জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এখন থেকে মিত্রদের দেয়া সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে আনবে। নতুন কৌশলে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা এবং পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তায় গুরুত্ব প্রদানকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। চীনকে আর প্রধান হুমকি বা প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সম্প্রতি প্রকাশিত দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের নিরাপত্তা কৌশলে চীনের হুমকিকেই শীর্ষ প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হতো। নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। এ সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে মিত্র দেশগুলোর ওপর ব্যয়ভার ভাগাভাগি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে; বিশেষ করে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায়।

গত বছরের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের পর ২৫ পৃষ্ঠার এ নতুন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তখন বলা হয়েছিল, ইউরোপ সাংস্কৃতিক ধ্বংসের মুখে এবং সেখানে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। মস্কো তখন প্রতিক্রিয়ায় বলেছিল, এ নীতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারও আগে ২০১৮ সালে পেন্টাগন চীন ও রাশিয়াকে ‘সংশোধনবাদী শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। দুটি দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় চ্যালেঞ্জ বলা হয়েছিল।

নতুন কৌশলে মিত্রদের বড় ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এটি আমাদের দেশের সরাসরি হুমকির প্রতি মনোনিবেশ ও বাস্তবধর্মী কৌশল।’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে নিজ দেশের সুনির্দিষ্ট স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে। পৃথিবীর অন্য প্রান্তের হুমকিকে একইভাবে আমেরিকার জন্যও হুমকি মনে করা হোক—এমনটি আর চায় না দেশটি। এর পরিবর্তে মিত্র দেশগুলো, বিশেষ করে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কম গুরুপূর্ণ হলেও তাদের ওপর আসা গুরুতর হুমকি দেখা দিলে তা মোকাবেলায় নেতৃত্ব দেয়া হবে।

প্রতিবেদনে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে ‘ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলের সদস্যদের জন্য স্থায়ী কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আগের কৌশলের মতো তাইওয়ানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র চায়, কেউ, এমনকি চীনও, আমাদের বা আমাদের মিত্রদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে।’ গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়। এর জবাবে চীন সামরিক মহড়া চালিয়েছিল।

প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়াকে প্রতিরোধের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সীমিত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রধান দায়িত্ব নিতে সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে পেন্টাগন প্রধান ভূখণ্ডে, বিশেষ করে পানামা খাল, আমেরিকান উপসাগর ও গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। প্রতিবেদন আরো বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী অতীত প্রশাসনের ভৌগোলিক মহামারীপূর্ণ কৌশল থেকে মূলত আলাদা। এটিকে ‘উৎকৃষ্টবাদী আদর্শবাদকে বিদায়, কঠোর বাস্তববাদকে স্বাগত’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্যেও নতুন কৌশলের প্রতিফলন দেখা গেছে। এ সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প দাবি করেন, ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্র কখনো কিছু পায়নি এবং কখনো কিছু চাওয়াও হয়নি।