২০০৮
সালের বৈশ্বিক
সংকটের সম্ভাব্য
বিপর্যয়কর পদ্ধতিগত
অস্থিতিশীলতা কোনো
কোনো দূরদর্শী
ব্যক্তি আগেই
আঁচ করেছিলেন।
তার মধ্যে
একজন ছিলেন
রঘুরাম রাজন।
২০০৫ সালের
তার বিখ্যাত
এক ভাষণে
রাজন স্পষ্টভাবে
কাঠামোগত ও
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন
সম্পর্কে সাবধান
করেছিলেন। বলেছিলেন,
তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ
থেকে এর
মানে আর্থিক
ব্যবস্থার ঝুঁকিকে
আরো ভালোভাবে
বৈচিত্র্যায়িত করা
হলেও বাস্তবে
তার উল্টোটা
ঘটতে পারে।
কাঠামোগত ও
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন
ঝুঁকিকে আরো
কেন্দ্রীভূত করতে
পারে। ওই
সময় রাজনের
ওই মন্তব্য
নিয়ে ব্যঙ্গ
করা হয়েছিল।
সাবেক মার্কিন
অর্থমন্ত্রী ল্যারি
সামার্স একাই
নন, তাকে
অনেকেই পশ্চাত্মুখী
বা
প্রযুক্তিবিরোধী
মনে করেছিলেন।
এ ঘটনা
মনে পড়ছে
বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান
ব্যাপক সরবরাহ
ঘাটতির কারণে।
সরবরাহ দিকের
অভিঘাতে গ্যাস,
ট্রাক ড্রাইভার,
কার্বন ডাই-অক্সাইড,
খেলনা, অ্যাসেম্বলিংয়ে
প্রস্তুত আসবাব
পণ্য, আইফোন,
কম্পিউটার চিপসহ
আরো অনেক
কিছুর বাজার
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি
কভিডের বিপর্যয়
থেকে ঘুরে
দাঁড়ানোর প্রাক্কালে
এ ধরনের
সরবরাহ অভিঘাতগুলো
কি কেবল
সাময়িক ব্যাহতকরণের
(টেম্পোরারি ডিজরাপশন)
বিষয়টি প্রমাণ
করে নাকি,
তার পরিবর্তে
এটি বৈশ্বিক
উৎপাদন ব্যবস্থার
ভাঙনেরও ইঙ্গিত
দেয়? সেটিই
এখন প্রশ্ন।
শেষোক্ত ক্ষেত্রে
২০০৮ সালের
বৈশ্বিক আর্থিক
পতন ঠেকাতে
শীর্ষ কেন্দ্রীয়
ব্যাংকগুলোর গৃহীত
হস্তক্ষেপের মতো
সমতুল্য সরবরাহ
নিগড় পুনরুদ্ধারের
হস্তক্ষেপগুলো তাহলে
কী হবে?
আজকের সরবরাহ
অভিঘাত এবং
২০০৮ সালের
আর্থিক অভিঘাতের
মধ্যকার তুলনা
বেশ লক্ষণীয়।
প্রতিটি সংকটের
আগে বিরাজমান
অনুমান ছিল
যে বিকেন্দ্রায়িত
বাজারগুলো যথেষ্ট
স্থায়িত্বশীলতা দেবে—হয়
আর্থিক ঝুঁকি
প্রসারিত করার
মাধ্যমে নতুবা
সরবরাহের বৈচিত্র্যপূর্ণ
বিকল্প নিশ্চিত
করার মাধ্যমে।
কিন্তু বাস্তবে
তেমনটি হয়নি।
এক্ষেত্রে জ্বালানি
খাতের উদাহরণ
টানা যায়।
জ্বালানি খাতে
জাতীয় স্বয়ংসম্পূর্ণতা
থেকে ইউরোপের
দেশগুলো ধারাবাহিকভাবে
বিশ্ববাজারের অতিনির্ভরতার
দিকে এগিয়েছে।
যেমন ইউরোপীয়
ইউনিয়ন ২০০৮
সালে প্রক্রিয়া
উদারীকরণ শুরু
করেছিল। ওই
অঞ্চলজুড়ে গ্যাস
ও বিদ্যুতে
নতুন প্রতিযোগিতা
সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই
এটা করা
হয়েছিল। কেউ
কেউ আগে
যদিও সরবরাহ
নিরাপত্তার প্রভাব
সম্পর্কে উদ্বেগ
প্রকাশ করেছিল,
তবু বিশ্ববাজার
থেকে ইউরোপীয়
অর্থনীতিগুলোকে জ্বালানি
আমদানির সুযোগ
দিতে প্রয়োজনীয়
আইনি সংস্কার
করে এগিয়ে
এসেছিলেন নীতিনির্ধারকরা।
কিন্তু অধিকাংশ
বিশ্লেষক ও
নীতিনির্ধারকই অনুমান
করতে ব্যর্থ
হয়েছেন যে
গ্যাস ও
আরো অনেক
পণ্য সরবরাহের
পথে খোদ
বিশ্ববাজারই বাধা
বা তোরণরক্ষক
হয়ে দাঁড়াবে।
সেদিক থেকে
উদারীকরণসৃষ্ট সরবরাহের
অনুমিত বৈচিত্র্যায়ন
মনে হয়
অলীক, অস্তিত্বহীন।
সেমিকন্ডাক্টর কিংবা
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে
ব্যবহূত কার্বন
ডাই-অক্সাইডসহ
(সারের একটি
উপজাত পণ্য)
অনেক পণ্যের
সরবরাহ আরো
কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
কয়েক দশকের
বেশি সময়
ধরে অধিক
বিশেষায়িত সংযোগে
বিভাজিত বৈশ্বিক
উৎপাদন নিগড়
অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন
শিল্পের সরবরাহ
অভিঘাতের মধ্যে
ঘনিষ্ঠ আন্তঃসম্পর্ক
সৃষ্টি করেছে—যেমনটা
সার, খাদ্য,
সেমিকন্ডাক্টর কিংবা
গাড়ির ক্ষেত্রে
ঘটেছে।
আবার ট্রাকচালক,
শিপিং কনটেইনার
কিংবা যুক্তরাজ্যে
পেট্রলসহ কিছু
বিষয়ের ঘাটতি
প্রত্যক্ষভাবে সরবরাহ
নিগড়ে সংযোগ
স্থাপনকারী লজিস্টিকসে
নেতিবাচক প্রভাব
ফেলেছে। ফলে
নাজুকতাগুলো দ্রুত
আপনাআপনি সম্প্রসারণ
হয়েছে। বৈশ্বিক
উৎপাদন ব্যবস্থার
ব্যাপকভাবে বিশেষায়িত,
ত্বরিত বিন্যাস-ডিজাইন
উল্লেখযোগ্য সুফল
দেয়, তবে
এর দুর্বলতাগুলো
এখন দৃশ্যমানভাবে
স্পষ্ট হচ্ছে।
কাজেই এ
পদ্ধতিগত স্থায়িত্বশীলতার
ঘাটতি সম্পর্কে
নীতিনির্ধারকদের কীভাবে
ভাবনাচিন্তা করা
উচিত এবং
কীভাবেই-বা
এটা বদলানো
যাবে? এটি
এক বড়
প্রশ্ন। নর্থওয়েস্টার্ন
ইউনিভার্সিটির বেনজামিন
গোলাব দেখিয়েছেন
যে কিউইং
থিওরি আমাদের
একটা অন্তর্দৃষ্টি
দেয় যে
একটা কার্যকর
ব্যবস্থায় ছোট
একটা পরিবর্তন
(যেমন সুপার
মার্কেট চেকআউট
লেন দুটো
থেকে একটাই
নামিয়ে আনা)
অপেক্ষার সময়
কতটা বাড়াতে
পারে। বিপরীতক্রমে,
একটি ব্যবস্থায়
কিছুটা শিথিলতা
কিংবা অন্তর্ভুক্তিমূলক
পরিসর বিপুল
স্থায়িত্বশীলতা যোগ
করতে পারে।
একইভাবে ধ্রুপদী
কবওয়েব মডেল
আমাদের দেখায়
যে সময়
শিথিলতা বা
দীর্ঘসূত্রতা কীভাবে
বাজারে অস্থিতিশীলতা
সৃষ্টি এবং
চাহিদা ও
সরবরাহে ব্যাপক
ওঠানামা ঘটাতে
পারে। যদি
দাম সংকেতে
সরবরাহের চেয়ে
চাহিদা কম
সাড়া দেয়
এবং ভবিষ্যৎ
প্রাক্কলন অযথাযথ
হয়, তাহলে
সরবরাহকারীদের পদক্ষেপ
গ্রহণে দেরি
উদ্বায়িতা উসকে
দিতে পারে।
ডব্লিউ ব্রায়ান
আর্থারের বিখ্যাত
এল ফ্যারল
বার প্রবলেম
(যেটি সময়ান্তরে
গৃহীত সিদ্ধান্ত
ও প্রাক্কলনের
প্রয়োজনীয় সমন্বয়
করে) একই
ধরনের অস্থিতিশীল
আউটকাম সৃষ্টি
করে। আবার
ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড
কোম্পানির টেরা
এলাস যেমনটা
উল্লেখ করেছেন
যে সরবরাহ
নিগড়কে জটিল,
অ-রৈখিক
গতিশীল ব্যবস্থা
হিসেবে চিন্তা
করেই সিস্টেম
ডিনামিক্স উদ্ভাবন
করা হয়েছিল।
কাজেই বিদ্যমান
ঘাটতির সমস্যা
বোঝার জন্য
প্রচুর মেন্টাল
মডেল রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
চ্যালেঞ্জ হলো
দ্রুত স্থিতিশীলতা
ফিরিয়ে আনা
এবং ঘাটতি
প্রশমন করা,
ছুটির মৌসুমে
খেলনা, গ্যাসসহ
অত্যাবশ্যক পণ্যের
সংকটের মুখোমুখি
যেন আর
মানুষকে হতে
না হয়।
একটা বড়
প্রাধিকার হতে
হবে ভালো
তথ্য ও
সরকারের ব্যবসায়িক
সুমতি নিশ্চিত
করা। বিশ্বায়নের
৩০ বছর
পরও বৈশ্বিক
সরবরাহ নিগড়ে
পণ্যপ্রবাহের ওপর
বিস্তারিত ও
প্রকাশ্যে প্রাপ্ত
তথ্য আশ্চর্যরকমভাবে
কম। এ
অবস্থায় মন্ত্রণালয়গুলোর
সেই ধরনের
প্রকৌশলভিত্তিক শিল্পজ্ঞানের
পুনরুজ্জীবন প্রয়োজন,
শিল্পনীতি একটি
প্রধান সরকারি
কাজ হিসেবে
বিবেচিত হওয়ার
সময়গুলোয় যেটি
খুব সাধারণ
একটা ব্যাপার
ছিল।
তবে মনে
রাখতে হবে
যে স্বল্পমেয়াদে
বিকেন্দ্রায়িত বাজার
ও দাম
সংকেত হলো
সমস্যা; এটি
কোনো সমাধান
নয়। সরকারগুলোকে
হয় পেট্রলের
সরবরাহ বাড়িয়ে
নতুবা ভর্তুকি
বাড়ানোর মাধ্যমে
ঘাটতির কিছুটা
অবশ্যই কমাতে
ব্যবস্থা নিতে
হবে।
যখন তাত্ক্ষণিক
সরবরাহ উদ্বেগ
প্রশমিত হবে,
তখন প্রতিষ্ঠান
ও নীতিনির্ধারকদের
অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদে
উৎপাদন ব্যবস্থায়
তারা কী
ধরনের বীমা
কিংবা পরিসর
বিনির্মাণ করতে
চায়, সেটি
নিয়ে ভাবতে
হবে।
২০০৮ সালের
পর ব্যাংকগুলোকে
যেমনটা মূলধন
বাফার বাড়াতে
হয়েছিল, সম্ভবত
আমাদেরও এখন
ত্বরিত উৎপাদন
ব্যবস্থা (জাস্ট
ইন প্রডাকশন)
থেকে বেরিয়ে
আসতে হবে
এবং সরবরাহ
নিগড়ের ঝুঁকির
আলোকে উৎপাদনশীলতাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত
করতে হবে।
নইলে সরবরাহের
চলমান মহাবিপর্যয়
রোধ এবং
ভবিষ্যৎ সরবরাহ
অভিঘাত মোকাবেলা
করা যাবে
না।
[স্বত্ব:
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
]
ডিয়ান কোয়েল:
ক্যামব্রিজ
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক
পলিসির অধ্যাপক
‘মার্কেটস,
স্টেট অ্যান্ড
পিপল: ইকোনমিকস
ফর পাবলিক
পলিসি’ গ্রন্থের
লেখক
ভাষান্তর: হুমায়ুন কবির










