ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সবচেয়ে জনবহুল দেশ জার্মানি। আজ দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচিত সরকার আগামী চার বছর ক্ষমতায় থাকবে। জনমত জরিপের ফলাফল বলছে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জার্মানরা সম্ভবত নতুন চ্যান্সেলর ও শাসক জোট পাবেন। তাছাড়া সাহসী ও দৃঢ়চেতা নতুন মার্কিন প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডে ইউরোপ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নির্ধারণে জার্মানির পরবর্তী সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। খবর এপি ও সিএনএন।

এবারের নির্বাচনী প্রচার সাধারণত নিরুত্তাপ ও পূর্বানুমানযোগ্য হলেও বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। গত নভেম্বর চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ তার অর্থমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন। পরে তিনি অনাস্থা ভোটে হেরে যান। এতে আগাম নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। এর কিছুদিন পর ট্রাম্পের মিত্র ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলোন মাস্ক কট্টর ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (আফডি) পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিতর্ক উসকে দেন। এ ঘটনা জার্মানির ইতিহাস নিয়ে জাতীয় আলোচনা সৃষ্টি করে। মাস্কের এ সমর্থনকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানান শুলজ।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, আফডি জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হতে পারে, যা নাৎসি যুগের পর কোনো কট্টর ডানপন্থী দলের জন্য প্রথমবারের মতো এমন সাফল্য অর্জন করেছে। নির্বাচনী প্রচারে মূলত দুটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে, গণ-অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার।

জার্মানিতে ভোট কেন্দ্র আজ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ভোটাররা ডাকযোগেও ভোট দিতে পারেন। তবে তাদের ব্যালট ভোট কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আগে পৌঁছতে হবে। তা না হলে সেগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ভোট শেষ হওয়ার পর পরই ভোট গণনা শুরু হবে। চূড়ান্ত সরকারি ফলাফল আগামীকাল সকালে প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জার্মানির পরবর্তী নেতৃত্বের জন্য চারজন প্রার্থী লড়াই করছেন। তারা হলেন বর্তমান চ্যান্সেলর মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) ওলাফ শুলজ, মূলধারার রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পার্টির প্রার্থী ফ্রিডরিখ মের্জ, বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টির রবার্ট হাবেক ও কট্টর ডানপন্থী অভিবাসীবিরোধী আফডির অ্যালিস ওয়েইডেল।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, মের্জের দল প্রায় ৩০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছে। আফডি প্রায় ২০ শতাংশ জনমত পেয়েছে। তবে শুলজ ও হাবেকের দল পিছিয়ে রয়েছে। মের্জের চ্যান্সেলর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে নির্বাচনের পর সরকার গঠন কোন জোটের মাধ্যমে সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনটি ছোট দল পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের কাছাকাছি রয়েছে। প্রধান সব দল আফডির সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জার্মানিতে ৫ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ৬৩০ সদস্যের বুন্ডেস্টাগ (নিম্নকক্ষ) নির্বাচনের জন্য ভোট দিতে পারবেন, যা পরবর্তী চ্যান্সেলর নির্বাচন করবে। ২৯টি দলের মধ্যে মাত্র পাঁচ-আটটি দল পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ভোট পেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য দলগুলোর অন্তত ৫ শতাংশ ভোট পাওয়া প্রয়োজন।

একটি স্থিতিশীল জার্মান সরকার নতুন মার্কিন প্রশাসন ও ইউক্রেন সংকটসহ বৈশ্বিক ইস্যুতে ইউরোপের প্রতিক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানি ও ফ্রান্স ইইউর প্রধান নেতৃত্ব দেয়। এজন্য জার্মানির আজকের নির্বাচনকে বিশ্লেষকরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।