যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার ৪৪ হাজার ঘণ্টার ভিডিও প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের নতুন রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন। সম্প্রতি এক্সে (টুইটার) দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি মার্কিন জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখছি। ৬ জানুয়ারির ঘটনার সব ভিডিও মার্কিন জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছি।’ খবর এপি।
মাইক জনসন বলেন, ‘এসব ভিডিও প্রকাশের মধ্য দিয়ে সবাই দেখতে পাবে, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল। এজন্য তাদের গুটিকয়েক সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। সত্য আর স্বচ্ছতার জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।’ হামলার ঘটনার ভিডিওগুলো সরকারি একটি ওয়েবসাইটে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাজার হাজার ঘণ্টার ফুটেজ এরই মধ্যে পর্যালোচনা শুরু করেছে কংগ্রেসের একটি কমিটি। ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনাটি তদন্তে কাজও করছে এ কমিটি।
মাইক জনসন বলেন, ‘ˆকানো মানুষকে যেন প্রতিশোধমূলকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো না হয়, তা নিশ্চিত করতে ভিডিওতে তাদের মুখগুলো ঝাপসা করে দেয়া হবে। এছাড়া ক্যাপিটল ভবনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত স্পর্শকাতর ভিডিওগুলো অপ্রকাশিত থাকবে।’
তিনি জানান, সব মিলিয়ে ৪৪ হাজার ঘণ্টার ভিডিও রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৯০ ঘণ্টার ভিডিও কংগ্রেসের পাবলিক কমিটি ওয়েবসাইটে শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি ভিডিওগুলো কয়েক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে ভিডিওগুলো প্রদর্শনের জন্য ক্যাপিটল হিলে একটি আলাদা কক্ষ স্থাপন করা হবে।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পর তার স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলাকালীন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। ক্যাপিটল হিলে ওই হামলার ঘটনায় ট্রাম্পকে বিদ্রোহ ও অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত করার জন্য প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচক কমিটি সুপারিশ করে।
২০২০ সালে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে আগামী মার্চে ট্রাম্পকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এরই মধ্যে ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে আবারো প্রার্থী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাইক জনসন এরই মধ্যে ট্রাম্পকে সমর্থনও জানিয়েছেন।










