ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র আল শিফা হাসপাতালকে মৃত্যুপুরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গতকাল সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করা হয়। এর আগে গত শনিবার হাসপাতালটি পরিদর্শন করে ডব্লিউএইচওর মানবিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় সেখানে গোলাবর্ষণের চিহ্ন দেখতে পায় তারা। হাসপাতালের প্রবেশপথে একটি গণকবরের সন্ধান মিলেছে, যেখানে ৮০ জনেরও বেশি মানুষকে সমাহিত করতে বাধ্য হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ডব্লিউএইচও বলছে, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়। রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। ইসরায়েলের তরফে অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বিবৃতি নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অঞ্চলটির উত্তরাঞ্চলে জাতিসংঘ পরিচালিত একটি শরণার্থীশিবিরে নতুন করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে লোকজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযান শুরুর পর লাখ লাখ মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় আশ্রয় নেয়। নতুন করে এ এলাকাটি থেকেও লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ)। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানেও শিগগিরই অভিযান চালাবে আইডিএফ।
এদিকে কাতারে কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি সমঝোতার খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে জিম্মি ইসরায়েলি নারী ও শিশুদের মুক্তি দেবে হামাস। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তরফে অবশ্য এমন খবর অস্বীকার করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, এ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরাই তাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।










