যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত অর্থনীতি ও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার গণভোট হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ব্যতিক্রম ঘটেছে। ট্রাম্পের শুল্ক ও পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলো ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। কারণ ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়েছে তাদের দৈনন্দিন ব্যয়ে।

নির্বাচনের আগের জরিপগুলোয় প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজন ভোটার জানান, শুল্কনীতি তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাটরা এ অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে শুল্কনীতিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, শুল্কের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প শক্তিশালী হচ্ছে এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাময়িক। তবে ভোটারদের বড় অংশ এ যুক্তিতে আশ্বস্ত হননি। অন্যদিকে প্রায় আট মাসের ইরান যুদ্ধ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। অতীতে কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে এবার যুদ্ধের মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে অর্থনৈতিক অভিঘাত বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকদের একাংশও যুদ্ধ নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্পের বাণিজ্য ও যুদ্ধনীতিতে বাধা দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাজেট, তদন্ত ও যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে পারবেন। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকায় নীতিগত পরিবর্তন নিশ্চিত নয়।

নির্বাচনে ভোটাররা তাদের রায় দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন, ডেমোক্র্যাটরা সেই রায়কে নীতিগত পরিবর্তনে কতটা রূপ দিতে পারবেন।

[দ্য বিজনেস টাইমসের এক নিবন্ধে]

লিওন হাদার: মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক