মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এশিয়ায় সপ্তাহব্যাপী সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্যবিষয়ক আলোচনা ও অর্থনৈতিক দাবি আদায় করা। তার সফরের শুরু হয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে। ট্রাম্পের এ সফরের প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি, যার অধীনে তিনি চীন ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছেন। খবর বিবিসি।

ট্রাম্পের সফরের প্রথম দিন গতকাল তিনি ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তিনি আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নেন। দিনটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো তিনি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে একটি বর্ধিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন। এ দুই দেশের সীমান্ত বিরোধ ১০০ বছরের বেশি সময়ের পুরনো। সম্প্রতি দেশ দুটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প শুল্ক আলোচনা বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এ অর্থনৈতিক চাপের ফলেই দেশ দুটি দ্রুত যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয়।

ট্রাম্প থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বর্ধিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তি স্থাপনকারী’ হিসেবে তুলে ধরেন। একই দিনে তিনি আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে একাধিক নতুন বাণিজ্যিক চুক্তিও চূড়ান্ত করেছেন। বিশেষ করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে এসেছেন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে।

চুক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এতে সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে চীনে অতিমাত্রায় নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প দেখানোর চেষ্টা করছেন যে তিনি কেবল সামরিক নয়, বরং কৌশলগত সম্পদ নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতেও আগ্রহী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ সফরের প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহজুড়ে প্রধান এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করা শুল্কের ইস্যুগুলো সমাধান করা। সফরের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হলো আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক। ট্রাম্পের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনকে অবশ্যই মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা শুরু করতে হবে, মার্কিন কোম্পানিগুলোকে চীনা বাজারে সহজে ব্যবসা করতে দিতে হবে এবং প্রযুক্তির জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানির ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরাতে হবে।