দুই প্রতিবেশী পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা যখন ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উদ্বেগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ভারসাম্য। ইতিহাসের অভিন্ন যুদ্ধমঞ্চে বারবার মুখোমুখি হওয়া এ দুই রাষ্ট্রের মধ্যে কার সামরিক প্রস্তুতি কতটা, কে কাকে কতটা টেক্কা দিতে সক্ষম—তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিশ্লেষণ।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সংখ্যায়, সরঞ্জামে ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় ভারত পাকিস্তানের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। তবে পারমাণবিক ভারসাম্য ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুই দেশের সামরিক শক্তির পরিসংখ্যান ভিত্তিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ।
সক্রিয় সদস্য সংখ্যা : ভারতের সক্রিয় সামরিক সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার , যেখানে পাকিস্তানে এ সংখ্যা ৬ লাখ ৬০ হাজার। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড—সব ক্ষেত্রেই ভারতের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি।
ভারতের সেনাবাহিনীতে কর্মরত সদস্য সংখ্যা ১২ লাখ ৩৭ হাজার, বিমানবাহিনীতে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ এবং নৌবাহিনীতে ৭৫ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া কোস্ট গার্ডেও রয়েছে ১৩ হাজার ৩৫০ জন সদস্য।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে রয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমানবাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে মাত্র ৩০ হাজার সদস্য।
স্থলসেনা : কামান ও ট্যাংকের আধিপত্য
স্থলসেনার সরঞ্জামেও ভারত রয়েছে এগিয়ে। ভারতে কামানের সংখ্যা ৯ হাজার ৭৪৩টি, যেখানে পাকিস্তানে রয়েছে ৪ হাজার ৬১৯টি। মূল যুদ্ধ ট্যাংকের সংখ্যাতেও ভারত এগিয়ে—৩ হাজার ৭৪০টি ট্যাংক রয়েছে ভারতের দখলে, পাকিস্তানে আছে ২ হাজার ৫৩৭টি।
বিমানবাহিনীর তুলনা যুদ্ধ-সক্ষম বিমান সংখ্যাতেও ভারত অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। ভারতের ৭৩০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের রয়েছে ৪৫২টি। এর ফলে আকাশপথে প্রতিরোধ গঠনের ক্ষেত্রেও ভারতের কৌশলগত সুবিধা স্পষ্ট।
পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার
দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যায় খুব বেশি পার্থক্য নেই। ভারতের ওয়ারহেড সংখ্যা ১৭২টি এবং পাকিস্তানের রয়েছে ১৭০টি। ফলে পারমাণবিক সক্ষমতা দিক থেকে তারা প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
নৌবাহিনীর আধিপত্য
নৌ-শক্তিতে ভারতের বিপুল সুবিধা রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে রয়েছে ১৬টি সাবমেরিন, যেখানে পাকিস্তানের রয়েছে ৮টি। ভারতের কাছে রয়েছে ২টি বিমানবাহী রণতরী, পাকিস্তানের নেই একটিও। ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ারে ভারতের সংখ্যা ১১, পাকিস্তানে একটিও নেই। ফ্রিগেটের সংখ্যাতেও ভারত এগিয়ে—১৬টি, পাকিস্তানে রয়েছে ১০টি।










