বৃহস্পতিবার ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের বহুবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের মিনিস্ট্রি অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সচিব গোবিন্দ মোহনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর আদর্শ পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) তৈরির সুপারিশ করবে বলে জানিয়েছে মিনিস্ট্রি অব সিভিল এভিয়েশন। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশে যাত্রা করা উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের পর পরই বিধ্বস্ত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ২৪১ আরোহী এবং স্থানীয় আরো কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রামমোহন নাইডু গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এ দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তদন্তের জন্য বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কথা বলতে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করতে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।’

রামমোহন নাইডুর বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) অধীনে যে প্রযুক্তিগত তদন্ত চলছে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হলো দুর্ঘটনাস্থল থেকে উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়েছে। এএআইবির তদন্তকারী দল মনে করে, দুর্ঘটনার কারণ এবং ওই মুহূর্তে আসলে কী ঘটেছিল তা জানতে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্ল্যাক বক্স হলো একটি ফ্লাইট রেকর্ডার, যা উড়োজাহাজের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ককপিটের অডিও ধারণ করে। কোনো উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হলেও পরে যেন তার তথ্য পাওয়া যায়, এ কারণে উচ্চ তাপ সহনশীল করে এটি তৈরি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটিতে মিনিস্ট্রি অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সচিব ছাড়াও থাকবেন সিভিল এভিয়েশন সচিব, মিনিস্ট্রি অব হোম অ্যাফেয়ার্সের অতিরিক্ত সচিব, গুজরাট সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি, গুজরাট স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রতিনিধি, আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার, ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব ইন্সপেকশন (পরিদর্শন ও নিরাপত্তা), বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা ব্যুরোর (বিসিএএস) প্রতিনিধি, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের (ডিজিসিএ) প্রতিনিধি, গোয়েন্দা ব্যুরোর স্পেশাল ডিরেক্টর এবং ফরেনসিক সায়েন্সের পরিচালক। এছাড়া প্রয়োজনে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ এবং আইন উপদেষ্টাকেও কমিটিতে যোগ করা হতে পারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কমিটির কাজ হবে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা। উড়োজাহাজটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা, উড্ডয়নের আগে সব নির্দেশনা ঠিকভাবে মানা হয়েছিল কিনা সেসবও খতিয়ে দেখবে তারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং অন্যান্য সুপারিশও দেবে কমিটি।

কমিটিকে ফ্লাইটের তথ্য, ককপিটের ভয়েস রেকর্ডার, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত নথি, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের লগ বুক, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডে প্রবেশাধিকার দেয়া হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিমান প্রস্তুতকারকদের সঙ্গেও যোগাযোগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাদের।

গত ১২ জুন আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর পরই বিধ্বস্ত হয় এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী একটি ফ্লাইট। ২৩০ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রুসহ উড়োজাহাজটি একটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে ২৪১ আরোহীর মৃত্যু হয়। যে ভবনের ওপর দুর্ঘটনা ঘটে, হতাহত হন সেখানকার বেশ কয়েকজনও। তবে দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাস কুমার রমেশ নামে এক আরোহী।