পারস্য উপসাগরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বিরল ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ড্রোন হারিয়ে যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। গত সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। খবর সিএনএন

মার্কিন নৌবাহিনীর সেফটি কমান্ড মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ৯ এপ্রিল একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। এ ড্রোনটির দাম ২৪০ মিলিয়ন ডলার, যা একটি এফ-৩৫সি স্টেলথ যুদ্ধবিমানের দামের দ্বিগুণেরও বেশি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইট রাডার–এর তথ্য বিশ্লেষণ করে সিএনএন দেখতে পেয়েছে, ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি ট্রাইটন ড্রোন ৯ এপ্রিল পারস্য উপসাগরের আকাশে নিখোঁজ হয়ে যায়। ড্রোনটি হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ছিল।

তথ্য অনুযায়ী, প্রণালীর আকাশসীমা ছেড়ে যাওয়ার পর ড্রোনটির উচ্চতা হঠাৎ করে ৫০ হাজার ফুট থেকে নেমে ৯ হাজার ফুটে পৌঁছায় এবং পরে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফ্লাইট ডেটায় দেখা যায়, উড্ডয়নের সময় ড্রোনটি প্রথমে ‘৭৪০০’ কোড পাঠায়, যা সাধারণত নিয়ন্ত্রণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। প্রায় ৭০ মিনিট পর এটি ‘৭৭০০’ কোড পাঠাতে শুরু করে, যা জরুরি পরিস্থিতির সংকেত।

শেষবার ১০টা ১২ মিনিট (ইউটিসি) নাগাদ প্রায় ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় ড্রোনটির সংকেত পাওয়া যায়, এরপর এটি রাডার থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়।

ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মার্কিন নৌবাহিনী কেবল এটুকুই জানিয়েছে যে একটি ট্রাইটন ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে।

ড্রোনটির নির্মাতা নর্থরপ গ্রুমান একে বিশ্বের অন্যতম উন্নত সামুদ্রিক গোয়েন্দা, নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণে সক্ষম ড্রোন হিসেবে উল্লেখ করেছে। জেট ইঞ্জিনচালিত এ ড্রোনের পরিসর প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মাইল এবং এটি টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি আকাশে থাকতে সক্ষম।

এমকিউ-৪সি ট্রাইটন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বহরে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যায় রয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মাত্র ২০টি ড্রোন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটির মূল্য প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার, যা একটি এফ-৩৫সি স্টেলথ যুদ্ধবিমানের দামের দ্বিগুণেরও বেশি।