আফ্রিকাজুড়ে এইচআইভি ও এইডস নিয়ে কাজ করা অনেক সংস্থা তাদের তহবিল বাতিলের নোটিস পেয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে এইচআইভি প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে এতিম, গর্ভবতী নারী, ট্রান্সজেন্ডার ও যৌনকর্মীদের সহায়তা করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অর্থায়ন কাটছাঁটের কারণে পরবর্তী ১০ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। পাশাপাশি অনেক মানুষ এরই মধ্যে তাদের চাকরি হারানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
মার্কিন সরকার তাদের প্রধান উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির ৯০ শতাংশের বেশি চুক্তি বাতিল করার ও বিদেশে সহায়তার বাজেট থেকে ৬ হাজার কোটি ডলার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান জানতে পেরেছে মালাউই, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, জিম্বাবুয়েসহ বিভিন্ন দেশের সংস্থা এবং জাতিসংঘের এইচআইভি/এইডস বিষয়ক জাতিসংঘের যৌথ কর্মসূচি ইউএনএইডসের কাছে তহবিল বাতিলের নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এলিজাবেথ গ্লাসার পেডিয়াট্রিক এইডস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা তাদের তিনটি প্রকল্পের জন্য তহবিল বন্ধের নোটিস পেয়েছে। এ প্রকল্পগুলো লেসোথো, এসওয়াতিনি ও তানজানিয়ায় ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে এইচআইভি চিকিৎসা প্রদান করে। এদের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি এইচআইভি পজিটিভ গর্ভবতী নারী রয়েছেন। তাদের অবশ্যই অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ নিতে হবে, যাতে তারা তাদের সন্তানদের মধ্যে এ রোগ ছড়ানো থেকে রক্ষা করতে পারেন। ফাউন্ডেশনের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ডা. লিন মোফেনসন বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত মা ও শিশুদের জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
জানুয়ারির শেষের দিকে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশী সহায়তার ৯০ দিনের পর্যালোচনা শুরু করার পর অনেক প্রকল্প বন্ধ হতে বাধ্য হয়। কিছু প্রকল্পকে অস্থায়ীভাবে চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কারণ এসব প্রকল্পের মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী সেবা দেয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার তাদের স্থায়ীভাবে বন্ধ করার চূড়ান্ত নোটিস পাঠানো হয়।
২০০৩ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের মাধ্যমে শুরু হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের জরুরি এইডস সহায়তা পরিকল্পনা পিইপিএফএআর বড় ধরনের তহবিল সংকটে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এটি এইচআইভি কর্মসূচির ১৭ শতাংশ সহায়তা দিয়ে থাকে। তাছাড়া কিছু অন্যান্য দেশেও এর বেশ প্রভাব রয়েছে।
ডেসমন্ড টুটু এইচআইভি সেন্টারের অধ্যাপক লিন্ডা-গেইল বেকার সতর্ক করেছেন, এটি একটি বড় বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে। যদি পিইপিএফএআরের তহবিল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী ১০ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অতিরিক্ত পাঁচ লাখের বেশি এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
ঘটনাটি এমন একসময়ে ঘটছে, যখন দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশনযোগ্য প্রতিরোধমূলক ওষুধের মতো নতুন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের আশা জাগিয়েছে। তবে বেকার এখন আশঙ্কা করছেন যে এ অগ্রগতি বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় উল্টে যেতে পারে। কারণ সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। সংখ্যায় যা প্রায় ৮০ লাখ।










