দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একসময়কার ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ছিল
মিয়ানমার। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির বেশির ভাগ
মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। জাতিসংঘের নতুন একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য
প্রকাশ করা হয়েছে। খবর সিএনএন।
মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যা ৫ কোটি ৪০ লাখ। বর্তমানে এর প্রায়
অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। দেশটির প্রায় ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ
মানুষ ৭৬ ইউএস সেন্টের কম আয় করে। ২০১৭ সালের তুলনায় দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ
হয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপির) গবেষকরা নতুন এক প্রতিবেদনে এ
তথ্য প্রকাশ করে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের
তিন বছর পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছে। দেশটি এমন এক পর্যায়ে
যেখানে মধ্যবিত্তরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির
কারণে পরিবারগুলো খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার খরচ কমিয়ে আনছে।
গবেষকরা জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবরে মিয়ানমারের ২৫
শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার একটু ওপরে আছে।
তারা আরো জানিয়েছে, ‘এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তীব্র সংঘাতের ফলে আরো অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।’
২০১১ সালে মিয়ানমারে দারিদ্র্যের হার অনেক কমে আসে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতে,
২০১৬ সালে দেশটির এ অঞ্চলের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি ছিল এবং ২০১১ থেকে ২০১৯
সালের মধ্যে মিয়ানমারের অর্থনীতি বছরে গড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে।
দেশটি কার্যকরভাবে তার দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালে ৪৮
দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২০১৭ সালে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছিল। কিন্তু
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং সহিংসতার কারণে ক্রমেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়।
প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে তিন মাসে পরিচালিত ১২
হাজারের বেশি সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পরিচালিত বৃহত্তম দেশব্যাপী সমীক্ষাগুলোর
মধ্যে একটি এটি।










