প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের সুখী দেশের তালিকা। টানা সপ্তমবারের মতো শীর্ষস্থান দখল করেছে ফিনল্যান্ড। প্রতি বছর ২০ মার্চ আন্তর্জাতিক সুখ দিবসে প্রকাশ করা হয় এই তালিকা । জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বের ১৪৩টি দেশকে নিয়ে করা হয় জরিপটি।

ফিনল্যান্ডের প্রতিবেশী দেশগুলোও রয়েছে শীর্ষ পাঁচে। ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড ও সুইডেন রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে। তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান দখল করেছে নেদারল্যান্ড। নরওয়ে অবস্থান করছে তালিকার সপ্তম স্থানে। লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া রয়েছে যথাক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম স্থানে।

তবে বিশ্বের সুখী দেশের তালিকায় ৫ম স্থানে থাকা ইসরায়েলের নাম বেশ অবাক করেছে অনেককে। চলমান হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের ভয়াবহতাই এর একমাত্র কারণ। তবে প্রতিবেদনের লেখকরা জানিয়েছে, জরিপটি তিন বছরের গড় উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে একটি নির্দিষ্ট বছরের বিপর্যয়মূলক ঘটনার প্রভাব খুব একটা প্রতিফলিত হয়নি।

এবারের তালিকায় সর্বনিম্নে রয়েছে আফগানিস্তানের নাম। এ বছর শীর্ষ ২০ থেকে বাদ পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। তালিকায় দেশটির অবস্থান ২৩তম, জার্মানির অবস্থান ২৪তম। যুক্তরাজ্য আছে ২০ নম্বরে।

অন্যদিকে তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান ১০৮তম, মিয়ানমার ১১৮তম, ভারত ১২৬তম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ রয়েছে ১২৯তম অবস্থানে। গত বছর এ অবস্থান ছিল ১১৮। সে হিসাবে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ১১ ধাপ পিছিয়েছে।

ছয়টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়। এগুলো হলো— একজন মানুষের নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা, মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা পরিস্থিতি, স্বাধীনতা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, গড় আয়ু ও দুর্নীতির মাত্রা।

তবে এই বছর প্রথমবারের মতো সুখী দেশ নির্বাচনের মানদণ্ডে যোগ করা হয়েছে দেশের নাগরিকদের বয়সভিত্তিক র‌্যাংকিং। যদিও ফলাফলে এসেছে হতাশা উদ্রেক করার মতো বিষয়। জরিপে দেখা গেছে , উত্তর আমেরিকার তরুণদের মধ্যে সুখ এতটাই দ্রুত কমে গেছে যে সেখানকার তরুণরা এখন বয়স্কদের তুলনায় কম সুখী।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যানকুভার স্কুল অফ ইকোনমিক্সের অর্থনীতির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক জন হেলিওয়েল বলেন , মানবিকতা ও সৌজন্যবোধে ফিনল্যান্ড বেশ সমৃদ্ধ।  রাস্তায় ফেলে দিলে মানিব্যাগ এখানে ফেরত দেওয়া হয়, এখানকার প্রত্যেকে একে অপরকে সাহায্য করে, দেশটিতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ সকলের মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করা হয়। তাই সবাই কমবেশি একটা সুখী জীবন যাপন করে এখানে।