টানা দুই মাস ধরে গাজায় ত্রাণসহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়ে রেখেছে ইসরায়েল। তেল আবিব বলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ত্রাণ বণ্টন কার্যক্রম তাদের নিয়ন্ত্রণে না হবে, অবরুদ্ধ এলাকাটিতে খাবার, জ্বালানি, পানি বা ওষুধ কিছুই ঢুকতে দেয়া হবে না। তবে জাতিসংঘ ও অন্য সহায়তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইসরায়েল সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। এতে মানবিক সহায়তার লক্ষ্য বিঘ্নিত হবে, এমনকি এর মাধ্যমে তারা বহু ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

এ বিষয়ে ইসরায়েল তাদের প্রস্তাবগুলো এখনো প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। তবে সহায়তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের আলোচনার নথি ও আরো প্রায় ৪০ পৃষ্ঠার মতো কাগজপত্র হাতে পেয়েছে সংবাদমাধ্যম এপি। সেখানে সহায়তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ ও ইসরায়েলের প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ রয়েছে। সংস্থাগুলো চায়, গাজায় ত্রাণ প্রবেশের পর সেটি বিতরণে ইসরায়েল কোনো হস্তক্ষেপ না করুক। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রস্তাব, অবরুদ্ধ এলাকায় পাঁচটি খাদ্য বণ্টন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার, যাতে তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। সব সাহায্য দক্ষিণ গাজার একটি মাত্র সীমান্ত দিয়ে ঢুকবে এবং সামরিক বাহিনী বা বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানির মাধ্যমে সে ত্রাণ বণ্টন কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।

এ প্রস্তাবে সংস্থাগুলোর উদ্বেগ, সীমিতসংখ্যক কেন্দ্রের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের অর্থ মানুষকে নিজের বাসস্থান থেকে সরতে বাধ্য করা। যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে নিষিদ্ধ। গাজায় কাজ করছে এমন ২০টি সহায়তা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এর ফলে বহু ফিলিস্তিনি স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে আটকাবস্থায় বাস করতে বাধ্য হবে। এছাড়া সাহায্য কেন্দ্রগুলোয় বিপুলসংখ্যক মানুষ জমায়েত হলে সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এবং ইসরায়েলি সেনাদের আশপাশে তা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেও মনে করছে তারা। গাজা যুদ্ধ চলাকালে একাধিকবার দেখা গেছে, ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা যখন ত্রাণবাহী ট্রাক ঘিরে ধরে, তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে বহু মানুষ নিহত হয়েছে, পদদলিত হয়েও মৃত্যু হয়েছে অনেকের। জাতিসংঘের গাজা সহায়তা সমন্বয় সংস্থার মুখপাত্র জেন্স লার্ক বলেছেন, ‘ইসরায়েলের দায়িত্ব হলো সহযোগিতা করা, আমাদের ত্রাণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা নয়।’

সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, ত্রাণ বিতরণকাজে তারা কোনো ধরনের সশস্ত্র ব্যক্তির উপস্থিতি চায় না। অক্সফামের ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নীতিবিষয়ক প্রধান বুশরা খালিদি বলেন, ‘আমাদের পক্ষে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করা ভীতিকর। এটা শুধু গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি মানবিক সহায়তা কর্মীর জন্য চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত।’

এদিকে মার্কিন নিরাপত্তা কোম্পানি সেইফ রিচ সলিউশনস নেতজারিম করিডোরের আশপাশে একটি পাইলট প্রকল্পের জন্য সহযোগীর খোঁজ করছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো পরস্পরকে এ প্রকল্পে অংশ না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও বলেছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান মানবিক অনুদানের জন্য উপযুক্ত নয়। ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে ত্রাণসহায়তার বিষয়টিও সমর্থন করে না ইইউ।