‘অগ্নিকাণ্ড’ শব্দটি সর্বদাই চরম উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অগ্নিকাণ্ডের ফল সবসময়ই একমুখী। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে প্রাণহানি অগ্নিকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিণতি। আগুনে পুড়ে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা নিদারুণ পীড়াদায়ক। বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগী ও নিহতদের স্বজনের কান্না-হাহাকার-আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠা পরিবেশ অনাকাঙ্ক্ষিত-অনভিপ্রেত। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডে বিপুল প্রাণহানির পরও কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও সরকার কেউই এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অগ্নিকাণ্ড ‘নিয়মিত দুর্যোগ’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। মানবিক বিপর্যয়কে সঙ্গে নিয়ে রুটিন বিরতিতে ফিরে আসছে ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ড; কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। পুড়ে ভস্মীভূত হচ্ছে সহস্র-কোটি টাকার সম্পদ। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের কাঠামোগত এসব ত্রুটি পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। একদিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনায় বিপুল মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, যা উন্নয়নের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব ঘটনা দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিধ করছে।
দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সিলেটে সবচেয়ে কম, সর্বোচ্চ ঢাকায়। এখন বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি বাড়ছে। গত এক দশকে দেশে ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কয়েক হাজার। এ সময়ে আগুনের ভয়াল গ্রাসে পুড়ে মারা গেছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। বহু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আহত হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি। ‘ব্যবস্থাপনার তীব্র ঘাটতি’ অগ্নিকাণ্ডের প্রথম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। গুদাম ও কারখানায় আগুন লাগার জন্য দায়ী সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, সর্বোপরি আইন না মানার প্রবণতা। তাছাড়া সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডসম্পর্কিত ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী তথা অনিয়ম-অবহেলায় জড়িতদের বিচার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা বারবার অগ্নিকাণ্ডে রসদ হিসেবে কাজ করছে। এক্ষেত্রে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপনে ব্যর্থতার দায় পাশ কাটানোর সুযোগ সরকারের নেই। অনেক ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকছে না, নেই যথাযথ প্রশিক্ষণও। আগুন নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার ঘাটতি ও যন্ত্রপাতির অভাব বড় উদ্বেগের কারণ। যথাযথ তথ্যের অভাবেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না এবং প্রাণহানি বাড়ছে। প্রতিনিয়ত মানুষ অগ্নিকাণ্ডে মারা গেলেও প্রতিরোধে কোনো কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নেই। বড় কোনো অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটলে কিছুদিনের জন্য ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হতে দেখা যায়। কিছুদিন অতিবাহিত হলেই কাজের গতি ফেরে আগের চেহারায়। তদন্ত কমিটি, তাত্ক্ষণিক কিছু আর্থিক সহায়তা, দোষীদের গ্রেফতারেই সীমাবদ্ধ থেকে যায় কার্যক্রম। ব্যাপক প্রচারণা, আইনের প্রয়োগ কিংবা কার্যকর ব্যবস্থা হাতেগোনা। অগ্নিকাণ্ডের রশি টেনে ধরতে আইন প্রয়োগের ওপর জোর দিতে হবে সর্বাগ্রে। সরকারকে গতিশীল হতে হবে। বিধিবিধান মানতে বাধ্য করার পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা দূরীকরণে সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তরিক হতে হবে। দেশে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকলেও তা যথোপযুক্ত নয়। আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে বড় অগ্নিকাণ্ডগুলো স্বল্প সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে তো আগুন নেভাতে গিয়ে মারাই গেলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়াতে হবে। নিয়মিত তদারকি ও মহড়ার পাশাপাশি এ বাহিনীর আধুনিকায়নে গুরুত্বারোপও সময়ের দাবি।
অন্যান্য দুর্ঘটনার মতো এবারো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোর অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণসংক্রান্ত তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হতাশার বিষয় হলো, এমন দুর্ঘটনায় আগেও কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও সুপারিশও এসেছে। কিন্তু কোনোটিরই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। এবারো যে তদন্ত কার্যক্রম একই পরিণতি বরণ করবে না, তার নিশ্চয়তা নেই। এর আগে পুরান ঢাকায় রাসানিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডে বিপুল মানুষের প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি বেশকিছু সুপারিশ করেছিল, যার অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। বাস্তবায়ন হলে আজ হয়তো এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। জানা যাচ্ছে, কনটেইনার ডিপোতে কী পরিমাণ রাসায়নিকের মজুদ ছিল তা কেউ জানত না। এমনকি রাসায়নিকের মজুদ রাখতে কোনো নিয়মও মানেনি ডিপো কর্তৃপক্ষ। এখানে ডিপো কর্তৃপক্ষের যেমন উদাসীনতা রয়েছে তেমনি সরকারি কর্তৃপক্ষেরও ব্যর্থতা রয়েছে। উভয়কেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সাভারের রানা প্লাজা ধস-পরবর্তী ব্যাপক সংস্কারের মধ্য দিয়ে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ একটি পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। আশা করি, সীতাকুণ্ডের দুর্ঘটনায় প্রশাসনের টনক নড়বে এবং ডিপো ও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য যত গতিশীল হচ্ছে, ঠিক ততই এ ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।
যেকোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হলো দুর্ঘটনার পূর্বশর্ত ও অন্তর্নিহিত কারণগুলো নির্মূল করা, যেন পরবর্তী সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে। আর যদি কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেই যায়, সেক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত করে তার পেছনের কারণ উন্মোচন করা এবং ভবিষ্যতে আর যেন এ রকম দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে তার জন্য যথাযথ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেয়া। এক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা লক্ষণীয়। বাংলাদেশে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক-নৌ-রেলপথে দুর্ঘটনা, আগুনে পুড়ে, রাসায়নিক বিস্ফোরণে—নানাভাবে মানুষ নিহত ও জখম হয়। প্রাণ-প্রকৃতি বিপন্ন হয়, কিন্তু সেসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন পূর্বশর্ত ও অন্তর্নিহিত কার্যকারণ শনাক্ত করে তা দূর করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয় না। দুর্ঘটনার পর রুটিন অনুসারে এক বা একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেসব তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয় না। প্রকাশিত হলেও তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয় না। তদন্তেও অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তিগত-গোষ্ঠীগত স্বার্থে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসে না। ফলে সমস্যার প্রকৃত সমাধান পাওয়া যায় না। আবার তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না। দুর্ঘটনার কারণে বহু ক্ষেত্রে জীবন ও সম্পদহানির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণও দিতে হয় না, জবাবদিহিও করতে হয় না। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত যেভাবেই হোক যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলে, অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ থাকলে, সতর্কীকরণ (ফায়ার অ্যালার্ম), বহির্গমন (ফায়ার এস্কেপ), আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় জলাধার ইত্যাদি থাকলে এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়া দেয়া হলে আগুন লাগলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়, এমনকি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলেও ফায়ার এস্কেপের মাধ্যমে মানুষকে সরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলাদেশের অগ্নিদুর্ঘটনাগুলোয় দেখা যায় যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম, ফায়ার এস্কেপ ইত্যাদি না থাকায় বা থাকলেও সেটা বন্ধ থাকার কারণে বহু মানুষ হতাহত হয়; যা অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও তা মোকাবেলার কাঠামোগত সমস্যার বিষয়টিই সামনে নিয়ে আসে।
বিশ্বের যে দেশ যত বেশি উন্নত তার দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাও তত বেশি। তাদের আইন ও আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াও অনেক কঠিন। ফলে প্রতিটি বিষয়েরই তদারক হয় যথাযথ। এতে দুর্ঘটনাও কমে আসে বা দুর্ঘটনা ঘটলেও তার জন্য জবাবদিহিতা করতে হয়। বাংলাদেশে এ বিষয়টির অনুপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় মানের প্রশ্ন সবসময়ই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। দ্রুত উন্নয়ন ও বাণিজ্য বাড়াতে গিয়ে সরকার অনেক সময় নীতি-নিয়মের প্রশ্নে ব্যাপক ছাড় দিয়েছে। উন্নয়নের একটি পর্যায়ে এটি গ্রহণযোগ্য হলেও ‘টেক অফ’ পর্যায়ে এটি মোটেই কাম্য নয়। শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশকে টেকসই করতে হলে নিয়ম পরিপালনে আরো কঠোর হতে হবে। শুধু আর্থিক উন্নতিকে উন্নয়ন বলে গণ্য করার সময় শেষ হয়েছে অনেক আগেই, এখন দেখা হচ্ছে উন্নয়নের মান কেমন। নিম্ন মানসম্পন্ন উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিকাশ দিয়ে খুব বেশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়।
সাধারণত কনটেইনার ডিপো করতে হলে ফায়ার লাইসেন্স দরকার হয়। আর কোনো দাহ্য পদার্থ বা কেমিক্যাল থাকলেও তা জানিয়ে রাখতে হবে ফায়ার সার্ভিসকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার কিছুই করা হয়নি। ফায়ার সার্ভিস বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালের অনেক ড্রামের উপস্থিতি পেয়েছে এবং এগুলোর ফায়ার লাইসেন্স আছে কিনা তা তারা তদন্ত করে দেখছে। কিন্তু এ তদারকির কাজ আগেই করা দরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিপো করার অনুমতি পেলেও সব কমপ্লায়েন্স মানা হয়েছে কিনা কর্তৃপক্ষের তা নজরে রাখা দরকার ছিল। বাংলাদেশ এখন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর প্রকল্প বাস্তবায়নে করছে। তাই অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে সনাতন ব্যবস্থায় ইতি টানতে হবে। আগুন নেভানোর চেয়ে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে আমাদের বেশি মনোযোগ দিতে হবে। স্থানীয় সরকারকে নিয়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে বড় বড় যন্ত্রপাতি লাগবে না; লাগবে শুধু সদিচ্ছা।
বাংলাদেশে নিয়মিত ঘটতে থাকা বিভিন্ন দুর্ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এমন সব কাঠামোগত কারণে বারবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যার অধিকাংশ কারণই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা থাকার কথা এবং সুনির্দিষ্ট কতগুলো পদক্ষেপ নিলে সেসব দুর্ঘটনার হার বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু নানা কারণে এই অতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো না নেয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য যে বাড়তি বিনিয়োগ করতে হয়, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হলেও তাত্ক্ষণিক লাভ-লোকসান বিবেচনায় অনেকেই এ বিনিয়োগটুকু করতে চান না। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দেখে দুর্ঘটনা ঘটলে তাদের কোনো শাস্তি বা ক্ষতিপূরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না, তাহলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিনিয়োগের কোনো তাগিদ সেই প্রতিষ্ঠানের থাকে না। বাংলাদেশে খুব কম ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার জন্য কোনো কারখানা বা যানবাহন বা কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে অনুমোদন ও তদারককারী প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের জবাবদিহি ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। বিশ্বের যেসব দেশে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি দুর্ঘটনার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়, সেসব দেশে দুর্ঘটনার হার অনেক কম। বাংলাদেশে এমন কোনো জবাবদিহিতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি বলেই দুর্ঘটনার কাঠামোগত ভিত্তিগুলো থেকেই যায়। এসবই বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিধ করছে।










