কিছুদিন ধরেই গাজায় যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে বিরোধ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, ফাটল ধরেছে এ দুই নেতার বন্ধুত্বে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বশেষ প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর মধ্যেও ইসরায়েলকে আবারো ২৫০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ নতুন অস্ত্রের প্যাকেজে দুই হাজার পাউন্ডের বেশি বোমা ও ২৫টি এফ-থার্টি ফাইভ/এ যুদ্ধবিমান সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। তবে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ ও ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাস। খবর আল জাজিরা।
এদিকে নতুন করে অস্ত্র সহায়তার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। টুইটারে এক বার্তায় তারা বলছে, একদিকে ইসরায়েলকে হত্যা বন্ধের আহ্বান অন্যদিকে আরো অস্ত্র সহায়তা—এটা পুরোপুরি দ্বিমুখী নীতি। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ সহায়তা ইসরায়েলকে রাফায় হামলা চালাতে আরো সহায়তা করবে।
নতুন করে অস্ত্র সরবরাহের পর নিজ দেশেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহুকে হামলা বন্ধ করতে বলার পরদিন আপনি কোনোভাবেই ইসরায়েলে অস্ত্র সহবরাহ করতে পারেন না—যেটা কিনা পুরো শহরকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আমাদের অবশ্যই জটিলতার অবসান ঘটাতে হবে, ইসরায়েলকে আর কোনো অস্ত্র নয়।
এদিকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানান, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন মুসলিমরা যে খুবই মনঃকষ্টে রয়েছেন, তা বোঝেন তিনি।
বাইডেন বলেন, ‘গাজায় চরম মানবিক বিপর্যয় চলছে। প্রতিদিন শত শত বেসামরিক মানুষের সেখানে নিহত হওয়া এবং সহিংসতার জেরে মার্কিন মুসলিমরা যে নিদারুণ মানসিক কষ্টে আছেন তা আমরা বুঝতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও এ ইস্যুতে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।’
গাজা যুদ্ধ ঘিরে নিজে মানসিকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে থাকার কথা স্বীকার করলেও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জো বাইডেন।
এদিকে গাজায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। শুক্রবারও তারা ভূখণ্ডটিতে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজা সিটির প্রধান হাসপাতাল আল শিফার আশপাশে ইসরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজা সিটির আল-শেজাইয়া এলাকায় ইসরায়েলের দুটি হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছে আর গাজা ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী এলাকা আল মাগাজি শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরো আটজন নিহত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। অতর্কিত সেই হামলায় ইসরায়েলে সেদিন নিহত হয় ১ হাজার ২০০ মানুষ, সেই সঙ্গে ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় হামাস যোদ্ধারা।
নজিরবিহীন এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সেদিনই গাজা উপত্যকায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ছয় মাস ধরে চলমান সেই অভিযানে এরই মধ্যে উপত্যকায় নিহত হয়েছে ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।










