দুনিয়ার কেউ এখন বিশ্বাস করবে
না,
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে। যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে বা কোন দিকে যেতে পারে, আদৌ কি যুদ্ধ মাঠ থেকে আলোচনার টেবিলে গড়াবে? এ যুদ্ধের পরিণামই বা কী- এসব প্রশ্ন অনেকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ইতিহাস বলে, যুদ্ধ হলো ইচ্ছাশক্তি আর রসদের খেলা। রাশিয়া বলছে, তারা থামবে না। অন্যদিকে, ইউক্রেনও বলছে তারা অস্তিত্বের জন্য লড়ছে। অর্থাৎ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার
জন্য যে ইচ্ছাশক্তি দরকার, সেটা এখনো
তাদের মধ্যে রয়েছে। পুলিৎজার পুরস্কারবিজয়ী ও নিউইয়র্ক টাইমসের সাবেক সাংবাদিক
ক্রিস হেজেসের মতে, আফগানিস্তানের
মতো ইউক্রেনে অনেক দিন যুদ্ধ ও রক্তপাত
চলবে। যুদ্ধের নকশা সেভাবেই সাজানো হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার
অসুবিধা
যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির
সম্মুখীন হচ্ছে ইউক্রেন-রাশিয়া। বিপর্যয় এড়াতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার
উদ্যোগ নিতে তেমন দেখা যাচ্ছে না। ইউক্রেন যেহেতু যুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই শান্তি আলোচনা নিয়ে তাদের ভ্রুক্ষেপ খুব একটা নেই।
তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে তারা শান্তি আলোচনার ব্যাপারে সবুজ সংকেত পায়নি। কারণ ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র।
এখন প্রশ্ন হলো, যদি শান্তি আলোচনা না হয় এবং পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটে... তার
চেয়ে তো ‘আলোচনা’ করে ফেলাই
ভালো। কারণ পুতিন ভালো
করেই জানেন, যুদ্ধে সবকিছুই সম্ভব। যেকোনো
সময় তিনি পারমাণবিক বোমাও ফাটাতে পারেন।
গত ১০ জানুয়ারি রুশ
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছেন, ‘আমরা পরমাণু অস্ত্রের সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখব এবং যুদ্ধপ্রস্তুতি
বজায় রাখব। পরমাণু অস্ত্র আমাদের রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার
প্রধান নির্ভরতা ছিল এবং থাকবে।’
অনেকে মনে করছেন, আলোচনায় বসা মানে পুতিনের পারমাণবিক শক্তির ভয় পাওয়া। আর
প্রথম হামলাকারীর সঙ্গে আলোচনায় বসাটা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। আরেক গোষ্ঠী মনে করেন, রাশিয়ার মূল
লক্ষ্যই হলো ইউক্রেনকে নিজেদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা। সে লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা কোনো কাজে আসবে না।
তবে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের সময়
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তাদের প্রতিপক্ষ পশ্চিমারা পারমাণবিক হুমকি হ্রাসসহ বিভিন্ন
বিষয়ে সংলাপ করেছিল। সে সংলাপ আক্রমণাত্মক মনোভাবের পরিবর্তন এনেছিল। সেই সংলাপের
শিক্ষা নিয়ে আলোচনায় বসা যেতে পারে। ইউক্রেনীয়দের প্রতিনিধিত্ব করা পশ্চিমা নেতারা
রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকের জন্য আপত্তি করতে পারেন। তারা হয়তো রাশিয়াকে মোকাবেলা না করা
পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসবেন না। তবে কংগ্রেসের উদারপন্থীরা মনে করছেন, আলোচনা জলাঞ্জলি দিলে রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে।
আবার পশ্চিমারা চাইবেন, রাশিয়াকে আলোচনায় বসতে হলে হামলার জন্য ভুল স্বীকার করতে হবে। যা রাশিয়া বাস্তবিক অর্থে
করবে না। আরেকটি বিষয় হলো যুদ্ধকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া,
যাতে আলোচনার পথ এমনিই তৈরি হয়। তবে রাশিয়া যতই বিপর্যস্ত হোক না কেন, এ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ দুটোই তার আছে।
ইউক্রেনে ১১২ বিলিয়ন ডলার
মার্কিন সহায়তা
রাশিয়াকে পরাজিত করতে গত বছর
মার্কিন সরকার ১১২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছিল। অথচ রাশিয়া সামরিকে বছরে ৬০ বিলিয়ন
ডলার খরচ করে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তারা অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছিল, অর্থাৎ এক বছরে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় দাঁড়িয়েছিল ৮৪ বিলিয়ন
ডলার।
গত বছরের শুরুতে ইউক্রেনের
জন্য মার্কিন বরাদ্দ ছিল ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এরপর কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আরো
৩৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের অনুরোধ জানান। পরে কংগ্রেস ইউক্রেনে আরো ৭ বিলিয়ন ডলার
বাড়িয়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউক্রেন এক বছরে ১১২
বিলিয়ন ডলার সহায়তা পায়। এটি রাশিয়ার চেয়ে ২৮ বিলিয়ন ডলার বেশি। রাশিয়া তার
বরাদ্দকৃত অর্থ শুধু ইউক্রেন যুদ্ধেই ব্যবহার করছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার
অন্য মিত্রদের থেকে যেসব নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে, সেসব মোকাবেলায়ও খরচ করছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক
বাহিনীতে রাশিয়ার চেয়ে বার্ষিক প্রায় ২০ গুণ ব্যয় করছে।
আলোচনা থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন নেতারা ভয়ে থাকেন যে তারা যদি শত্রুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেন, তাহলে চীনসহ অন্য দোসর সামরিকভাবে মার্কিন নীতিকে প্রভাবিত
করতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের অন্য মিত্রদের পিছু হটতে বাধ্য করতে পারে।
এই ভয়ে তারা আলোচনা এড়িয়ে ভয়ানক পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছে।
আবার ইউক্রেনকে ন্যাটোয়
যোগদানে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫ অনুযায়ী, যদি জোটভুক্ত কোনো
দেশের ওপর আক্রমণ হয়, তাহলে তা
প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি রয়েছে জোটটির। এ জন্য মার্কিন নীতি শত্রুপক্ষকে ভয় দেখানো
ও মিত্র দেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংকটে পড়েছিল। এজন্য নিজ
অবস্থানে অনড় থেকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হুমকি বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটনের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ হলো, যুদ্ধের মতো
কর্মকাণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনা।
কেন পারমাণবিক বিপর্যয়ের কথা
আসছে
গত অক্টোবরে মার্কিন
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভয় ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, পুতিন যদি ইউক্রেনে পারমাণবিক হামলা চালান, তাহলে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধটা শুরু হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ
পারমাণবিক যুদ্ধের আভাস নিয়ে তৎপর (মোটামুটি প্রস্তুত) যুক্তরাষ্ট্রও। রাশিয়া ও
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোট ন্যাটো পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়াও করেছে। আগস্টের পর এ
যুদ্ধ নানা দিকে মোড় নিয়েছে। দুই পক্ষের হুমকি ও সামরিক শক্তি বেড়েছে। কাজেই
পারমাণবিক যুদ্ধ যে কেবল হুমকিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; সত্যি সত্যি যে শুরু হবে সে আশঙ্কা রয়েছে। আর এ আশঙ্কা দূর
করতে পারেননি পশ্চিমা নেতারা।
১৯৪৫ সালে জাপানে
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলার পর বিশ্বে আর এ ধরনের হামলা হয়নি। সেসময় হিরোশিমা
ও নাগাসাকি শহরে বোমা হামলায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। অনেকে
মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হয়েছিল। বোমার তেজষ্ক্রিয়া ও বিষক্রিয়ায় অনেকের ক্যানসার
ও বিকলাঙ্গ জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে ৭৭ বছর আগের পারমাণবিক বোমার চেয়ে ন্যাটো ও
রাশিয়ার কাছে যেসব বোমা রয়েছে সেগুলো ২০ গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। বর্তমান সময় যদি
সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটে, তাহলে গোটা
বিশ্বের মানবসম্প্রদায় ও প্রাণীরা এর
তেজষ্ক্রিয়ার প্রভাবে পড়বে।
যদি রাশিয়া হারে...
পুতিন মনে করেছিলেন, তিনি ‘বিশেষ সামরিক
অভিযান’
চালিয়ে কিয়েভে পুতুল সরকার বসিয়ে দেবেন। কিন্তু ইউক্রেনীয়
সরকার ও সেনাবাহিনী পুতিনের এ ইচ্ছা বুঝতে পেরে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যুদ্ধের ১০ মাস
পেরোলেও রাশিয়া কিয়েভ ও অন্য শহরগুলো দখল করতে পারেনি। উল্টো রুশ সেনাবাহিনীর
শৃঙ্খলা ও দুর্বল নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাশিয়ার সীমান্তের শহর খারকিভ দখলে
নিতেও তারা ব্যর্থ হয়েছিল। রুশ বিমানের সামর্থ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউক্রেনের আকাশ
নিয়ন্ত্রণ নিতেও ব্যর্থতা দেখা গেছে। রাশিয়ার সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে এত
প্রশ্ন থাকলেও তারা কিন্তু এখনো এ যুদ্ধে হারেনি। এ যুদ্ধে রাশিয়ার শত্রু বেশি এবং
তারা খুব সুসজ্জিত ও ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে রাশিয়া হাল ছেড়ে দেবে।
রাশিয়া যদি হারে, তাহলে
যুদ্ধ-পরিবর্তী ইউক্রেনের অবস্থা হবে ভয়াবহ।
ইউক্রেনীয়রা যখন কের্চ ব্রিজ
গুড়িয়ে দেয়া ও খেরসন শহর পুনরুদ্ধার উদযাপন করছিল, ঠিক তখন রুশরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভের
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ট্রান্সমিশন সিস্টেম ধ্বংস করা শুরু করেছিল। এটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে নিন্দা করা হয়েছিল। কিন্তু এ
ধরনের ঘটনা ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রও করেছিল ইরাকে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে
ইরাকের বিদ্যুৎ স্টেশন, সাব-স্টেশন ও
ট্রান্সমিশন সিস্টেমগুলো উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ইরান একই উপায়ে সৌদি আরবের তেল খনিতে হামলা চালিয়েছিল।
ইউক্রেনীয়রা গত অক্টোবর থেকে আলো, তাপ, বিশুদ্ধ পানি
ও সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে রয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় তাদের
কারখানা,
খামার ও অফিসের কাজ করতে পারছে না।
বিস্তৃত অর্থে, যুদ্ধের প্রভাব শুধু ইউক্রেনের মধ্যেই অনুভূত হচ্ছে না।
সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একেক দেশ ভিন্নভাবে এ ক্ষতির মুখে পড়ছে।
যেমন রাশিয়ার সস্তা তেল ও
গ্যাস তারা পাচ্ছে না। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো বেশি সংকটে পড়েছে। তবে এ সংকট যুক্তরাষ্ট্রকে তেমন প্রভাবিত করছে না। বরং ন্যাটো আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। রাশিয়ার হয়তো এ যুদ্ধে শক্তি কমবে। কিন্তু তারা আশা করে, যুদ্ধে লাভবান হবে।
যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের
সহযোগী পরিচালক মাইকেল ক্লার্কের মতে, আগামী বসন্তে ইউক্রেনে নতুন করে হামলা করতে পারেন পুতিন। আর
এ হামলা চলমান যুদ্ধের ভাগ্যনির্ধারক হতে পারে। তবে যুদ্ধে এগিয়ে যেতে ইউক্রেনীয়রা
আরো সুসজ্জিত ও অনুপ্রাণিত। তারা মস্কোর ওপর চাপ বহাল রাখবে।
পুতিন জানিয়েছেন, নতুন নিযুক্ত প্রায় ৫০ হাজার সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।
আরো আড়াই লাখ সেনা এ বছর যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন
বাহিনীর সাবেক কমান্ডিং জেনারেল বেন হজস মনে করেন, যুদ্ধের সবকিছু এখন ইউক্রেনের পক্ষে। ইউক্রেনই এ যুদ্ধে জয়ী
হবে। আর তা সম্ভবত ২০২৩ সালেই হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শীতকালে যুদ্ধের গতি কমবে। অন্যদিকে, এ মৌসুমে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি
থেকে যুদ্ধের নানা সরঞ্জাম ইউক্রেনে যাচ্ছে। কাজেই রাশিয়ার চেয়ে ইউক্রেনীয় সেনারা
শীতের পরিস্থিতির সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খেয়ে চলতে পারবে।
ইউক্রেন কি হারানো অঞ্চল ফিরে
পাবে?
ইউক্রেন যুদ্ধের ৩২৪ দিন পেরোলেও ‘সামরিক সমাধানের’ পথ দেখা যাচ্ছে না। দুই পক্ষ সমঝোতা থেকে অনেক দূরে রয়েছে।
২০২২ সালের ২৪ মার্চের আগে ইউক্রেনের দাবি ছিল, ২০১৪ সালের আগের সীমানা অর্থাৎ দোনবাস ও ক্রিমিয়া তাদের
ফেরত দিতে হবে। গত মার্চে তুরস্কের আলোচনায় রাশিয়া এ দাবিতে রাজিও হয়েছিল।
গত ৫ ডিসেম্বর মার্কিন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনি ব্লিংকেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছিলেন, যুদ্ধের লক্ষ্য এখন ‘গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চল ফিরিয়ে নেয়া’। তবে রাশিয়া
দখলকৃত সমস্ত অঞ্চল ফেরত দেবে, তা আশা
করা বাস্তবসম্মত নয়।
যুদ্ধবিশারদদের মতে, ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে যুদ্ধ
শেষ করেছে, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনেও
হয়তো তেমনটাই হবে।
কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ
অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক বারবারা জ্যানচেটার মতে, পুতিন ভেবেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে অন্য দেশগুলো বেশি মাথা ঘামাবে না। এটিই
পুতিনের গুরুতর ভুল। তার এ ভুল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে। আপাতত এ যুদ্ধের শেষ দেখা
যাচ্ছে না।
ওয়ার ইন দ্য এজ অব ট্রাম্পের
লেখক প্যাট্রিক ককবার্ন বলেছেন, ইউক্রেন
যুদ্ধ আলসারের মতো হয়েছে। ইউরোপের বাকি অংশকে বিষিয়ে তুলছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ জানে না, কীভাবে এটি কেটে ফেলা যায় বা এর রক্তপাত
বন্ধ করা যায়।
লেখক: সাংবাদিক










