কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। দেশটির পরবর্তী সামরিক প্রধান হিসেবে উঠে আসছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ার লিনের নাম। গত বছর তাকে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ পদে উন্নীত করা হয়, যা তাকে দেশের সামরিক কাঠামোর তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে নিয়ে আসে। এর আগে ৪৯ বছর বয়সে (বর্তমানে ৫৪) কিয়াও সোয়ার লিন মিয়ানমারের সামরিক ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান। সংবাদমাধ্যম দি ইরাওয়ার্দির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে এ সেনা কর্মকর্তা কখনো সম্মুখ সমরে অংশ নেননি। যুদ্ধবিহীন কর্মজীবন এবং দ্রুত পদোন্নতির কারণে বাহিনীর ভেতরে তাকে নিয়ে রয়েছে সমালোচনা ও অনাস্থা। এ পরিস্থিতি বর্মি সামরিক বাহিনীর (তোতমাদো) ভবিষ্যৎ ও দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে তৈরি করেছে গুরুতর প্রশ্ন।

আগামী নির্বাচন ঘিরে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এবং তার ডেপুটি সোয়ে উইন এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মনোনিবেশ করছেন। কিয়াও সোয়ার লিনকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন জান্তাপ্রধান। সম্প্রতি মস্কোয় রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতেও তাকে সঙ্গে নিয়ে যান মিন অং হ্লাইং। ক্ষমতা হস্তান্তরের এ কৌশলকে আগামী ডিসেম্বরে হতে যাওয়া নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে কিয়াও সোয়ার লিনের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ফ্রন্টে দেখা দিচ্ছে অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়। ফলে সম্প্রতি কারেন রাজ্যে জান্তাবিরোধী প্রতিরোধ বাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। কাচিন রাজ্যেও জান্তাবিরোধীদের প্রতিরোধের মুখে দুটি হেলিকপ্টার হারিয়েছে সামরিক বাহিনী। এসব ঘটনাকে কিয়াও সোয়ার লিনের অধীনে সামরিক পরিকল্পনার পদ্ধতিগত ভাঙন এবং নেতৃত্বের অনভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে এরই মধ্যে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে চিন রাজ্য। রাখাইন, মাগওয়ে, বাগো ও আইয়ারওয়াদি অঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছে আরাকান আর্মি। এছাড়া মান্দালয়, সালিন ও সাগাইংয়েও তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে সামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতেও কিয়াও সোয়ার লিনের অধীনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে সামরিক বাহিনী।

ইরাওয়ার্দির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিয়াও সোয়ার লিনের নিয়োগ জান্তাবিরোধী মিলিশিয়াগুলোর জন্য একটি সুযোগ।

কারণ অনভিজ্ঞ এ কর্মকর্তার অধীনে দেশটির সামরিক বাহিনী এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। এখন বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, এ পরিস্থিতি কি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে? আর জান্তা সরকারের কর্তারা কি ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল উত্তরসূরিদের হাতে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিষ্কণ্টক করছেন?