গণতান্ত্রিক বৈধতার অভাবের সমালোচনা সত্ত্বেও নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করেছেন পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হওয়া ভ্লাদিমির পুতিন। .
সোমবার (১৮
মার্চ) নিজের প্রচারণা সদর দফতর থেকে এক ভাষণে পশ্চিমাদের উদ্দেশে পুতিন বলেন, তারা আমাদের
যতই ভয় দেখাক,
যতই দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করুক না
কেন, ইতিহাস বলে আমাদের ইচ্ছাশক্তি
এবং চেতনা দমনে কেউ কোনোদিন সফল হয়নি! এবারো সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না।
রোববার (১৭
মার্চ) ভোট শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক গণনার ফলাফল আগামী ছয় বছরের জন্য আবারো রাশিয়ায়
পুতিনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করছিল।
রাশিয়ার
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মতে, ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়ে
পুতিন জোসেফ স্ট্যালিনকে পেছনে ফেলে রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি নেতা হতে চলেছেন।
পুতিনের চেয়ে মাত্র ৪ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন কমিউনিস্ট
প্রার্থী নিকোলাই খারিটোনভ। সেই সঙ্গে নবাগত ভ্লাদিস্লাভ দাভানকভ তৃতীয় এবং অতি-জাতীয়তাবাদী
লিওনিড স্লুটস্কি চতুর্থ স্থানে আছেন বলে প্রাথমিক ফলাফল
ঘোষণায় জানা যায়।
দেশটির নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এবার ৭৪.২২
শতাংশ ভোট পড়েছে। ২০১৮ সালের ৬৭.৫ শতাংশকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের ভোট প্রদানের হার।
তবে রাশিয়ায়
পুতিনের বিজয় অবধারিত ছিল এটি কমবেশি সবারই জানা। কেননা পুতিনের সমালোচকরা এখন বেশিরভাগই
জেলে বন্দি কিংবা নির্বাসনে,
কেউ কেউ আবার মৃত!
রুশ
নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে
শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যালেক্সি নাভালনিও গত মাসে আর্কটিক
কারাগারে মারা যান।
এদিকে রাশিয়ার
নির্বাচনী ফলাফল আসার পরপরই ফলাফলের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। নির্বাচন
অবাধ এবং সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
হোয়াইট হাউসের
ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জানান, যেভাবে পুতিন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বন্দি করেছেন এবং অন্যদের তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাধা দিয়েছেন তাতে রাশিয়ার নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু বলার সুযোগ নেই।
রাশিয়ার নির্বাচনী ফলাফলের সমালোচনা করেছে ইউক্রেনও। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেন, এ নির্বাচনী জালিয়াতির কোনো বৈধতা নেই।
শনিবার (১৬
মার্চ) হাজার হাজার পুতিন বিরোধীরা এক হয়ে বিক্ষোভ করে। তবে নির্বাচনে ১৪৪ মিলিয়ন
রাশিয়ানদের মধ্যে কতজন পুতিনের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তার কোনো স্বতন্ত্র হিসাব নেই।
রাষ্ট্রপতি হিসাবে দুই মেয়াদের পর ভ্লাদিমির পুতিন ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পরপর দুই মেয়াদে থাকার সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা এড়ান। ২০১২ সালে তিনি পুনরায় রাষ্ট্রপতি পদে ফিরে আসেন এবং ২০১৮ সালে চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হন।










