উত্তর কোরিয়া সম্ভবত তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে। নতুন স্যাটেলাইট ইমেজে বিষয়টি ধরা পড়েছে। গত ৬ এপ্রিল ম্যাক্সার টেকনোলজিস ও প্ল্যানেট ল্যাবসের তোলা ছবিতে নামপো শিপইয়ার্ডে জাহাজটির নির্মাণকাজ চলমান দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট (এফএফজি) যা প্রায় ১৪০ মিটার (৪৫৯ ফুট) দীর্ঘ হবে। এটি উত্তর কোরিয়ার বর্তমান নৌবহরের সবচেয়ে বড় জাহাজের চেয়ে দ্বিগুণ বড়। ধারণা করা হচ্ছে, এতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক টিউব থাকবে, যেগুলো সমুদ্র ও স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। খবর সিএনএন।

গত বছর কোরিয়ান সেন্ট্রাল টেলিভিশনের একটি ভিডিও প্রতিবেদনে কিম জং উনকে জাহাজ নির্মাণ স্থান পরিদর্শন করতে দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাহাজটিতে ফেজড অ্যারে রাডার থাকতে পারে যা উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী সামরিক সক্ষমতার চেয়ে উন্নত। তবে জাহাজটির নির্মাণ কাজ শেষ হতে আরো এক বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন সাবেক ইউএস নেভি ক্যাপ্টেন কার্ল শাস্টার।

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৪০০ পেট্রোল কমব্যাট্যান্ট ও ৭০টি সাবমেরিন রয়েছে বলে জানায় ইউএস ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি। যদিও এগুলোর বেশিরভাগই পুরনো ও অপ্রচলিত। গত সেপ্টেম্বরে কিম জং উন একটি নতুন নৌবন্দর নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছিলেন, যেখানে বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নোঙর করা যাবে। দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা ইউ ইয়ং-ওন জানিয়েছেন, সিনপো বন্দরে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ও চংজিনে আরেকটি ফ্রিগেট বা ডেস্ট্রয়ার নির্মাণাধীন রয়েছে।

কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন সরকার গত কয়েক বছর ধরেই তাদের সামরিক বাহিনীর দ্রুত আধুনিকায়নে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম। যদিও জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র নির্মাণের উপাদান ও প্রযুক্তি সংগ্রহ সীমিত, তবে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশটিকে এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে সহায়তা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক নৌ-অ্যাডমিরাল কিম ডাক-কি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, রাশিয়া এই জাহাজের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, এই নির্মাণকাজ উত্তর কোরিয়ার সামরিক ক্ষমতার নতুন যুগের সূচক হতে পারে। বিশেষত যদি এতে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করা হয়, যেমনটা গত জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়া সফলভাবে পরীক্ষা করার দাবি করেছিল। সেক্ষেত্রে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিতে পারে।