সিরিয়ার যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠনে সহায়তা দিতে দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। খবর গার্ডিয়ান।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস এক্স- বার্তায় লিখেছেন, ‘আমরা সিরিয়ার জনগণকে একটি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করতে চাই। আমাদের সামনে হয় তাদের স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ দেয়া, নয়তো সিরিয়া আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে।’

এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থাকা সকল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হতে পারে।’

তবে ইইউ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রতিক্রিয়ায় নেয়া হয়নি। এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ার জ্বালানি ও পরিবহন খাতে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে চারটি ব্যাংক ও একটি বিমান সংস্থার ওপর থাকা বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়।

তবে সেসময় ইইউর কিছু সদস্য দেশ মনে করেছিল এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তারা আরো বিস্তৃত সহায়তার পক্ষে মত দেয়। সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের অনুগতদের মধ্যে সংঘর্ষে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৭৫৪ জনই বেসামরিক।

ইইউ সিরিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেপফুল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায়, তবে সে দেশের অভ্যন্তরে সকল ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।’