ইসরায়েলি
ও আমেরিকান স্থাপনায় সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সিরিয়ায় ইরানের দূতাবাসে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান কর্তৃক পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এ
‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিবিসিকে
বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’
কখন ও কোথায়
এ হামলা হবে তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তবে ইরানি কনস্যুলেটের
মতো একটি ইসরায়েলি কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা হতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হামলাটি আগামী
সপ্তাহের মধ্যে রমজানের শেষ দিকে হতে পারে। খবর সিবিএস ও বিবিসি।
এদিকে ইরানের
হামলার আশঙ্কায় এরই মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ইসরায়েল। সেনাবাহিনীর
সব যুদ্ধ ইউনিটের ছুটি বাতিল করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। পাশাপাশি
রিজার্ভ সেনাদেরও তলব করছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।
এক বিবৃতিতে
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সেনাবাহিনীর সব যুদ্ধ ইউনিটের
ছুটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে আইডিএফ। আইডিএফ এরই মধ্যে একটি যুদ্ধে (গাজা সংঘাত) রয়েছে।
তবে প্রয়োজন অনুসারে দেশের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন
করা হচ্ছে।
সম্প্রতি
সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলার ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্তত সাত সদস্য রয়েছেন। এ
ঘটনার পরই ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধের হুমকি দেয়া হয়।
জানা যায়,
ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। তবে এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে
সতর্ক করেছে তেহরান। বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা না দিতে।
শুক্রবার,
ইরানের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মোহাম্মদ জামশিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন,
‘আমেরিকান নেতাদের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছিল ইরান।’ বার্তাটিতে বলা হয়েছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের
জন্য নেতানিয়াহুর পাতা ফাঁদে পা দেবেন না। আঘাত পেতে না চাইলে এর থেকে দূরে থাকুন।’
ওই লিখিত
বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিবিএস নিউজ। এ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র
সিবিএসকে বলেছেন, ইরানের পাঠানো চিঠির জবাবে ইসরায়েলি হামলাকে ‘মার্কিন কর্মীদের এবং
স্থাপনাগুলোয় হামলার অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার না করতে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার
কৌশলগত যোগাযোগের জন্য মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সমন্বয়কারী জন কিরবি বলেছেন,
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের সময় ইসরায়েলকে
দেয়া ইরানের প্রকাশ্য হুমকি নিয়ে আলোচনা করেছেন বাইডেন। কিরবি বলছিলেন, ‘নেতানিয়াহুকে
স্পষ্ট—খুবই স্পষ্ট করে বাইডেন বলেছেন, ইরানের দেয়া সরাসরি ও প্রকাশ্যে হুমকির বিরুদ্ধে
আত্মরক্ষার জন্য তিনি মার্কিন সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে পারেন।’










