ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে বিশ্বজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বন্দর ও জাহাজঘাটের শ্রমিকরা। গতকাল পাঁচ মহাদেশের ২২টি দেশ ও অঞ্চলের অন্তত ১১০টি বন্দরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে অংশ নিয়েছে ২৫টির বেশি শ্রমিক ইউনিয়ন।

‘যুদ্ধের জন্য কাজ করবে না বন্দর শ্রমিকরা’—এ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচির মূল দাবি—ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সব সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মঘটের আয়োজকরা মনে করছেন, অস্ত্র পরিবহন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বন্দর শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে তাদের কর্মবিরতি ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

গ্রিসের এথেন্সের পিরেয়াস বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়ন এনইডিইপির নেতা মার্কোস বেকরিস বলেন, ‘অস্ত্র গন্তব্যে পৌঁছতে পরিবহন, অবকাঠামো ও শ্রমিকদের হাত প্রয়োজন। শ্রমিকদের শক্তির জায়গা সেখানেই।’

গাজা থেকে ২০১৫ সালে চলে যাওয়া ও বর্তমানে জার্মানির হামবুর্গে বসবাসরত বন্দর শ্রমিক মোহাম্মদ আল-আত্তার বলেন, ‘শ্রমিকরাই প্রকৃত শক্তি।’ মাত্র দুইদিন কাজ বন্ধ রাখতে পারলে হাজারো মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন অস্ত্র পরিবহন বন্ধ ও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে একত্র হয়। শুরুতে পাঁচটি দেশের ২০টি বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়ন এ উদ্যোগে যুক্ত ছিল। পরে গ্রিসের এথেন্স, ইতালির জেনোয়া ও তুরস্কের ইস্তানবুলে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে আন্দোলন বিস্তৃত হয়। চলতি বছরের মে মাসে ইস্তানবুল ঘোষণার মাধ্যমে ৩০ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কর্মসূচির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের হিসাবে ফ্রান্স, ইতালি, ভারত, গ্রিস ও তুরস্কে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালিত হয়। মরক্কো, সাইপ্রাসসহ কয়েকটি দেশে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়। ইতালির শ্রমিক ইউনিয়ন ইউএসবি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে।

অস্ত্র সরবরাহের গতিপথ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নো হারবার ফর জেনোসাইড (এনএইচজি)’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের জন্য পাঠানো বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ৩১৫টি চালান শনাক্ত করা হয়েছে। এসব চালান ২৯টি দেশের ৫৬টি বাণিজ্যিক বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। ওই ৫৬টি বন্দরের সব ক’টিই গতকালের ধর্মঘটে অংশ নেয়।