ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনার্থীসমৃদ্ধ এ জাদুঘর এর পরই সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অনিবার্য কারণবশত রোববার জাদুঘর বন্ধ থাকবে।’ তবে এর চেয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাদুঘর থেকে কিছু জুয়েলারি পণ্য খোয়া গেছে। তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি একটি সংস্কারকাজ চলা ভবনে পণ্যবাহী লিফট ব্যবহার করে অ্যাপোলো গ্যালারিতে প্রবেশ করে, যেখানে ফ্রান্সের রাজমুকুটের অবশিষ্ট অলংকারগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। ডিস্ক কাটার হাতে নিয়ে ডাকাত দল জানালা কেটে প্রবেশ করে অমূল্য গহনা নিয়ে মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যেই মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, গতকাল সকালে তিন-চারজন ব্যক্তি চেরি পিকার নামে পরিচিত একটি হাইড্রোলিক মই ব্যবহার করে বাইরে থেকে প্রবেশ করে গ্যালারি দি আপোলনে হামলা চালায়। পুরো ঘটনাটি ৭ মিনিটেরও কম সময়ে শেষ হয়।
জাদুঘরের এ অংশে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন ও সম্রাজ্ঞী ইউজেনির গহনার প্রদর্শনী চলছিল। ন্যুনেজ বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি পেশাদার দল, যারা আগে থেকেই পুরো জায়গাটি পর্যবেক্ষণ করেছিল।’
স্থানীয় দৈনিক লে পারিজিয়ান জানিয়েছে, ডাকাতরা দুটি প্রদর্শনী কক্ষ থেকে নয়টি মূল্যবান গহনা নিয়ে যায়। গ্যালারিতে প্রবেশের পর তারা দুটি কাচের প্রদর্শনী ভেঙে গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্যারিস সেন্টারের মেয়র অ্যারিয়েল ওয়েইল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এটি একেবারে সিনেমার গল্পের মতো। ভাবতেই কষ্ট হয় যে এত সহজে কেউ ল্যুভরে চুরি করতে পারে। ঘটনাটি শুধু সাংস্কৃতিক নয়, জননিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ধাক্কা।’
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিল্প কেন্দ্র ল্যুভরে প্রতি বছর ৮০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী প্রবেশ করেন। এখানে প্রাচীন ভাস্কর্য থেকে শুরু করে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ষোড়শ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম মোনালিসা সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বছরের শুরুর দিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জাদুঘরটির বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। কেননা ল্যুভর পরিচালক লরেন্স দে কার্স সতর্ক করেছিলেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে জাদুঘর ভ্রমণ করা এখন শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাদুঘরের কাচের পিরামিড প্রবেশপথের নিচের স্থান যথাযথভাবে তাপ নিরোধক নয়, শব্দ বাড়িয়ে তোলে এবং জনসাধারণ ও কর্মীদের জন্য তা অস্বস্তিকর। তিনি আরো সতর্ক করেছিলেন, পানি চুইয়ে পড়া, অবকাঠামোর ক্ষয় এবং তাপমাত্রার ওঠানামা শিল্পকর্ম সংরক্ষণে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।










