চিলির কেন্দ্রস্থলে ভিলা বাভিয়েরা নামের একটি সুন্দর গ্রাম রয়েছে, যার রয়েছে এক অন্ধকার অতীত। একসময় এটি কুখ্যাত কলোনিয়া ডিগনিদাদ নামে পরিচিত ছিল। এটি ছিল একটি গোপন ধর্মীয় গোষ্ঠীর আস্তানা, যার নেতা ছিলেন পল শ্যাফার। তিনি চিলির সাবেক স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোশের সামরিক সরকারের সঙ্গে মিলে নির্যাতন, শিশু নির্যাতন ও অন্যান্য ভয়ংকর অপরাধ করেছেন।
শ্যাফার ১৯৯০ সালে মারা গেলেও কিছু জার্মান বাসিন্দা ওই গ্রামে থেকে যান এবং এটিকে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেন। বর্তমানে সেখানে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও লেক রয়েছে। তবে চিলি সরকার সে ভূমির কিছু অংশ অধিগ্রহণ করে পিনোশের সরকারের ভুক্তভোগীদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করতে চাচ্ছে। এ পরিকল্পনা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
চিলির সামরিক শাসনের সময় তিন হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা ও ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছিল। লুইস ইভানজেলিস্টা আগুয়াইও তাদেরই একজন। যিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। তার বোন আনা আগুয়াইও জানান, ১৯৭৩ সালে পিনোশে ক্ষমতা দখলের একদিন পর তার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে কলোনিয়া ডিগনিদাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পরিবার আর কখনো তাকে খুঁজে পায়নি।
আনা আগুয়াইও বিশ্বাস করেন, এমন একটি ভয়ংকর স্থানকে পর্যটন কেন্দ্র বানানো উচিত নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষণীয় স্থান হওয়া দরকার, যাতে এমন ঘটনা আর কখনো না ঘটে।
তবে ভিলা বাভিয়েরার বর্তমান বাসিন্দারা সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। ডোরোথি মাঞ্চ নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরাও ভয়ের মধ্যে জীবন কাটিয়েছি, আমরাও ভুক্তভোগী। জমি অধিগ্রহণ হলে আমাদের জীবন নতুন করে বিপর্যস্ত হবে।’ আরেক বাসিন্দা এরিকা টিমও একই কথা বলেন। তারা নিজেদের পরিচিত মানুষের সঙ্গে একই জায়গায় থাকতে চান।
বিচার ও মানবাধিকারমন্ত্রী জাইমে গাজার্দো ফ্যালকন বলেন, ‘সরকার জায়গাটি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এটি ছিল রাজনৈতিক বন্দিদের আটক, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের স্থান। জুলাইয়ে অধিগ্রহণের ডিক্রি প্রকাশ হয়েছে। অধিগ্রহণের পর চিলির সাধারণ মানুষ স্থানটিতে অবাধে প্রবেশ করতে পারবে।’
জর্জ ক্লাউবে নামে এক ভুক্তভোগী সরকারের এ পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। তিনি জানান, কলোনিয়া ডিগনিদাদের নেতারা ন্যায্যভাবে আয়ের ভাগ দিচ্ছেন না। তিনি চান, অধিগ্রহণের পর সরকার যেন সব বাসিন্দার মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ সমানভাবে বিতরণ করে।
চিলির বিচার ও মানবাধিকার মন্ত্রী জাইমে গাজার্দো ফ্যালকন বলেছেন, ‘জায়গাটির ভয়াবহতা যেন কেউ ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত হলে তা হবে স্মৃতি ও চিন্তাভাবনার একটি কেন্দ্র, যা ভবিষ্যতে এমন অপরাধ যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।’ —বিবিসি অবলম্বনে










