আর্থিক চাপ, সময়ের অভাব ও উপযুক্ত সঙ্গীর সংকটে থমকে যাচ্ছে পরিবার গঠনের স্বপ্ন। উদ্বেগজনক হারে কমছে প্রজনন হার। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল ইউএনএফপিএ-র নতুন প্রতিবেদনে বিশ্বজনসংখ্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সন্তান নেয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিবার গড়তে পারছেন না। খবর বিবিসি।
১৪টি দেশজুড়ে ১৪ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়েছে ইউএনএফপিএ। এতে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের একজন বলেছেন, তারা চাইলেও ইচ্ছেমতো সন্তান নিতে পারেননি। জাতিসংঘ এটিকে এক ‘অভূতপূর্ব উর্বরতা হ্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
মূলত এই প্রবণতার জন্য উচ্চ জীবনযাত্রা ব্যয়, সময় সংকট ও উপযুক্ত সঙ্গীর অভাব—এই তিনটি কারণকেই দায়ী করা হচ্ছে। জরিপে অংশ নেয়া ৩৯ শতাংশ মানুষ আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই হার ৫৮ শতাংশ, যেখানে সুইডেনে সবচেয়ে কম—মাত্র ১৯ শতাংশ।
বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণে জটিলতাকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শুধু ১২ শতাংশই এটিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইউএনএফপিএ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. নাটালিয়া কানেম বলেন, জরিপে অংশ নেয়া বেশিরভাগ মানুষই দুই বা তার বেশি সন্তান চান। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির কারণে অনেকেই তা পারছেন না—এটাই এখনকার বাস্তবতা।
ভারতের মুম্বাই শহরের বাসিন্দা নম্রতা নাঙ্গিয়া এই সংকটের একটি উদাহরণ। একটি মেয়ে সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি ও তার স্বামী দ্বিতীয় সন্তান নিতে সাহস পাচ্ছেন না। কারণ, সন্তান লালন-পালন, স্কুল ফি, পরিবহন ও সময় দেয়ার চাপ এতটাই বেশি যে তারা মনে করেন, আরেক সন্তান নিলে পারিবারিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতাকে ঘিরে যাতে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। অতীতে চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল, আর এখন তারাই উর্বরতা বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে।
ইউএনএফপিএ’র মতে, সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে শুধু অর্থ নয়, সময়ের অভাবও এখনকার সমাজে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই, আগামী দিনে প্রজনন ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে নীতিনির্ধারণে আরো মানবিক ও বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।










