ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। শনিবার (১০ মে) সকালে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎর্স, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক একসঙ্গে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন তারা। খবর সিএনএন।

কিয়েভের প্রধানের রেলস্টেশনে চার ইউরোপীয় নেতা এবং ইউক্রেনীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা যুদ্ধের মধ্যেও একতার বার্তা বহন করে। প্রথমেই তারা কিয়েভের ইনডিপেনডেন্স স্কোয়ারে গিয়ে নিহত ইউক্রেনীয় সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবাই এখন একটি ৩০ দিনের পূর্ণ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি দাবি করছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘যদি যুদ্ধবিরতি হয়, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের প্রধান সহকারী আন্দ্রিয়ি ইয়েরমাক বলেন, ‘এই যুদ্ধের শেষ হওয়া উচিত ন্যায়সঙ্গত এক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে। মস্কোকে রাজি করাতে হবে।’

রাশিয়া অবশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘বিস্তারিত’ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সরাসরি রাশিয়ার প্রতি কঠোর বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘যদি যুদ্ধবিরতি মানা না হয়, তাহলে নতুন নিষেধাজ্ঞা আসবে।’ ইউরোপীয় নেতারা এই উদ্যোগে এককভাবে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এক টুইটে বলেছেন, ‘যদি মস্কো বাধা দেয়, আমরা ইউরোপীয়রা এবং যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে চাপ আরো বাড়াব।’