যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দাদের জন্য ফিলিস্তিনিপন্থী আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) খাদ্য ও ত্রাণবাহী জাহাজ ম্যাডলিনকে আটকে দিয়েছে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। সেই সঙ্গে জাহাজে থাকা ১২ জন ক্রুকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতালি থেকে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল জাহাজটি।
আলজাজিরার খবর জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সুইডেনের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং ফ্রান্সের পার্লামেন্টের এমপি রিমা হাসানও রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় রিমা হাসান জানিয়েছেন, রোববার স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ম্যাডলিনকে আটকে দেয় ইসরায়েলের নৌবাহিনী এবং জাহাজের সব ক্রুকে গ্রেফতার করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই পোস্টে জাহাজটিকে ‘সেলফি ইয়ট’ বলে উল্লেখ করেছে তারা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে, ‘তারকাদের বহনকারী সেলফি ইয়টকে নিরাপদে ইসরায়েলের উপকূলের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে।’
ম্যাডলিন জাহাজে মোট ১২ জন মানবাধিকারকর্মী আছেন। তারা হলেন সুইডেনের পরিবেশবিষয়ক আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান, জার্মানির ইয়াসেমিন আচার, ফ্রান্সের ব্যাপতিস্ত আন্দ্রে, ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা, ফ্রান্সের ওমর ফায়াদ, পাস্কাল মৌরিয়েরাস, ইয়ানিস মোহামদি, তুরস্কের সুলাইব ওর্দু, স্পেনের সার্জিও তোরিবিও, নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফন রেনেস ও ফ্রান্সের রিভা ভিয়া।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই পোস্টে সুইডেনের পরিবেশবিষয়ক আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, ‘এ মানবাধিকারকর্মীরা গণমাধ্যমকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। শুধু প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা এ কাজ করেছেন।’
ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনও (এফএফসি) জাহাজটি ইসরায়েলের দখলে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা টেলিগ্রামে লিখেছে, ‘জাহাজের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।’ এছাড়া টেলিগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে ত্রাণ দিতে যাওয়া মানবাধিকারকর্মীদের হাত ওপরের দিকে তুলে বসে থাকতে দেখা গেছে।
ফ্রি ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গাজার মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে যেসব সহায়তা দরকার, সেগুলো বহন করছে জাহাজটি। এর মধ্যে আছে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ময়দা, চাল, শিশুদের দুধ (বেবি ফর্মুলা), ডায়াপার, নারীদের স্যানিটারি পণ্য, পানি বিশুদ্ধকরণ কিট, ক্রাচ ও শিশুদের কৃত্রিম অঙ্গ। তবে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ত্রাণবাহী জাহাজটিকে নিজেদের জলসীমায় প্রবেশ করতে দেবে না।










