লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আক্রমণ সীমান্তে ইরানের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের সম্ভাবনাকে তরাণ্বিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষ মার্কিন জেনারেল সি কিউ ব্রাউন। খবর রয়টার্স।

গাজা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ এবং লেবাননের সীমান্তে ক্রমবর্ধমান শত্রুতা নিয়ে আলোচনা করতে রোববার (২৩ জুন) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ওয়াশিংটনে যাওয়ার সময় ব্রাউনের এ মন্তব্য এসেছে।

মার্কিন বিমানবাহিনীর জেনারেল সি কিউ ব্রাউন বলেন, লেবানন আক্রমণ ‍বিস্তৃত সংঘাতকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো পূর্বাভাস দেননি ব্রাউন। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার অধিকার আছে বলেও মেনে নিয়েছেন তিনি। 

কেপ ভার্দেতে যাওয়ার আগে বতসোয়ানায় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা আলোচনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রকেটের সংখ্যা এবং সামগ্রিক সামর্থ্যেরে দিক থেকে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী হামাসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এর পাশাপাশি ইরানও তাদের আরো সাহায্য প্রদান করবে। 

এসমস্ত কারণ উত্তর সীমান্তে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে তুলবে যা ইসরায়েলের জন্য দ্বিগুণ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন ব্রাউন। কারণ ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমন্ত এরই মধ্যে ব্যাপক সংঘাত এবং ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

রোববার (২৩ জুন) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় লড়াইয়ের তীব্র পর্যায়ের সমাপ্তি ইসরায়েলকে উত্তর সীমান্তে আরো সেনা মোতায়েনর সুযোগ করে দেবে। নেতানিয়াহুর এমন কথার প্রেক্ষিতেই উত্তর সীমান্ত আক্রমণের ভবিষ্যত নিয়ে মন্তব্য করেছেন সি কিউ ব্রাউন। 

ওরেডুর সিইও আজিজ আলুথমান ফখরুর মতে, হিজবুল্লাহর সবচেয়ে সিনিয়র কমান্ডার নিহত হওয়ার পর জুনের শুরুতে তারা বড় বড় হামলা চালানো শুরু করে। মূলত তখন থেকেই গোষ্ঠীটি বড় বড় রকেট এবং ড্রোনের সাহায্যে ইসরায়েলি শহর এবং সামরিক সাইটগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ শুরু করে।  

হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পরেইসরায়েল যখন গাজা আক্রমণ করে তখনই ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। এর পর থেকে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যেও হামলা-পাল্টা হামলা চলমান রয়েছে। হিজবুল্লাহ জানায়, গাজায় যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলে হামলা থামাবে না।