বাজারের
গতিশীলতা,
সরকারি
নীতি,
ও
সামগ্রিক
অর্থনীতি
সম্পর্কে
ন্যূনতম
তথ্য
থাকে।
তাই
শুরু
থেকেই
বিশ্বব্যাংক
বিভিন্ন
উন্নয়নশীল
দেশের
ব্যষ্টিক
অর্থনীতি
ও
বিভিন্ন
খাতের
অর্থনীতির
বিশদ
বিশ্লেষণ
তৈরিতে
মনোযোগ
দিয়েছিল।
এ ঐতিহ্য
আজও
অব্যাহত
আছে,
যদিও
বিনিয়োগকারীদের
পক্ষে
উন্নয়নশীল
দেশগুলোর
ওপর
তথ্য
সংগ্রহ
করা
আগের
চেয়ে
সহজতর
হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের
বিশ্লেষণাত্মক
ও
জ্ঞানলব্ধ
কাজ,
যা
প্রতি
বছর
শত
শত
নথিতে
মূর্ত
হয়
এবং
যার
ভিত্তিতে
উন্নয়নশীল
দেশগুলোকে
বিভিন্ন
বিষয়ে
পরামর্শ
দেয়া
হয়,
তা
অনেকের
কাছেই
বিশ্বব্যাংকের
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ
অবদান
হিসেবে
বিবেচিত
হয়।
উন্নয়নশীল
বিশ্বে
আগ্রহী
বিভিন্ন
সরকার,
বিনিয়োগকারী
এবং
অন্যরা
এ
প্রতিবেদনগুলো
গুরুত্ব
সহকারে
নেন।
১৯৫০, ১৯৬০
ও
১৯৭০-এর
দশকে
শত
শত
প্রকল্প
বাস্তবায়নের
পর—যার
মধ্যে
অনেকগুলো
অবকাঠামো
ছিল—বিশ্বব্যাংক
এ
ধরনের
প্রকল্পের
কার্যকারিতা
নিয়ে
ক্রমে
উদ্বিগ্ন
হয়ে
ওঠে।
বিশ্বব্যাংকের
অভ্যন্তরীণ
প্রকল্প
পর্যালোচনা
ও
মূল্যায়ন
থেকে
ক্রমে
প্রতীয়মান
হয়
যে
অনেক
ক্ষেত্রে
প্রকল্পগুলো
থেকে
প্রত্যাশিত
ফল
অর্জন হয়নি।
আশির
দশকে
এসে
বিশ্বব্যাংক
এ
সিদ্ধান্তে
পৌঁছে
যে
উন্নয়নশীল
দেশগুলোর
গভীর
কাঠামোগত
সমস্যা
এ
প্রকল্পগুলোকে
তাদের
লক্ষ্য
অর্জনে
বাধা
দিয়েছে।
বিশেষভাবে
এ
দেশগুলোর
অর্থনৈতিক
নীতি
ব্যবস্থা
সম্পর্কে
বিশ্বব্যাংক
উদ্বিগ্ন
ছিল
এবং
প্রতিষ্ঠানটি
এ
সিদ্ধান্তে
উপনীত
হয়
যে
বাণিজ্যনীতি
থেকে
শিল্পনীতি,
আর্থিক
নীতি
থেকে
রাজস্ব
নীতি—বিভিন্ন
ক্ষেত্রে
নানা
নীতিগত
সংস্কার
প্রয়োজন।
শিল্প, বাণিজ্য,
অবকাঠামো
বা
ইউটিলিটি—বিভিন্ন
খাতে
পাবলিক
এন্টারপ্রাইজগুলোর
কথিত
দুর্বল
কর্মক্ষমতা
নিয়েও
বিশ্বব্যাংক
উদ্বিগ্ন
ছিল।
এর
মধ্যে
কিছুটা
বিড়ম্বনা
ছিল।
কারণ
অনেক
দেশে
বিশ্বব্যাংকের
নির্দেশেই
বেশ
কয়েকটি
পাবলিক
এন্টারপ্রাইজ
প্রতিষ্ঠিত
হয়েছিল।
এর
কারণ
হলো,
যখন
বিশ্বব্যাংক
একটি
নির্দিষ্ট
খাতের
বিকাশের
জন্য
কোনো
দেশে
ঋণ
দিয়েছিল
তখন
প্রায়ই
সে
খাতের
তত্ত্বাবধানকারী
মন্ত্রণালয়কে
সরাসরি
তহবিল
প্রদান
করতে
বিশ্বব্যাংক
দ্বিধান্বিত
ছিল।
তাই
অনেক
সময়
এসব
খাতে
তহবিল
প্রদানের
বাহন
হিসেবে
পাবলিক
এন্টারপ্রাইজ
স্থাপনের
জন্য
বলা
হয়েছিল।
প্রত্যাশা
ছিল
এ
ধরনের
পাবলিক
এন্টারপ্রাইজগুলো
সরকারের
মন্ত্রকের
চেয়ে
বেশি
দক্ষ
হবে।
অনেক
ক্ষেত্রে
এ
প্রত্যাশা
পূরণ
হয়নি।
ফলে
বিশ্বব্যাংক
১৯৮০-এর
দশক
থেকে
বেসরকারীকরণের
পক্ষে
কথা
বলা
শুরু
করে।
স্বাধীনতার পর
প্রথম
কয়েক
বছর
পাকিস্তান
ও
বাংলাদেশের
মধ্যে
ঋণের
বোঝা
ভাগাভাগির
সমস্যা
সমাধানে
অনেক
সময়
ব্যয়
করা
হয়েছিল।
একই
সঙ্গে
খাদ্য
সহায়তাসহ
ত্রাণ
ও
পুনর্বাসনের
জন্য
বাংলাদেশকে
জরুরি
সহায়তা
দেয়া
হয়েছিল।
পরবর্তী
সময়ে,
অর্থাৎ
১৯৭০
দশকের
মাঝামাঝি
থেকে
দাতারা
বাজেট
সহায়তা,
আমদানি
অর্থায়ন
এবং
অবকাঠামো,
শিল্প,
খাদ্য
উৎপাদন
ও
পরিবার
পরিকল্পনার
মতো
নির্দিষ্ট
খাতে
বিভিন্ন
প্রকল্পের
জন্য
ঋণ
দিতে
শুরু
করে।
বিশেষ
করে
বিশ্বব্যাংক
ও
এশীয়
উন্নয়ন
ব্যাংক
কর্তৃক
প্রদত্ত
ধারাবাহিক
আমদানি
কর্মসূচি
গুরুত্বপূর্ণ
ছিল।
প্রকল্পের
তহবিল
দক্ষতার
সঙ্গে
ব্যবহার
করা
ব্যতীত
খুব
বেশি
শর্ত
এ
ঋণগুলোর
সঙ্গে
আরোপিত
হয়নি।
এর একটি
গুরুত্বপূর্ণ
ব্যতিক্রম
ছিল
আইএমএফের
উপদেশে
বা
চাপে
টাকার
বিনিময়
হারের
অবমূল্যায়ন।
১৯৭৫
সালে
টাকার
উল্লেখযোগ্য
অবমূল্যায়ন
ঘটে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী
বছরগুলোয়
মুদ্রাস্ফীতির
উচ্চহারের
ফলে
এটি
পরিষ্কার
হচ্ছিল
যে
বিরাজমান
বিনিময়
হার
বাংলাদেশের
রফতানি
পণ্যের
প্রতিযোগিতামূলক
অবস্থানকে
দুর্বল
করে
দিচ্ছিল।
ফলে
আন্তর্জাতিক
লেনদেনে
ভারসাম্য
বজায়
রাখা
কষ্টসাধ্য
হচ্ছিল।
সুতরাং
আইএমএফের
এ
নীতিগত
অবস্থার
একটি
শক্তিশালী
যুক্তি
ছিল।
১৯৮০-এর
দশকের
শুরু
থেকে
বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশে
তার
আমদানি
কর্মসূচি
ঋণের
সঙ্গে
কিছু
নীতিগত
শর্ত
জুড়ে
দেয়া
শুরু
করে,
যা
পরবর্তী
সময়ে
‘কাঠামোগত
পরিবর্তন’
ঋণ
দ্বারা
প্রতিস্থাপন
করা
হয়।
লক্ষ
করা
যায়,
এটি
সেই
সময়
ছিল
যখন
বিশ্বব্যাংক
উন্নয়নশীল
বিশ্বে
কাঠামোগত
পরিবর্তনের
পক্ষে
ওকালতি
শুরু
করেছিল।
নীতিমালার
শর্তাবলির
মধ্যে
ছিল
বেসরকারীকরণ,
আমদানি
উদারীকরণ,
ভর্তুকি
অপসারণ
বা
হ্রাসসহ
মূল্য
সংস্কার,
কর
সংগ্রহের
উন্নতি,
আর্থিক
খাতের
সংস্কার
এবং
সরকারের
আর্থিক
ব্যবস্থাপনার
উন্নতিকরণ।
বাংলাদেশে অনেকেই
বিশ্বাস
করেন,
এ
শর্তগুলোর
অধিকাংশই
দেশের
জন্য
অনুপযুক্ত
ও
ক্ষতিকারক
ছিল
এবং
বিভিন্ন
সময়ের
সরকার
এগুলো
গ্রহণ
করেছিল
দাতাদের
ওপর
তাদের
অতিনির্ভরশীলতার
কারণে।
অনেকেই
মনে
করেন,
বাংলাদেশের
বিভিন্ন
সরকারের
দাতাদের
দাবি
উপেক্ষা
করার
ইচ্ছা
বা
ক্ষমতা
কোনোটাই
ছিল
না।
যদিও
ওপরের
যুক্তিগুলো
কিছু
ক্ষেত্রে
সত্য
হতে
পারে,
তা
পুরোপুরি
সত্য
নয়।
আমাদের
অন্তত
তিনটি
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়
উপলব্ধি
করতে
হবে।
প্রথমত,
এটা
ভুল
ধারণা
যে
বাংলাদেশের
সরকার
সবসময়
দাতাদের
বশীভূত
থাকে।
এখন
পর্যন্ত
সব
সরকারই
অনেক
সময়
দাতাদের
নেয়া
অবস্থান
থেকে
দূরত্ব
বজায়
রেখেছে
এবং
নিজস্ব
গতিতে
সংস্কার
গ্রহণ
করেছে।
অনেক
ক্ষেত্রে
দাতাদের
শর্তাবলি
বাংলাদেশ
সরকারের
নীতিগত
উদ্দেশ্যকেই
প্রতিফলিত
করেছে।
অন্য
কথায়,
অনেক
সময়
দাতাদের
শর্ত
তালিকায়
এমন
নীতিমালা
অন্তর্ভুক্ত
ছিল,
যা
সরকার
এরই
মধ্যে
গ্রহণ
করার
সিদ্ধান্ত
নিয়েছিল।
তৃতীয়ত,
অনেক
ক্ষেত্রে
নীতি
সংস্কারের
প্রভাব
যেমনটি
অনেকে
মনে
করেন,
তার
চেয়ে
অনেক
বেশি
ইতিবাচক
ছিল।
আমি কয়েকটি
উদাহরণ
দিয়ে
শেষ
মন্তব্যটি
ব্যাখ্যা
করব।
বাংলাদেশে
অনেকেই
জানেন
না
যে
বিশ্বব্যাংক
১৯৭০
ও
১৯৮০-এর
দশকে
রাষ্ট্রায়ত্ত
পাট
শিল্প
আধুনিকায়নে
সহায়তা
করার
জন্য
বেশকিছু
ঋণ
দিয়েছিল।
তবে
এ
প্রকল্পগুলোর
ফল
সন্তোষজনক
ছিল
না।
তখনই
বিশ্বব্যাংক
এ
সিদ্ধান্তে
উপনীত
হয়
যে
বাংলাদেশের
জন্য
কিছু
পাটকল
বেসরকারীকরণ
এবং
বাকিগুলো
বন্ধ
করাটাই
শ্রেয়।
পরেরটির
সবচেয়ে
উল্লেখযোগ্য
উদাহরণ
২০০২
সালে
আদমজী
পাটকলের
বন্ধ
হয়ে
যাওয়া।
এতে
২৬
হাজার
লোক
চাকরি
হারিয়ে
ছিল।
বাংলাদেশে
অনেকেই
এ
সিদ্ধান্তের
সমালোচনা
করেছিলেন
এবং
বিশ্বব্যাংকের
বিরুদ্ধে
দেশটির
শিল্প
খাতকে
ধ্বংস
করার
অভিযোগও
এনেছিলেন।
কিন্তু
অনেকেই
অবগত
নন
যে
পরবর্তী
সময়ে
আদমজী
পাটকলের
জমিতে
একটি
রফতানি
প্রক্রিয়াকরণ
অঞ্চল
তৈরি
করা
হয়েছিল,
যেখানে
২০১৯-এর
মাঝামাঝি
(সর্বশেষ সময়কাল,
যার
তথ্য
আমার
কাছে
রয়েছে)
নাগাদ
৫৫
হাজারেরও
বেশি
লোকের
কর্মসংস্থান
হয়েছে।
আদমজী
বন্ধ
হয়ে
গেলেও
সেখানে
নতুন,
আরো
বেশি
সম্ভাবনময়
শিল্পপ্রতিষ্ঠান
স্থাপন
হওয়ায়
চাকরির
হার
দ্বিগুণ
হয়।
একটি
অর্থনীতি
গতিশীল
হতে
হলে
মাঝে
মাঝে
উৎপাদন
কর্মকাণ্ডে
ব্যবহূত
সম্পদের
পুনর্বণ্টনের
প্রয়োজন
হয়,
যে
কর্মকাণ্ডের
ভবিষ্যৎ
উজ্জ্বল
নয়,
সেখান
থেকে
সম্পদ
সরিয়ে
অধিক
সম্ভাবনাময়
কর্মকাণ্ডের
দিকে
নিয়ে
যেতে
হয়।
এটি
অর্থনীতির
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
পাঠ।
আদমজী
পাটকল
বন্ধ
করার
জন্য
বিশ্বব্যাংকের
পরামর্শ
অর্থনীতির
এ
পাঠের
সঙ্গে
সংগতিপূর্ণ
ছিল—আদমজী
ইপিজেডের
কার্যক্রম
ও
তার
সাফল্যই
এর
প্রমাণ।
আরেকটি উদাহরণ
হলো,
কৃষি
উপকরণের
বাজার
উদারীকরণ;
যা
১৯৮০-এর
দশকে
ও
১৯৯০-এর
দশকের
গোড়ার
দিকে
ঘটেছিল।
কিছু
দাতা
সংস্থা,
বিশেষ
করে
ইউএসএআইডি
ও
বিশ্বব্যাংক
সরকারকে
এ
সংস্কারের
দিকে
ঠেলে
দিতে
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করেছিল।
বাংলাদেশ
উন্নয়ন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান
ও
ওয়াশিংটনে
অবস্থিত
আন্তর্জাতিক
খাদ্যনীতি
গবেষণা
প্রতিষ্ঠানের
মতো
স্বনামধন্য
সংস্থাগুলোর
দ্বারা
পরিচালিত
গভীর
অর্থনৈতিক
বিশ্লেষণ
এ
সংস্কারসংক্রান্ত
আলোচনা
ও
বিতর্ককে
সমৃদ্ধ
করে
এবং
সংস্কারের
রূপরেখা
তৈরিতে
মূল্যবান
ভূমিকা
রাখে।
সংস্কারগুলো
কার্যকর
হওয়ার
পর
পরিচালিত
গবেষণাকর্মে
এ
সংস্কারগুলোর
ইতিবাচক
প্রভাবের
শক্তিশালী
প্রমাণ
পাওয়া
যায়।
আমার শেষ
উদাহরণ
দ্বিপক্ষীয়
ও
বহুপক্ষীয়
সাহায্যের
সংমিশ্রণ
সম্পর্কিত।
বিশ্বব্যাংক,
আইএমএফ,
জাতিসংঘের
বিভিন্ন
সংস্থা
এবং
এশীয়
উন্নয়ন
ব্যাংকের
মতো
আন্তর্জাতিক
বা
আঞ্চলিক
সংস্থাগুলোর
দ্বারা
প্রদত্ত
সহায়তার
পাশাপাশি
বাংলাদেশ
বহু
বছর
ধরে
দ্বিপক্ষীয়
সাহায্য,
অর্থাৎ
বিভিন্ন
দেশের
কাছ
থেকে সরাসরি
সাহায্যও
পেয়ে
এসেছে।
অনেক
সময়
এ
ধরনের
দাতারা
বহুপক্ষীয়
দাতাদের
সাথে
একসঙ্গে
কাজ
করে।
ডিএফআইডির
উদাহরণ
দেয়া
যেতে
পারে,
পরে
যার
নামকরণ
হয়েছিল
ইউকেএইড;
এখন
যেটি
যুক্তরাজ্যের
পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের
সঙ্গে
একীভূত
হয়েছে।
ডিএফআইডি
প্রদত্ত
সহায়তার
সিংহভাগই
কারিগরি
ক্ষেত্রে
ব্যবহূত
হয়েছে।
এর একটি
উদাহরণ
বাংলাদেশ
ইনভেস্টমেন্ট
ক্লাইমেট
ফান্ড
(বিআইসিএফ), যা
ডিএফআইডি
দ্বারা
অর্থায়ন
করা
হয়
এবং
বিশ্বব্যাংক
গ্রুপের
বেসরকারি
খাত
শাখা,
অর্থাৎ
ইন্টারন্যাশনাল
ফাইন্যান্স
করপোরেশন
(আইএফসি) দ্বারা
পরিচালিত
হয়।
২০০৭
সালে
প্রতিষ্ঠিত
হওয়ার
পর
থেকে
দীর্ঘ
দেড়
দশক
ধরে
এ
কর্মসূচি
বাংলাদেশের
বিনিয়োগ
পরিবেশ
উন্নত
করতে
মূল্যবান
সহায়তা
দিয়ে
আসছে।
এ
প্রকল্পের
একটি
প্রধান
অবদান
বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক
অঞ্চল
কর্মসূচির
সমর্থন।
উন্নয়নশীল দেশে
একটি
রূপান্তরকামী
এজেন্ডার
পেছনে
দাতাদের
সহায়তার
এটি
একটি
উদাহরণ,
যেখানে
দাতারা
দীর্ঘ
সময়
ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে
বিভিন্ন
ধরনের
সাহায্য
দিয়েছে।
২০০৭
সালে
আইএফসি
একটি
প্রতিবেদন
প্রকাশ
করে,
যেখানে
বিভিন্ন
ধরনের
অর্থনৈতিক
অঞ্চল
প্রতিষ্ঠার
মাধ্যমে
বাংলাদেশে
আরো
সংগঠিত,
সুপরিকল্পিত
এবং
পরিবেশবান্ধব
শিল্পায়ন
প্রক্রিয়ার
পক্ষে
যুক্তি
উপস্থাপন
করা
হয়।
আন্তর্জাতিক
অভিজ্ঞতার
ভিত্তিতে
অর্থনৈতিক
অঞ্চল
বাস্তবায়নে
বিভিন্ন
ধরনের
পাবলিক-প্রাইভেট
মডেল
গ্রহণের
পক্ষেও
যুক্তি
দেয়া
হয়
এ
প্রতিবেদনে।
সরকার
এ
যুক্তিগুলো
গ্রহণ
করে
একটি
উচ্চাভিলাষী
অর্থনৈতিক
অঞ্চল
কর্মসূচি
হাতে
নেয়ার
সিদ্ধান্ত
নিলে
আইএফসি,
ডিএফআইডির
সহযোগিতায়
অর্থনৈতিক
অঞ্চল
আইন
ও
বিভিন্ন
বিধিবিধানের
খসড়া
তৈরি
করতে
এবং
বাংলাদেশ
অর্থনৈতিক
অঞ্চল
কর্তৃপক্ষের
প্রতিষ্ঠা
ও
ক্ষমতায়নে
সাহায্য
করে।
পরবর্তী
সময়ে
বিশ্বব্যাংক
ঋণ
নিয়ে
এগিয়ে
আসে
অর্থনৈতিক
অঞ্চলগুলোয়
অবকাঠামো
তৈরিতে
সাহায্য
করার
জন্য।
বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক
অঞ্চল
কর্মসূচির
সঙ্গে
দাতাদের
এ
সংশ্লিষ্টতা
উন্নয়ন
সহায়তার
রূপান্তর
সম্ভাবনার
একটি
উজ্জ্বল
উদাহরণ। দেড়
দশকের
মতো
দীর্ঘ
সময়
ধরে
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
এজেন্ডার
সঙ্গে
থাকলে
এবং
জ্ঞান,
বিশ্লেষণ,
কারিগরি
সহায়তা
ও
প্রকল্প
ঋণ—এককথায়
বহুমাত্রিক
সহায়তা
প্রদান
করলে
তার
প্রভাব
কতটা
ইতিবাচক
হতে
পারে,
এটি
তারই
একটি
উদাহরণ।
উপরের উদাহরণটি
আমাদের
আভাস
দেয়
ভবিষ্যতে
বিদেশী
সাহায্য
কী
রূপ
নিতে
পারে,
বিশেষ
করে
বাংলাদেশের
মতো
দেশগুলোয়।
আগামী
দিনগুলোয়
দেশীয়
বা
বিদেশী
বিনিয়োগের
জন্য
অনুকূল
পরিবেশ
তৈরির
ওপর
ক্রমবর্ধমান
জোর
দেয়া
হবে।
ওপরে
বর্ণিত
পন্থায়
বিনিয়োগের
পরিবেশ
উন্নতিতে
যেমন
সহায়তা
দেয়া
হবে,
তেমনি
কোনো
কোনো
দাতা
প্রতিষ্ঠান
বিভিন্ন
ব্যবসা
বা
শিল্পে
বেসরকারি
বিনিয়োগের
পাশাপাশি
নিজেরাও
বিনিয়োগ
করবে,
বিনিয়োগকারীদের
উৎসাহ
দেয়ার
জন্য
বা
এর
অনুঘটক
হিসেবে
কাজ
করার
জন্য।
এর একটি
উদাহরণ
আইএফসি,
যার
কথা
আমি
ওপরে
উল্লেখ
করেছি।
১৯৫৬
সালে
প্রতিষ্ঠিত
এ
সংস্থার
প্রধান
কাজ
হলো
উন্নয়নশীল
দেশগুলোয়
বিদ্যমান
কঠিন
পরিস্থিতিতেও
যে
অনেক
বাণিজ্যিকভাবে
কার্যকর
বেসরকারি
বিনিয়োগ
করা
সম্ভব
তা
দেখানো।
আইএফসি
সাধারণত
সেসব
প্রকল্প
ও
সেক্টরে
বিনিয়োগ
করে,
যেখানে
বিদেশী
বিনিয়োগকারীরা
অনুমিত
ঝুঁকির
কারণে
আসতে
অনিচ্ছুক
হতে
পারেন।
আইএফসি
ঝুঁকি
নেয়ার
জন্য
আরো
ভালো
অবস্থানে
রয়েছে,
কারণ
এর
ম্যান্ডেট
উন্নয়ন,
বাণিজ্যিক
লাভ
নয়
(যদিও আইএফসিকে
অবশ্যই
নিশ্চিত
করতে
হয়
যে
তার
সব
বিনিয়োগ
বাণিজ্যিকভাবেও
কার্যকর
ও
লাভজনক)।
আইএফসির
লক্ষ্য
কেবল
তার
নিজস্ব
প্রকল্পগুলো
বাস্তবায়ন
করা
নয়,
বরং
তার
বিনিয়োগকৃত
প্রকল্পের
মাধ্যমে
একটি
দৃষ্টান্ত
তৈরি করা।
নিজস্ব
বিনিয়োগের
মাধ্যমে
কিছু
প্রকল্পের
কার্যকারিতা
দেখিয়ে
আইএফসি
অন্য
বিনিয়োগকারীদের
দেশে
আসতে
উৎসাহিত
করবে
বলে
আশা
করে।
এর একটি
উদাহরণ
হলো
বাংলাদেশে
বিদ্যুৎ
উৎপাদনে
প্রথম
বেসরকারি
খাতের
প্রকল্প,
যা
প্রায়
২০
বছর
আগে
আইএফসি
বিনিয়োগের
মাধ্যমে
বাস্তবায়ন
হয়েছিল।
সেই
প্রকল্পের
সাফল্য
পরবর্তীকালে
অনেক
বেসরকারি
বিনিয়োগকারীকে
বাংলাদেশে
বিদ্যুৎ
খাতে
আসতে
উৎসাহিত
করেছে।
আরেকটি
উদাহরণ
হলো
১৯৮০-এর
দশকের
মাঝামাঝি
সময়ে
আইডিএলসিতে
আইএফসির
অগ্রণী
বিনিয়োগ,
যা
বাংলাদেশে
লিজিং
শিল্পের
সূচনা
করতে
সাহায্য
করেছিল।
অতিসম্প্রতি
বিকাশে
আইএফসির
বিনিয়োগ
মোবাইল
আর্থিক
সেবা
খাতের
উন্নতিতে
সাহায্য
করেছে।
আইএফসির বিনিয়োগ
মডেলটিতে
একটি
নির্দিষ্ট
বিনিয়োগের
মাধ্যমে
আরো
বিনিয়োগ
উৎসাহিত
করা
হয়।
পাশাপাশি
বিআইসিএফের
মতো
কর্মসূচিতে
সামগ্রিক
বিনিয়োগের
পরিবেশকে
উন্নত
করে
বিনিয়োগ
আকর্ষণ
করা
হয়।
দাতারা,
বিশেষ
করে
বিশ্বব্যাংক
গ্রুপের
মতো
আন্তর্জাতিক
প্রতিষ্ঠান
বা
যুক্তরাজ্যের
মতো
দ্বিপাক্ষিক
উন্নয়ন
সহযোগীরা
যে
আজকাল
ক্রমে
বেসরকারি
বিনিয়োগ
বাড়ানোর
ওপর
জোর
দিচ্ছে,
তাতে
আশ্চর্য
হওয়ার
কিছু
নেই।
শুরুতে
বলেছিলাম
আজ
থেকে
প্রায়
৭৫
বছর
আগে
যখন
বিশ্বব্যাংক
তার
জন্মের
সময়
একটি
সনদ
গ্রহণ
করেছিল,
সেখানে
প্রতিষ্ঠানটির
উল্লিখিত
পাঁচটি
উদ্দেশ্যের
মধ্যে
তিনটিই
ছিল
ব্যক্তিগত
পুঁজিপ্রবাহ
সহজতর
করা।
বলা
যায়,
উন্নয়ন
সহযোগীরা
সেই
শিকড়ের
দিকেই
এখন
ফিরে
যাচ্ছে।
ড. সৈয়দ আখতার মাহমুদ: বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ; প্রায় তিন দশক বিশ্বব্যাংক ও আইএফসিতে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছেন










