মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার কাছে আন্তর্জাতিক আইন কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতার একমাত্র সীমা হলো তার ‘নিজস্ব নৈতিকতা’। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার ক্ষমতার সীমা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে একমাত্র আমার বিবেক, আমার নিজস্ব নৈতিকতা। এটাই একমাত্র জিনিস যা আমাকে থামাতে পারে।’

ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য কিনা, সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি মানি। তবে সেটি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইন বলতে আপনি কী বোঝেন, তার ওপর।’

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মাদক ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন।

জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও ট্রাম্প প্রশাসন একে ‘আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভেনিজুয়েলা পরিচালনা করবেন এবং দেশটির তেল খনির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবেন। এমনকি চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সামরিক হামলা চালাতে পারেন। পাশাপাশি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের তৎপরতাও জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চিন্তার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মালিকানার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমার মনে হয়, মালিকানার ফলে এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, যা ইজারা বা চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া যায় না। শুধু কাগজপত্রের মাধ্যমে যে বিষয়গুলো পাওয়া যায় না, মালিকানা সেগুলো দেয়।’

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের সিদ্ধান্তের কারণে চীন তাইওয়ান দখল করতে পারে বা রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে—এমন দৃষ্টান্ত তৈরির আশঙ্কাও নাকচ করে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাং সদস্য পাঠিয়েছেন। এটি একটি প্রত্যক্ষ হুমকি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি চীনে মানুষ বা মাদক পাচার হতে দেখবেন না। আপনি দেখবেন না যে তাইওয়ানের কারাগার খুলে অপরাধীদের চীনে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনকি রাশিয়ায়ও আপনি অপরাধীদের ঢল দেখবেন না। আমাদের সঙ্গে যে খারাপ বিষয়গুলো হয়েছে তা তাদের সঙ্গে হয়নি।’

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নেবেন, এ কথা তিনি বিশ্বাস করেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তবে তিনি কী করবেন সেটা তার ব্যাপার। আমি তাকে জানিয়ে দিয়েছি, যদি তিনি আসলেই এমন কিছু করেন, আমি একদমই খুশি হব না। আমার মনে হয় না তিনি এমন কিছু করবেন।’

ট্রাম্প বলেন, ‘অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের সময় হয়তো তিনি করতে পারেন, কিন্তু আমি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি এটা করবেন বলে আমার মনে হয় না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সর্বশেষ চুক্তিটির মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হতে যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলে হবে। আমরা আরো ভালো কোনো চুক্তি করব।’ ভবিষ্যতে এ চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত মন্তব্য করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত আরো কয়েকজন খেলোয়াড়কে যুক্ত করাই ভালো।’