ওজন সীমা অতিক্রম করায় জাপান এয়ারলাইন্স
(জেএএল) কর্তৃপক্ষ পড়ে অদ্ভুত বিপত্তিতে। কারণ ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত লাগেজের কোনো ভূমিকা
ছিল না। বরং যাত্রীর আসনে ছিলেন দেশটির সবচেয়ে ভারী পুরুষেরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
জাপান এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান,
সুমো কুস্তিগীরদের ওজনের কারণে গত সপ্তাহে তাদের খুব অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত উড়োজাহাজের
ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। যদিও তারা প্রথমে ভেবেছিলেন এক উড়োজাহাজেই সবাইকে উড়িয়ে নেয়া
যাবে।
তারা বলেন, অতিরিক্ত ওজনের ফলে পর্যাপ্ত
জ্বালানির ঘাটতির আশঙ্কায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
জাপানের স্থানীয় সংবাদপত্র জানিয়েছে,
সুমো কুস্তিগীরদের একটি দল বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ফ্লাইটে টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণের
দ্বীপ আমামি যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তারা একটি ক্রীড়া উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য যাচ্ছিলেন।
গত ১২ অক্টোবর উড়োজাহাজ ছাড়ার আগে কর্মীরা
জানতে পারেন, যাত্রী তালিকায় রয়েছেন কয়েকজন সুমো কুস্তিগীর। তখন জ্বালানির ক্ষমতা
নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সাধারণত গড়ে একজন জাপানির ওজন হয়ে থাকে
৭০ কেজি। সেখানে এক সুমো কুস্তিগীরের ওজন দ্বিগুণের কাছাকাছি, ১২০ কেজি।
গন্তব্য আমামি বিমানবন্দরের রানওয়ে
বড় উড়োজাহাজের উপযোগী নয়। তাই ২৭ জন কুস্তিগীরের জন্য অতিরিক্ত উড়োজাহাজের আয়োজন করতে
হয়। যাদের মধ্যে ১৪ জন ইতামি থেকে হানেদা পর্যন্ত বিশেষ ফ্লাইটে যান।
জেএএল-এর মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
বিমানের ওজন সীমাবদ্ধতার জন্য বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা।
জাপানি মিডিয়া অনুসারে, গতকাল রোববার
টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর কুস্তিগীরদের বাড়িতে ফেরার জন্যও অতিরিক্ত ফ্লাইট রাখা
হয়েছিল।
সুমো কুস্তিগীর হওয়ার জন্য ন্যূনতম
কোনো ওজনের প্রয়োজন নেই। ১৯৯০ এর দশকে শীর্ষ কুস্তিগীর ছিলেন মাইনৌমি, তার ওজন ইংল্যান্ডের
রাগবি অধিনায়ক ওয়েন ফারেলের সমান ছিল। কিন্তু আদিম এসব খেলাধুলায় ভারী পুরুষদের
প্রাধান্য রয়েছে। ২০১৮ সালে অবসর নেন রাশিয়ান বংশোদ্ভূত কুস্তিগীর ওরোরা, তিনি সর্বকালের
সবচেয়ে ওজনদার খেলোয়াড় ছিলেন, তার ওজন ছিল ২৯২ দশমিক ৬ কেজি।










