বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি শহর। নয়া দিল্লির প্রায় দুই কোটি মানুষ বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তারা বিশ্বের যে কোনো বড় শহরের তুলনায় সবচেয়ে দূষিত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। এর এক দিন আগেই ছিল দীপাবলি, আলো উৎসব, যেখানে মানুষ সাধারণত আতশবাজি ও পটকা ফাটিয়ে আনন্দ করে।
বুধবার নয়া দিল্লির বাতাসে PM 2.5— অর্থাৎ সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও ক্ষতিকর দূষণের মাত্রা— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি বলে জানিয়েছে সুইস বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার। খবর সিএএন।
নয়া দিল্লি সারা বছরই ভয়াবহ বায়ুদূষণের সঙ্গে লড়াই করে। তবে শীতের সময় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয়ে ওঠে। কারণ আশেপাশের রাজ্যগুলোর লাখো কৃষক তখন পরবর্তী ফসলের জন্য ক্ষেত পরিষ্কার করতে আগের ফসলের খড় পোড়ান।
দীপাবলি উদযাপনের পর এ সপ্তাহে বায়ুমান হঠাৎ ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই উৎসবে প্রচুর আতশবাজি ফোটানো হয়, যা বাতাসে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং ক্ষতিকর ভারী ধাতু ছড়িয়ে দেয়।
৩০ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার অনুস্কা সিংহ বলেন, প্রতি বছরই অবস্থা খারাপ হচ্ছে। তিনি জানান, তার কুকুরটিকে আতশবাজির অসহ্য শব্দ থেকে শান্ত রাখতে দীপাবলির দিন সাধারণত ঘরেই থাকেন। বাইরে বেরোলেই গলা চুলকাতে শুরু করে, চোখ জ্বালা করে।।
৫২ বছর বয়সী দোকানদার চন্দ্র ত্যান্ডন বলেন, ‘পটকা ফাটানো আনন্দের অংশ, বছরে একবারই হয়।’ তবে এটাও স্বীকার করেন, ‘এর পরের দিনগুলোতে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়।’ তার মতে, বাচ্চাদের আনন্দ করতে দেয়া যায়, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত সচেতন হওয়া উচিত। দিল্লিতে যারা বহু বছর ধরে থাকে, তারা জানে দূষণ কত ভয়াবহ হয়ে ওঠে প্রতি বছর।










