২০২৫ সালে পৃথিবীর নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে চাঁদ। দুটি প্রাইভেট কোম্পানির দুটি মহাকাশযান মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাঁদে অবতরণ করেছে। একটি সঠিকভাবে অবতরণ করতে পারলেও, অন্যটি সফল হতে পারেনি।
৬ মার্চ হিউস্টনভিত্তিক ইনটিউটিভ মেশিনস-এর তৈরি রোবোটিক ল্যান্ডার 'এথেনা' চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি একটি গহ্বরের মধ্যে পড়ে যায়।
অন্যদিকে টেক্সাসভিত্তিক ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের ‘ব্লু গোস্ট’ ল্যান্ডারটি ২ মার্চ নিরাপদে অবতরণ করে ইতিহাস গড়েছে।
১৫ জানুয়ারি মহাকাশযাত্রা শুরু করে ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের ব্লু গোস্ট ল্যান্ডারটি ২ মার্চ ভোরে চাঁদের নিকটপৃষ্ঠের ‘মারে ক্রিসিয়াম’ নামক অগ্ন্যুৎপাত সমভূমিতে সফলভাবে অবতরণ করে। এ অঞ্চলটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে দূরে অবস্থিত, যেখানে চাঁদের নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র তুলনামূলক দুর্বল। নাসার সহযোগিতায় এ মিশনে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে চন্দ্রধূলি পরিমাপের যন্ত্র, ধূলি প্রতিরোধী শিল্ডের প্রোটোটাইপ এবং মহাকাশ বিকিরণ প্রতিরোধী কম্পিউটার সিস্টেম। এছাড়া চাঁদে জিপিএস-এর বিকল্প হিসেবে একটি ন্যাভিগেশন সিস্টেমও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ব্লু গোস্ট ল্যান্ডারটি ১৪ মার্চ চাঁদ থেকে একটি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবে। ১৬ মার্চ ‘হরাইজন গ্লো’ রেকর্ড করবে। মাসের ১৪ দিন এটি কর্মক্ষম থাকবে। সেখানে যখন টানা ১৪ দিন রাত নামবে তখন এটি সক্রিয় থাকবে না।
অন্যদিকে ইনটুইটিভ মেশিনসের অ্যাথেনা ল্যান্ডারটির লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবস্থিত ‘মনস মাউন্টেন’ এলাকায় অবতরণ করা। এই অঞ্চলটি চাঁদের প্রাচীন ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত, যেখানে পানি ও বরফের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু অবতরণের সময় ল্যান্ডারটি লক্ষ্যস্থল থেকে ২৫০ মিটার দূরে একটি গভীর ক্রেটারের মধ্যে পড়ে যায়। সেখানে সূর্যালোকের অভাবে সোলার প্যানেল চার্জ হয়নি।
অ্যাথেনার ব্যর্থতা ইনটুইটিভ মেশিনসের জন্য নতুন নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের ‘ওডিসিয়াস’ ল্যান্ডারটি চাঁদে পড়ে পা ভেঙে ফেলেছিল। এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অ্যাস্ট্রোবোটিকের ‘পেরেগ্রিন’ ল্যান্ডারও চন্দ্রাভিযানে ব্যর্থ হয়।
ব্লু গোস্ট ও অ্যাথেনা উভয়ই নাসার বাণিজ্যিক চন্দ্র পরিষেবা সিএলপিএস কর্মসূচির অংশ। যা ২০১৮ সালে শুরু হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাসা বেসরকারি সংস্থাগুলোকে চাঁদে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের দায়িত্ব দেয়। সিএলপিএসের ১৩টি মার্কিন সংস্থা ২০২৮ সাল পর্যন্ত চন্দ্রাভিযানের পরিকল্পনা করেছে। নাসার সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্সের ভাষ্য, লক্ষ্য হলো চাঁদের সর্বত্র পৌঁছানো।










