নেপালে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শুরুতে বিক্ষোভকারীদের বড় অংশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মী সুশীলা কার্কির নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কার্কি নিজেও দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু সেখানে দেখা দিয়েছে সাংবিধানিক জটিলতা। দেশটির আইন অনুযায়ী সাবেক বিচারপতিরা বিচার বিভাগের বাইরে নির্বাহী পদে থাকতে পারেন না। তবে কার্কিকে নিয়োগ দিতে সাংবিধানিক পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নিয়োগ নিয়ে জেনজি নেতাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেছে।

গতকাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেন জেনজি আন্দোলনের একদল নেতা। তবে সেখানে কিছু চূড়ান্ত হয়নি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত গতকাল আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রাথমিক আলোচনা চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আমরা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’ রাজধানী কাঠমান্ডুতে এখনো সেনা টহল অব্যাহত আছে। পরিবেশকে শান্ত মনে হলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামরিক সদর দপ্তরের সামনে প্রায়ই বিক্ষোভকারীরা জড়ো হচ্ছে এবং পরে সেনারা তাদের সরিয়ে দিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে সুশীলা কার্কির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। ২০১৬ সালে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া কার্কিকে সৎ, নির্ভীক ও আপসহীন নেতৃত্ব হিসেবে দেখছেন বিক্ষোভকারীরা। এক তরুণ কর্মী বলেন, ‘সুশীলা কার্কি সৎ, নির্ভীক ও অটল। সত্য যখন কথা বলে, তখন তা কার্কির মতো শোনায়।’

যদিও আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর ভেতরেই কার্কিকে নিয়ে ভিন্নমত আছে। কেউ কেউ তার পক্ষে, আবার কেউ সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহকে শুরুতে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। তবে তিনি দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। বালেন্দ্র নিজেও কার্কির পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। আলোচনায় এসেছেন নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান নির্বাহী কুলমান ঘিসিং ও ধরানের মেয়র হার্কা সাম্পাং। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ঘিসিংয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সংকট নিরসনে কাজ করছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমি পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছি। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর অনুরোধ করছি।’ সেনাবাহিনীও বলছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা বের করতে চেষ্টা করছে। তবে আন্দোলনের মধ্যে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ না হওয়ায় প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি দ্বন্দ্বও আছে।

আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা তরুণ কর্মীরা এখন সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কর্মী কেপি খানাল বলেন, ‘কোনো কিছুই পরিষ্কার নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে একসঙ্গে ছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতি বদলে গেছে।

এখন বড় প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন সম্ভব হবে কিনা। হলেও সেটির কাঠামো কেমন হবে। কারণ আন্দোলন পরিচালনাকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই, অনেক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে অচলাবস্থা দ্রুত সমাধান না হলে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরো গভীর হতে পারে।