গ্রিসে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী এথেন্সসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়। খবর রয়টার্স।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে ৫৭ জন নিহত হন। বেশিরভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী। সেই দুর্ঘটনা দেশটির অব্যবস্থাপনার প্রতীক হয়ে ওঠেছে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ।
এথেন্সের সিন্টাগমা স্কয়ারে বিক্ষোভকারীরা নিহতদের নাম লাল রঙে লিখে প্রতিবাদ জানান। ‘আমি অক্সিজেন পাচ্ছি না’— দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া এক নারীর শেষ কথা ছিল এটি। আর এ কথাটিই পরিণত হয়েছে স্লোগানে।
কয়েকজন যুবক একপর্যায়ে পুলিশের দিকে পেট্রল বোমা ছুড়তে থাকলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর থেসালোনিকিতেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিসের সরকারকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে সমালোচনা করা হচ্ছে। সরকার বলছে, তদন্ত বিচার বিভাগের দায়িত্ব। তবে বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে পদত্যাগের দাবি তুলেছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ গ্রিক নাগরিক এই দুর্ঘটনাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছেন এবং ৬৬ শতাংশ মানুষ তদন্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট।
গতকাল বিক্ষোভের সমর্থনে গ্রিসে পুরো দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এতে বিমান চলাচল, রেল ও সমুদ্র পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ ছিল।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যা।








