তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা বলেছেন, তার উত্তরসূরি চীনের বাইরে, স্বাধীন বিশ্বের কোনো দেশে জন্ম নেবে। এই ঘোষণা মঙ্গলবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত তার নতুন বই ‘ভয়েস ফর দ্য ভয়েসলেস’-এ উঠে এসেছে। দালাই লামার এই সিদ্ধান্ত চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধকে আরো তীব্র করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
চীন বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, পরবর্তী দালাই লামাকে তারা মনোনীত করবে। তবে দালাই লামা স্পষ্ট জানিয়েছেন, চীনের মনোনীত কোনো দালাই লামাকে জনগণ মেনে নেবে না। তার মতে, নতুন দালাই লামার প্রধান দায়িত্ব হবে তিব্বতিদের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে তাদের পক্ষে কথা বলা।
দালাই লামা বলেন, একজন দালাই লামার পুনর্জন্মের উদ্দেশ্য হলো পূর্বসূরির কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাই নতুন দালাই লামা জন্মাবে স্বাধীন বিশ্বে, যাতে তিনি তিব্বতের জনগণের অধিকার ও তাদের সংস্কৃতি রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র দালাই লামাকে ‘ধর্মের ছদ্মাবরণে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম চালানো রাজনৈতিক নির্বাসিত ব্যক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। চীন দাবি করেছে, তিব্বত ‘সমৃদ্ধ ও উন্নত’ এবং দালাই লামার বক্তব্য বাস্তবতাকে বদলাতে পারবে না।
গত মাসে চীন দালাই লামাকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে শর্ত দেয় যে, তিব্বত ও তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকার করতে হবে। কিন্তু ভারতের ধর্মশালায় অবস্থিত তিব্বতি প্রবাসী সংসদ চীনের এই শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
দালাই লামার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে গত বছর তার হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর থেকে এ উদ্বেগ বেড়েছে। তবে তিনি গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ১১০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারেন।
দালাই লামা তার বইয়ে লিখেছেন, আমার মৃত্যুর পরও তিব্বতের স্বাধীনতার সংগ্রাম চলবে। তিব্বত এখনো চীনা কমিউনিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের অধীনে রয়েছে, কিন্তু জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কখনোই দমন করা যাবে না। ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে—যদি জনগণকে স্থায়ীভাবে দুঃখ-কষ্টের মধ্যে রাখা হয়, তবে কোনো সমাজ কখনোই স্থিতিশীল হতে পারে না।
দালাই লামা আরো জানিয়েছেন, ৯০তম জন্মদিনের (জুলাই ২০২৫) কাছাকাছি সময়ে তিনি উত্তরসূরি নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, তার জীবদ্দশায় তিব্বতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।










