২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালে জাপান তার ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হয়েছে। এবার টোকিওতে আগস্টের শেষ দিকে টানা ৯ দিন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ছিল, এটি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে আগস্ট মাসে তাপমাত্রা উঠে ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর এটিই দেশটির আবহাওয়া সংস্থার মতে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এতে রাজধানী টোকিওসহ অন্যান্য বড় শহরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবেচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বয়স্করা।

জাপানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষদের বসবাস। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে মোট ৯৯ হাজার ৭৬৩ জন শতবর্ষী ছিলেন। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৪ হাজার ৬৪৪ জন বেশি। এদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে শুধুমাত্র মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় নব্বই হাজার মানুষকে হিটস্ট্রোকের কারণে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। শুধু টোকিওতেই ১০১টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর মধ্যে ৬৬টি ক্ষেত্রে এসি থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি।

অবশ্য এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টোকিও, ওসাকা, নাগোয়ার মত বিভিন্ন শহরে বয়স্কদের জন্য এসি কেনায় বিশেষ ভর্তুকি দিচ্ছে জাপানি সরকার। ২৭০টি শীতল স্থান—‘কুলিং স্পট’ বানানো হয়েছে শুধু টোকিওর নেরিমা ওয়ার্ডেই। হিটস্ট্রোক সতর্কতায় বিশেষ ডিভাইস ও স্মার্ট ঘড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। এমনকি, স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বয়স্কদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পুস্তিকা বিতরণ ও বিনামূল্যে সেমিনারও চলছে।

জাপানের এ সংকট শুধু স্বাস্থ্য নয়, অর্থনীতির জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে। জাপানের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের এই যুগে জাপান কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করছে সেটা বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ছে।

সূত্র : সিএনএন