একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের পর থেকে আমাদের কৃষিনীতির মূল লক্ষ্য বিবেচিত হয়ে এসেছে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রারম্ভিক বছরগুলোয় দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। সৃষ্টি হয়েছিল দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি। খাদ্যাভাবে মারা গিয়েছিল উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ। প্রথম দিককার এ পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতাই কৃষিনীতিতে আলোচ্য লক্ষ্য নির্ধারণে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। ওই ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি যেন পুনরায় না ঘটে, সেজন্য সরকারগুলো খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছিল। এসব প্রচেষ্টাই ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ দেশে ফলমূল-খাদ্যশস্য উৎপাদন সাড়ে তিন গুণ বাড়াতে সাহায্য করেছে। শাকসবজি, পোলট্রি ও মাছ উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। এসব অগ্রগতি খাদ্যের ভোগ তাত্পর্যজনকভাবে বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে নিজেদের অবদান মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে কোনো সুযোগই আমাদের মন্ত্রীরা, বিশেষ করে কৃষিমন্ত্রীরা হাতছাড়া করেননি। 

তবে এ ধরনের দাবি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। সাধারণ দৃষ্টিতে কোনো পণ্যে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণতা’ মানে এটা বোঝায় যে পুরো অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে দেশে পণ্যটি পর্যাপ্ত উৎপাদন হয়, আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। যেহেতু আজকের বিশ্বে অধিকাংশ পণ্যই রফতানি ও আমদানীকৃত, সেহেতু স্বয়ংসম্পূর্ণতার সংজ্ঞা আরো বিস্তৃত হয়ে এমন এক বাজার পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো পণ্যের নিট রফতানি (রফতানি থেকে আমদানি বাদ দিয়ে) ধনাত্মক। যদি নিট রফতানি ঋণাত্মক হয় (রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি) তাহলে ঘাটতি দেখা দেয়। কাজেই এটি ঘটেছে যে বাড়তি উৎপাদনের মধ্যেও বাংলাদেশকে সবসময়ই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য (চাল ও গম) আমদানি করতে হয়েছে এবং আমরা কখনই তাত্পর্যজনক পরিমাণ খাদ্যশস্য রফতানি করতে পারিনি। সাধারণভাবে এটা ইঙ্গিত দেয় যে দেশ কখনই খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল না, সবসময়ই ঘাটতিতে ছিল। অতএব, মন্ত্রী ও অন্যদের দাবিকে বিভ্রান্তিকর মনে হয়।

স্বয়ংসম্পূর্ণতা সম্পর্কে এসব বিচিত্র মন্তব্যের খুব সম্ভবত কারণ হলো যে মন্ত্রীরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা দাবির ক্ষেত্রে উল্লিখিত সংজ্ঞা ব্যবহার করেননি। তারা সম্ভবত স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম বছরগুলোয় দেশে গড়ে ওঠা ক্যালরিভিত্তিক ধারণা ব্যবহার করেছেন, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ যা এখনো ব্যবহার করেন। প্রথম দিকে নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তা হলো, স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। কাজেই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ক্যালরি হিসাব করেছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। উদাহরণস্বরূপ, বিবিএসের হিসাব করা পুষ্টিমান পরিপূরণে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিমাণ ছিল দৈনিক ২১২২ কিলোক্যালরি। তারপর হিসাব করা হয়েছিল বিদ্যমান খাদ্যাভ্যাসে নির্ণীত ক্যালরি নিশ্চিতে দৈনিক জনপ্রতি কতটা খাদ্যশস্য প্রয়োজন। এর ভিত্তিতেই বার্ষিক চাহিদা সহজেই হিসাব করা হয়েছিল। প্রতি বছর দেশে প্রয়োজনীয় মোট খাদ্যশস্যের পরিমাণ নির্ধারণে এটাকে মিডইয়ার পপুলেশন দিয়ে গুণ করা হয়েছিল। যদি কোনো সময় এই হিসাবকৃত পরিমাণের চেয়ে বাড়তি উৎপাদন হয়, সেটিকে মনে করা হয়েছিল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। এই মানদণ্ডে চলতি শতকের শুরু থেকেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। 

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার এ সংজ্ঞা ব্যবহারে কিছুটা যুক্তি ছিল—যখন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ন্যূনতম ক্যালরি মেটানোর জন্য যথেষ্ট খাদ্য উৎপাদন আমরা উৎপাদন করতে পারেনি। এ ঘাটতি ক্ষুধা ও এর পরিণামগত মৃত্যু বা অকালমৃত্যু প্রতিরোধে কতটা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, সেটিই দেখিয়েছিল। তবে খাদ্য উৎপাদন যখন ন্যূনতম প্রয়োজন/চাহিদা ছাড়িয়েছে, তখন এ সংজ্ঞা তার ব্যবহারিক উপযোগিতা হারিয়েছে। এ সংজ্ঞায় দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার দুই দশক পরও খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি বিভ্রান্তিকর এবং তার কোনো ব্যবহারিক তাত্পর্যও নেই।

যখন ভোগ ন্যূনতমের নিচে সীমিত থাকে, তখন শুরুতে উল্লেখ করা বাজারভিত্তিক সংজ্ঞা ধারণাগত ও ব্যবহারিক উভয় দিক থেকে আরো কার্যকার ও সুফলপ্রদায়ী। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যথাযথ নীতি প্রয়োগের জন্য এটি যথার্থ ভিত্তি হতে পারে, যদি সঠিকভাবে খাদ্যবাজারের বিবর্তনশীল ঘাটতি প্রাক্কলন করা যায়, তাহলে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ (যেমন আমদানি ও মজুদ বৃদ্ধি) নিতে এবং বাজার অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সরকার পর্যাপ্ত সময় পাবে।

যখন বাজারভিত্তিক সংজ্ঞা প্রয়োগ করা হয়, তখন খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিষ্প্রভ হয়ে যায় এবং বিপুল ঘাটতি সামনে আসে। প্রকৃতপক্ষে, জন্মের পর থেকেই বাংলাদেশকে তীব্র খাদ্য ঘাটতিতে ভুগতে হয়েছে, যা পূরণ করা হয়েছিল খাদ্য আমদানির মাধ্যমে। এ ঘাটতি চলতি শতকের শুরু নাগাদ ধীরে ধীরে কমছিল, তবে তার পর থেকে ঘাটতি বেড়ে চলছে (তথ্য ইনডেক্স মুন্ডি থেকে প্রাপ্ত)। 

গত পাঁচ বছরে এটি সত্যিই বেড়েছে, যখন খাদ্যশস্যের বার্ষিক গড় আমদানি অনুপাত হিসেবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ১৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই গড় গত শতকে (১৯৭২-৭৩ থেকে ১৯৯৯-২০০০) লক্ষণীয়ভাবে সাড়ে ১১ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। এ পরিসংখ্যান দেখলে মনে হবে যে ক্যালরিভিত্তিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা দাবির বিপরীতে খাদ্য ঘাটতির আসলে বেশ দ্রুত অবনমন ঘটছে।

আরেক আশঙ্কাজনক প্রবণতা হলো, মূল খাদ্যশস্য চাল উৎপাদনে (একই সঙ্গে গমেরও, মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনে যার অংশ মাত্র ৩ শতাংশ) স্থবিরতা। কৃষির আধুনিকায়নে জোরালো গতি গত শতকে (১৯৭২-২০০০) প্রতি বছর চালে ৩ দশমিক ৩ শতাংশের বলিষ্ঠ প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছিল। তবে তার পর থেকে প্রবৃদ্ধির হার ২০০১-২১ পর্বে কেবল ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসে এবং আরো সাম্প্রতিক সময় ২০১১-২১ পর্বে তা কেবলই শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে আসে। এমনকি আরো শঙ্কার বিষয় হলো, ২০০৮ সাল থেকে চাল উৎপাদনের গড় প্রবৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের নিচে নেমে গেছে এবং বাস্তবিক অর্থে ২০১৩-২০ সময়পর্বে চাল উৎপাদনে কোনো প্রবৃদ্ধিই নেই। এতে মনে হবে যে গত শতকে বেশ সফল হওয়া উচ্চফলনশীল ধানের জাত (হাই ইল্ড রাইস টেকনোলজি) সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তেজ হারিয়েছে। যতক্ষণ কৃষিবিজ্ঞানীরা খাদ্যশস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর নতুন পদ্ধতি খুঁজে না পান, ততক্ষণ খাদ্যশস্য আমদানি আরো বাড়বে।

বিদ্যমান জনমিতিক প্রবণতায় আমরা আশা করতে পারি যে আগামী দশক বা পরবর্তী সময়ে দেশের জনসংখ্যা গড়ে প্রতি বছর শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ হারে বাড়বে। যদি দেশ প্রতি বছর মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) অন্তত ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে পারে তাহলে মাথাপিছু আয় ৬ শতাংশ হারে বাড়বে। আমরা যদি ধরে নিই যে খাদ্যশস্যের চাহিদার আয় স্থিতিস্থাপকতা শূন্য দশমিক ২, তাহলে আগামী দশকে প্রতি বছর খাদ্যশস্যের মোট চাহিদা প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে—ঘটনাক্রমে যা ২০০০-২১ সময় পর্বের খাদ্য চাহিদার প্রকৃত হারের প্রায় সমান। তার মানে হলো, ২০৩১ সালে খাদ্যশস্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদার পরিমাণ হবে ৫৪ দশমিক ২৬ মিলিয়ন টন। এখন যদি আমরা আরো জোরালো অনুমান করি যে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদন নতুন সহস্রাব্দে যেমনটা বেড়েছে (১ দশমিক ৭৫ শতাংশ), আগামী দশকেও সেই হারে বাড়বে তাহলে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে ৪৩ দশমিক ১২ মিলিয়ন টন। যদি উৎপাদন কম হারে বাড়ে তাহলে মোট উৎপাদনও কম হবে।

আগামী দশকে আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারি, সেটি এই সহজ হিসাবে বোঝা যায়। এমনকি খুব আশাবাদী অনুমানেও আমরা দেখছি যে ২০৩১ সাল নাগাদ ১১ মিলিয়ন টনের বেশি খাদ্যশস্যের ঘাটতি হবে, যা গত এক দশকে বার্ষিক গড় খাদ্যশস্য আমদানির দ্বিগুণ। এ ঘাটতি মেটানোর একমাত্র উপায় হতে পারে এই সহস্রাব্দে যতটা অর্জন করেছি, তার চেয়ে উচ্চহারে যতটা সম্ভব উৎপাদন বাড়ানো; কিন্তু গত দশকের অভিজ্ঞতা আমাদের ততটা আশার সঞ্চার করে না। আরেকটা উপায় হতে পারে অন্য খাদ্যশস্য উৎপাদনের দিকে যাওয়া, তবে কোনো নিশ্চয়তা নেই যে এটা ঘাটতি কমাবে। কৃষিজমি ক্রমসংকোচনের চূড়ান্ত বাস্তবতায় অন্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হবে ফসলি জমি কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে দরকার হবে খাদ্যবহির্ভূত শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি যেন খাদ্যশস্যের ক্ষতির চেয়ে কম না হয় সেটি নিশ্চিত করা। তেমনটা হলে আমাদের আরো খাদ্যশস্য আমদানি করতে হবে।

এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশ অদূরভবিষ্যতে বড় খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। অতএব, পরবর্তী দশকে আমদানিও বাড়বে। আমার মতে, স্বয়ংসম্পূর্ণতার এই বিভ্রান্তিকর ক্যালরিভিত্তিক ধারণা যেকোনো নীতি আলোচনা থেকে পুরোপুরি বাদ দেয়া জরুরি, যেহেতু এ ধরনের ধারণা সহজেই নীতিনির্ধারকদের ভুল পথে চালিত করে। এখন নজর দেয়া উচিত খাদ্যনিরাপত্তার ওপর, যেটি অধিক উন্নত ও সচ্ছল দেশগুলোয় খাদ্যনীতির অন্যতম ভিত্তি। খাদ্যনিরাপত্তা পুরো জাতির পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্যের লভ্যতাকে বোঝায়। এটি হয় পর্যাপ্ত পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে, নতুবা অন্য পণ্যগুলো রফতানি করে উপার্জিত পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে বিশ্ববাজার থেকে কিনে কিংবা উভয়ের সমন্বয়ে অর্জন করতে হবে। কিছু উন্নত বা সচ্ছল দেশ যেমন যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের খাদ্য ঘাটতি বিপুল, কিন্তু অন্য পণ্য রফতানিলব্ধ বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য আমদানি করতে পারে। খাদ্য কিনতে যতক্ষণ পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চালন করতে পারবে ততক্ষণ বাংলাদেশও অনির্দিষ্টকালের জন্য একই কাজ করতে পারবে।

অবশ্য বাংলাদেশের মতো ছোট দেশ রাজনৈতিক সংঘাত কিংবা জরুরি অবস্থায় সবসময় বিশ্ববাজার বা অন্য দেশগুলোর চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতার ওপর নির্ভর করতে পারবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি অন্তত দুবার ঘটেছে। প্রথমটি ঘটেছিল ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যের শিপমেন্ট প্রত্যাহারের মাধ্যমে। এটিকে মনে করা হয়েছিল তখনকার দুর্ভিক্ষের অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর। দ্বিতীয়টি ঘটেছিল ২০০৮ সালে ভারত কর্তৃক চাল রফতানিতে আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে, যা বৈশ্বিক চালের বাজার অস্থির করে তুলেছিল এবং চালের দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল (স্মর্তব্য যে করোনা টিকার জন্য আগাম অর্থ দিয়েও ভারত থেকে যথাসময়ে টিকা পাওয়া যায়নি সেখানে করোনাজনিত জরুরি অবস্থার কারণে)। যেহেতু ভবিষ্যতে প্রতিকূল অবস্থার কথা বাদ দেয়া যায় না, সেহেতু সবচেয়ে খারাপ পরিণতি এড়িয়ে অভ্যন্তরীণ খাদ্যবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। এ ধরনের কর্মপরিকল্পনায় কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন ব্যাপক মজুদ সুবিধা রাখা আবশ্যক। ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি উভয় সম্পর্কে অত্যাধুনিক পূর্বাভাস দেয়ার সক্ষমতা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বাড়িয়ে তুলতে হবে। তারপর দ্রুত অপ্রত্যাশিত চাহিদার প্রভাব রুখতে হবে বা কমাতে হবে। নইলে সামনের দিনে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

এমএ তসলিম: অর্থনীতিবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক