দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজা উপত্যকায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত শুনানিতে ‘বিশ্বের চোখের সামনে’ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্বরতা, নিপীড়ন ও গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দক্ষিণ আফ্রিকা দাবি করছে, ইসরায়েল গাজায় বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, যা ১৯৪৮ সালের গণহত্যা প্রতিরোধ কনভেনশন লঙ্ঘন করছে। দেশটি আদালতকে অনুরোধ করেছে, ইসরায়েল যেন যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয় ও অবিলম্বে মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করে।
আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি জেইন ড্যাঙ্গর বলেন, ‘ইসরায়েলের নীতিগত এবং পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রকাশ করে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে গাজায় লাখ লাখ ফিলিস্তিনি খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সেবার ঘাটতিতে ভুগছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলের অবরোধ ও বিমান হামলায় গাজায় স্কুল, হাসপাতাল ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, প্রায় দুই মাস ধরে গাজায় পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না।
ইসরায়েল এ শুনানিতে সরাসরি অংশ নেয়নি। তবে আদালতে দাখিলকৃত এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, তাদের অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে লক্ষ্য করে এবং বেসামরিক প্রাণহানি অনিচ্ছাকৃত। এই মামলায় বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ ও সংস্থা মতামত পেশ করছে। যুক্তরাষ্ট্র এ সপ্তাহে তাদের অবস্থান উপস্থাপন করবে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েল ‘লাইভ-স্ট্রিমড গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির অভিযোগ, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থাটি তাদের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে ইসরায়েলি বাহিনী জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করছে, যা নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অ্যামনেস্টির মহাসচিব আগ্নেস ক্যালামার্ড বলেন, ‘বিশ্বের সামনে গাজায় গণহত্যা চালানো হচ্ছে, অথচ রাষ্ট্রগুলো নীরব দর্শক হয়ে আছে। ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে, একাধিক প্রজন্মের পরিবার ধ্বংস করছে, এবং ঘর-বাড়ি, জীবিকা, হাসপাতাল ও স্কুল ধ্বংস করছে।’ তিনি বলেন, ‘এটি একটি লাইভ-স্ট্রিমড গণহত্যা, যেখানে বিশ্ব শান্তভাবে দেখছে, কিন্তু কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
অ্যামনেস্টি অভিযোগ করছে যে ইসরায়েল ‘জোরপূর্বক শরণার্থী করে ফেলা’ ও ‘মানবিক সহায়তার প্রবাহে বাধা দেয়ার’ মাধ্যমে গাজার জনগণের প্রতি তার গণহত্যার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে। এটি ফিলিস্তিনিদের শারীরিক ধ্বংসের জন্য একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা বলে সংস্থাটি মনে করে।
তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের পদক্ষেপগুলো আত্মরক্ষামূলক এবং হামাসের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং তাদের কার্যক্রম শুধু হামাসের বিরুদ্ধে, যারা তাদের নাগরিকদের জীবনকে বিপদে ফেলছে।










